ভেসে আসলো আরেক জেলের লাশ

Channel Cox.ComChannel Cox.Com
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০২:১৯ PM, ১২ জুলাই ২০১৯

নিউজ ডেস্ক :
বঙ্গোপসাগরের কক্সবাজার উপকূলে ভোলার এক মাছধরার বোট ডুবির ঘটনায় আরো এক জেলের লাশ ভেসে এসেছে। শুক্রবার (১২ জুলাই) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে সমুদ্র সৈকতের কলাতলী বেলী হ্যাচারি পয়েন্টে লাশটি ভেসে আসে। এই নিয়ে এখন পর্যন্ত ১০ জেলের লাশ পাওয়া গেছে। একই ঘটনায় আরো দু’জেলেকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদ উদ্দীন খন্দকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, বোট ডুবির ঘটনায় গত বুধবার কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের সী-গাল ও সুগন্ধা পয়েন্টে ভেসে আসে ছয় জেলের লাশ। একই সাথে দুর্ঘটনা কবলিত ওই বোটটিসহ আরো দু’জন জেলে মুমূর্ষু অবস্থায় ভেসে আসে। এরপরদিন বৃৃহস্পতিবার পাওয়া যায় আরো তিন লাশ। কক্সবাজার সমিতিপাড়া সমুদ্র পয়েন্টে একজন, মহেশখালী হোয়ানক থেকে একজন এবং রামুর হিমছড়ি থেকে একজনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। সর্বশেষ শুক্রবার (১২ জুলাই) ভেসে আরো একটি লাশ। সব মিলে এখন পর্যন্ত ১০ জেলের লাশ উদ্ধার করা হলো। সবগুলো লাশ বিভৎস্য অবস্থায় ছিলো।

নিহতদের মধে সাতজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন- ভোলার চরফ্যাশনের পূর্ব মাদ্রাসা এলাকার তরিফ মাঝির ছেলে কামাল হোসেন (৩৫), চরফ্যাশনের উত্তর মাদ্রাসা এলাকার নুরু মাঝির ছেলে অলি উল্লাহ (৪০), একই এলাকার ফজু হাওলাদারের ছেলে অজি উল্লাহ (৩৫), মৃত আবদুল হকের ছেলে মো. মাসুদ (৩৮), শহিদুল ইসলামের ছেলে বাবুল মিয়া (৩০) ও নজিব ইসলামের ছেলে জাহাঙ্গীর আলম (৩৬), চরফ্যাশনের রসুলপুর এলাকার আসমান পাটোয়ারীর ছেলে শামসুদ্দিন পাটোয়ারী (৪৫)। অপর তিনজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।’

চিকিৎসাধীন জেলের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, গত ৪ জুলাই (বৃহস্পতিবার) ভোলা চরফ্যাশনের শামরাজ ঘাট থেকে মাছ ধরার উদ্দেশ্যে ট্রলার নিয়ে তিনি সাগরে যান। তারা মোট ১৪ জন ওই ট্রলারে ছিলেন। গত ৬ জুলাই (শনিবার) ভোরে হঠাৎ ঝড়ো হাওয়া ও উত্তাল ঢেউয়ের তোড়ে ট্রলারটি থেকে ছিটকে পড়েন তারা। পরে ট্রলারটিও উল্টে যায়। এরপর কে কোথায় হারিয়ে গেছে তা জানা যায়নি। কিন্তু ট্রলার ধরে রাখেন অনেকে। ঢেউয়ের ধাক্কায় ট্রলারটি বারবার উল্টে যায়। তবুও তারা ট্রলার ধরে রাখার চেষ্টা করেন। ঢেউয়ের ধাক্কায় ট্রলার থেকে ছিটকে পড়ে আবার ধরেন। তবে এই সময় প্লাস্টিকের বেশ কয়েকটি পানির বোতল ড্রামের সঙ্গে বেঁধে ফেলেন তারা। দুয়েকটি বোতলে পানি রেখে বাকি সব বোতলের পানি ফেলে দেন। এতদিন ওই পানি খেয়ে বেঁচে ছিলেন তারা।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদ উদ্দীন খন্দকার বলেন, আরো একটি লাশ ভেসে আসার খবর পেয়ে উদ্ধার করার জন্য পুলিশ ফোর্স পাঠানো হয়েছে। এই নিয়ে এখন পর্যন্ত তিন দিনে ১০ জেলের লাশ উদ্ধার করা হলো

আপনার মতামত লিখুন :