হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সংগঠন ইসকনের উদ্দ্যেশ্যে কি!

Channel Cox.ComChannel Cox.Com
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৭:২২ PM, ১৮ জুলাই ২০১৯

 

নিজস্ব প্রতিবেদক

সকন নামে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের একটি সংগঠন চট্টগ্রামের স্কুলে স্কুলে প্রসাদ খাইয়ে শিক্ষার্থীদের ‘হরে কৃষ্ণ হরে রাম’ মন্ত্র পাঠ করানোর বিষয়টি হাইকোর্টের নজরে আনা হয়েছে।

আইনজীবী তৈমুর আলম খন্দকার বিভিন্ন দৈনিকে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন নজরে আনার পর আদালত এ মন্তব্য করেন। তৈমুর আলম এসময় প্রতিবেদনটি পড়ে শোনান এবং বলেন, এক ধর্মের রীতি-নীতি অন্য ধর্মের মানুষের ওপরে চাপিয়ে দেওয়া আমাদের সংবিধান সমর্থন করে না।

তখন হাইকোর্ট বলেন, ‘একটি এনজিও কোনও স্কুলে খাবার বিতরণ করতে পারে। কিন্তু জোর করে বা প্রলোভন দেখিয়ে যদি প্রসাদ খাইয়ে মন্ত্র পাঠ করিয়ে থাকে, তবে সেটা অন্যায়।’

হাইকোর্ট আরও বলেন, ‘আমরা কোনও ধর্মীয় বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে চাই না। এর আগেও শবে বরাত নিয়ে আমরা হস্তক্ষেপ করিনি। আপনারা (আইনজীবীরা) যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ দিন। স্কুলের ম্যানেজিং কমিটি আছে, স্থানীয় প্রশাসন আছে, তাদেরকে বলুন।’

এ পর্যায়ে আইনজীবী তৈমুর আলম খন্দকার বলেন, ‘আদালত আমাদের শেষ আশ্রয়স্থল। আমরা আগে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে জানাবো। সেখানে প্রতিকার না পেলে আবারও আপনাদের (আদালত) কাছে আসতে হবে।’

প্রসঙ্গত, দৈনিক ইনকিলাবে ১৮ জুলাই ‘প্রসাদ খাইয়ে স্কুলে শিক্ষার্থীদের হরে কৃষ্ণ হরে রাম মন্ত্র পাঠ’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এতে বলা হয়েছে, বিভিন্ন স্কুলে শিক্ষার্থীদের প্রসাদ বিতরণ করেছে আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ- ইসকন। রথযাত্রা উপলক্ষে সপ্তাহব্যাপী ‘ফুড ফর লাইফ’ কর্মসূচির আড়ালে গত ১১ জুলাই থেকে নগরীর প্রায় ৩০টি স্কুলে শিক্ষার্থীদের মাঝে প্রসাদ বিতরণ করে। ইসকনকর্মীদের শেখানো মতে, শিক্ষার্থীরা ‘হরে কৃষ্ণ হরে রাম’ মন্ত্র পাঠ করে এ প্রসাদ গ্রহণ করে।

শ্লোক-মন্ত্র পাঠের মাধ্যমে মুসলিমসহ বিভিন্ন ধর্মের শিক্ষার্থীদের প্রসাদ গ্রহণে উৎসাহিত করায় অনেক শিক্ষার্থী তা গ্রহণে অস্বীকৃতি জানায়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের নজিরবিহীন কর্মসূচিতে বিক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে এ ঘটনায় বিস্ময় ও নিন্দা প্রকাশ করে এর সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন :