শুনানিতে কাঁদলেন রেণুর আইনজীবীরা

Channel Cox.ComChannel Cox.Com
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ১০:০৩ PM, ২৪ জুলাই ২০১৯

রাজধানীর উত্তর বাড্ডায় তাছলিমা বেগম রেণুকে ছেলেধরা সন্দেহে পিটিয়ে হত্যা মামলার শুনানিতে কেঁদেছেন তার আইনজীবীরা। বুধবার (২৪ জুলাই) ঢাকা মহানগর হাকিম মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনের আদালতে এ শুনানি হয়।

বাদী পক্ষের আইনজীবী মাইদুল ইসলাম পলক ও জাহিদুল ইসলামসহ অনেকে শুনানিতে অংশ নেন। তারা বলেন, একজন নারীকে নৃশংসভাবে পিটিয়ে হত্যা করে এ আসামি (ইব্রাহিম ওরফে হৃদয় হোসেন মোল্লা)। ভিডিওতে দেখা গেছে, প্রকাশ্যে মধ্যযুগীয় কায়দায় ওই নারীকে হত্যা করা হয়। এ কথা বলে আইনজীবীরা কেঁদে ওঠেন।

আইনজীবীরা বলেন, ‘স্যার মাথাকাটা, ছেলেধরা; এটা শুধু গুজব নয়। এটা একটি কুচক্রী মহলের কাজ। এরা একটা গ্যাংয়ের সদস্য। এ আসামিকে রিমান্ডে নিলেই সব তথ্য উদ্ঘাটন হবে।’ এ সময় উপস্থিত অর্ধশতাধিক আইনজীবী আসামির সর্বোচ্চ রিমান্ড দাবি করেন।

এরপর মামলার বাদী নিহতের ভাগ্নে আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে বলেন, ‘একটি মানুষকে কীভাবে নৃশংসভাবে হত্যা করা হলো, সারাদেশের মানুষ ভিডিওটি দেখেছেন। হৃদয় যখন দেখছে রেণুর হাতের একটি আঙুল নড়ছে তথন ওই আঙুলে লাঠি দিয়ে আঘাত করেছে। যখন দেখেছে পা নড়ছে, তখন লাঠি দিয়ে পায়ে আঘাত করেছে। মৃত্যু নিশ্চিত করে তারপর সে ক্ষান্ত হয়।’

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা (জিআরও) লিয়াকত আলী আসামির রিমান্ড দাবি করে বলেন, ‘আসামি হলো মাস্টারমাইন্ড। অন্য আসামিদের খুঁজে বের করতে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে সর্বোচ্চ রিমান্ড দাবি করছি।’

শুনানি শেষে বিচারক আসামিকে জিজ্ঞেস করেন তার কোনও আইনজীবী আছে কিনা? হৃদয় জানায় তার কোনও আইনজীবী নেই। তার মা-বাবাও নেই। এরপর বিচারক আবারও আসামিকে ঘটনার বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে হৃদয় বলে, ‘‘স্যার আমি সবজি বিক্রি করি। একজন মহিলা আমাকে বলে, ‘ ছেলেধরা এক মহিলা ধরা পড়ছে।’ তখন আমি গিয়ে দেখি ওই মহিলাকে একটা বাসায় তালাবদ্ধ করে রেখেছে। ওইখানে অন্য লোকেরা আগেই এ মহিলাকে মেরে রাস্তায় ফেলে দেয়। এরপর আমি যাই….।’’

বিচারক শুনানি শেষে প্রধান আসামি ইব্রাহিম ওরফে হৃদয় হোসেন মোল্লার ৫ দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন। আদালতে আসামিকে হাজির করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক আব্দুর রাজ্জাক।

এর আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের ভুলতা এলাকায় অভিযান চালিয়ে হৃদয়কে গ্রেফতার করে ডিবি পূর্ব বিভাগ। গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মাহবুব আলম।

তিনি জানান, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে নারায়ণগঞ্জের ভুলতা এলাকায় অভিযান চালিয়ে হৃদয়কে গ্রেফতার করেছে ডিবি পুলিশের পূর্ব বিভাগের একটি টিম।

বাড্ডা থানা পুলিশ আদালতকে প্রতিবেদন দিয়ে বলছে, শনিবার সকালে বাড্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আসেন তাসলিমা বেগম। তার দুই সন্তানের ভর্তির বিষয়ে খোঁজ নিতে গেলে স্কুলের গেটে কয়েকজন নারী তাসলিমার নাম-পরিচয় জানতে চান। পরে লোকজন তাসলিমাকে স্কুলের প্রধান শিক্ষকের কক্ষে নেন।

কিছুক্ষণের মধ্যে বাইরে কয়েকশ লোক একত্র হয়ে তাসলিমাকে প্রধান শিক্ষকের কক্ষ থেকে বের করে নিয়ে যায়। স্কুলের ফাঁকা জায়গায় এলোপাতাড়ি মারপিট করে গুরুতর জখম করে। পরে উদ্ধার করে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসাধীন তিনি মারা যান। এ ঘটনায় তাসলিমার বোনের ছেলে সৈয়দ নাসিরউদ্দিন বাদী হয়ে বাড্ডা থানায় অজ্ঞাতনামা চারশ থেকে পাঁচশ মানুষকে আসামি করে মামলা করেন।

আপনার মতামত লিখুন :