নুসরাতকে পুড়িয়ে মারতে আগের রাতেই কেরোসিন তেল কেনে শাহাদাত

Channel Cox.ComChannel Cox.Com
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৭:৪১ PM, ২৯ এপ্রিল ২০১৯
নুসরাতকে পুড়িয়ে মারতে আগের রাতেই কেরোসিন তেল কেনে শাহাদাত - সংগৃহীত

আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাযিল মাদরাসার আলিম পরীক্ষর্থী নুসরাত জাহান রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার জন্য অধ্যক্ষ সিরাজের ঘনিষ্ঠ সহচর ও মাদরাসা শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি শাহাদাত হোসেন শামীম ঘটনার আগের দিন রাতেই কেরোসিন তেল কিনে রেখেছিলেন। ঘটনার আগের রাতে আধা লিটার কেরোসিন তেল কিনে তা একটি পলিথিনে প্রস্তুত করে রাখে সে।

পরদিন পরিকল্পনা মতো শাহাদাত হোসেন শামীম ওই কেরোসিন তেল নিয়েই মাদরাসায় প্রবেশ করে। নুসরাতকে পুড়িয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে শামীম চরছান্দিয়া গ্রামের বাড়ির পাশের একটি দোকান থেকে কেরোসিন তেল ক্রয় করে।

নুসরাত হত্যার অন্যতম আসামী শাহাদাত হোসেন শামীমকে নিয়ে গত দুই দিনে পিবিআই তদন্ত দল দফায় দফায় সোনাগাজী মাদরাসা ও শামীমের গ্রামের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে বলে জানা যায়। এছাড়াও ঘটনার পর শামীম ও তার সহচরেরা নুসরাতের শরীরে আগুন লাগিয়ে কোন পথে বের হয়েছিলেন এবং ওই দিন কোথায় অবস্থান করছিলেন তাও নিশ্চিত হয়ে বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করছে পিবিআই তদন্ত দল।

উল্লেখ্য, গত ২৭ মার্চ অধ্যক্ষ সিরাজ উদ-দৌলা তার দফতরি নূরুল আমিনের মাধ্যমে মাদরাসা ছাত্রী নুসরাতকে তার অফিস কক্ষে ডেকে নিয়ে যায়। সেখানে পরীক্ষার আধা ঘণ্টা পূর্বে প্রশ্নপত্র দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে নুসরাতের শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দিয়ে শ্লীলতাহানীর চেষ্টা করে অভিযুক্ত অধ্যক্ষ।

এ ঘটনায় মাদরাসা ছাত্রী নুসরাতের মা শিরিন আক্তার বাদী হয়ে অধ্যক্ষকে আসামী করে সোনাগাজী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পরে পুলিশ অধ্যক্ষকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠালে এজাহার নামীয় আসামীরা অধ্যক্ষের নির্দেশে মামলা তুলে নিতে নুসরাতের মা ও তার পরিবারের সদস্যদের হুমকি দিতে থাকে। এক সপ্তাহের মধ্যে যদি মামলা তোলা না হয় তাহলে পরিণাম ভাল হবে না বলে হুমকি দেয় তারা।

এরপর গত ৬ এপ্রিল নুসরাত আলীম পরীক্ষা দেয়ার জন্য পরীক্ষা কেন্দ্রের ৮নং কক্ষে প্রবেশ করলে তার এক সহপাঠী দিয়ে তার বান্ধবী নিশাতকে মারধর করা হচ্ছে বলে মাদরাসা ভবনের ছাদে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চোখে চশমা, হাতে মোজা এবং বোরকা পরিহিত ৪জন দুর্বৃত্ত নুসরাতকে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা তুলে নিতে চাপ প্রয়োগ করে।

এতে নুসরাত রাজী না হলে একপর্যায়ে তাকে মারধর করে ওড়না দিয়ে হাত বেধে গায়ে কেরোসিন তেল ঢেলে হত্যার উদ্দেশ্যে আগুন ধরিয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা।

নিহত নুসরাত সোনাগাজী পৌর এলাকার উত্তর চরচান্দিয়া গ্রামের মাও. একেএম মুসা মানিকের কন্যা। তারা বাবাও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার একটি মাদরাসার শিক্ষক।

নুসরাত হত্যাকাণ্ডের ঘটনাস্থলে মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান

এদিকে মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর একেএম সাইফ উল্যাহ বলেছেন, সারাদেশের মাদরাসা পরিচালনা কমিটিতে যে নৈরাজ্য চলছে তা দূর করার এখনই মোক্ষম সময়। তিনি রোববার সোনাগাজীতে মাদরাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনাস্থল সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদরাসা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের একথা বলেন।

সাংবাদিকদের সাথে কথা বলছেন মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর একেএম সাইফ উল্যাহ

 

এ সময় তিনি বলেন, ভবিষ্যতে মাদরাসা পরিচালনা কমিটিতে কোনো অশিক্ষিত অযোগ্য লোকের ঠাঁই হবে না। আমি বিশ্বাস করি এ ধরণের নির্মম ঘটনার সঙ্গে যারাই জড়িত তাদের সর্ব্বোচ শাস্তি হবে। আমরা ইতোমধ্যে সারাদেশে ৫ সদস্য বিশিষ্ট যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটি গঠনের কাজ শুরু করেছি।

তিনি আরো বলেন, নুসরাতের যৌন হয়রানি কারী শিক্ষক সিরাজ উদ দৌলার মতো চরিত্রের শিক্ষকদের ব্যপারেও আমরা খোঁজখবর নিচ্ছি। ভবিষ্যতে কোনো শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থী নিপিড়নের প্রমাণ পাওয়া গেলে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তিনি বলেন, নুসরাতের উপর বর্বরতার ঘটনায় অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলা ও ইংরেজি শিক্ষক আবছার উদ্দিনের এমপিও স্থগিত করা হয়েছে।

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কাজী সলিমুল্লাহ, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ নূরুল আমিন, পরীক্ষা কেন্দ্রের সচিব নূরুল আফছার ফারুকী ও মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাও. মোঃ হোসাইন।

আপনার মতামত লিখুন :