• বৃহস্পতিবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২১, ১১:০৯ পূর্বাহ্ন

টেকনাফে প্রেসক্লাব নির্মাণে বদির বাধা : প্রকৌশলী পেটানোর অভিযোগ

Md. Nazim Uddin
আপডেট : সোমবার, ২৩ নভেম্বর, ২০২০

নিজস্ব প্রতিবেদক:

কক্সবাজার-৪ আসনের সরকার দলীয় এমপি থাকাকালীন সরকারি কর্মকর্তা, রাজনীতিবিদ শিক্ষকসহ বিভিন্ন জনের গায়ে হাত তুলে এবং নানা অপকর্মে দেশব্যাপী পরিচিতি পেয়েছিলেন টেকনাফের আবদুর রহমান বদি। সবচেয়ে সমালোচিত হন ইয়াবা গডফাদার হিসেবে। এসব কারণে হারিয়েছেন দলের মনোনয়ন।

তবে হাতছাড়া করেননি এমপিত্বের স্বাদ। স্ত্রী শাহিনা চৌধুরীকে নৌকা প্রতীকে এমপি বানিয়ে আড়ালে থেকে ক্ষমতা তিনিই (বদি) ব্যবহার করছেন এমন অভিযোগ ১১তম সংসদ নির্বাচনের পর থেকেই।

এবার তারই প্রমাণ পাওয়া গেলো রোববার (২২ নভেম্বর) দুপুরে। স্ত্রী এমপি শাহিনা চৌধুরীকে সঙ্গে নিয়ে টেকনাফ প্রেসক্লাবের ভবন নির্মাণ কাজে ফিল্মি স্টাইলে বাধা দিয়ে কাজ বন্ধ দেন বদি।

অভিযোগ উঠেছে, টেকনাফ প্রেসক্লাব ভবন নির্মাণে কর্তব্যরত এনজিও ফোরামের প্রকৌশলী মোঃ নাঈমকে পিঠিয়ে শ্রমিকদের তাড়িয়ে দিয়ে নির্মাণ কাজ বন্ধে করে দিয়েছেন সাবেক এই দাপটে এমপি।

স্থানীয় সাংবাদিকরা জানান, ১৯৯৬ সালে আবেদনের প্রেক্ষিতে টেকনাফ উপজেলা প্রশাসন রেজুলেশন একটি পুরনো ভবন টেকনাফ প্রেসক্লাবের নামে হস্তান্তর করেন। সাম্প্রতিক ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় সেটি ভেঙে দাতা সংস্থা ইউএনএইচসিআরের সহযোগিতায় নতুন একটি ভবনের নির্মাধ কাজ চলছে। যা এখন প্রায় শেষ পর্যায়ে।

তবে কোন কারন ছাড়াই রবিবার সকাল হঠাৎ সাবেক এমপি বদি নির্মাণাধীন প্রেসক্লাব ভবনের দেখভাল থাকা এনজিও ফোরামের ইঞ্জিনিয়ার নাঈমকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং মারধর শুরু করেন।

এনজিও ফোরামের প্রকৌশলী মোঃ নাইম বলেন, নির্মাণের কাজ চলাকালীন হঠাৎ নির্মাণাধীন প্রেসক্লাবের ভবনের সামনে একটা গাড়ি এসে থামে। এবং গাড়ির ভিতর থেকে আমাকে ডাকা হয়।

গাড়ির পাশে যেতে গাড়ির ভিতরে বসে থাকা সাবেক এমপি বদি আমার শার্টের কলার চেপে ধরেন। এবং প্রেসক্লাব নির্মাণের অনুমতি কে দিয়েছে বলে পর পর দুই তিনটি ঘুষি মারেন। মারধরের পর তুই এখানে থাক আমি আবার আসতেছি তিনি আবদু রহমান বদি ঘটনস্থল ত্যাগ করেন।

সাংবাদিকরা জানান, প্রকৌশলী নাইমকে মারধরের পর পূনরায় প্রেসক্লাব ভবনে আসেন বদি। এর পর প্রেসক্লাবের নির্মাণাধীন ব্যানার টেনে ছিড়ে ফেলে দেন। এবং প্রেসক্লাবের নির্মাণ ভবন ভেঙে ফেলার হুমকি দিয়ে যান।

এদিকে এ ঘটনার পর টেকনাফের কর্মরত সাংবাদিক সমাজ ফুঁসে উঠেছে। সাবেক এমপির বদির এধরনের কাণ্ড মেনে নেয়া হবে না উল্লেখ করে এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছেন, টেকনাফ প্রেস ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আলহাজ্ব মো:ছৈয়দ হোছাইন, সাবেক সভাপতি জাবেদ ইকবাল চৌধুরী, সাবেক সহ-সভাপতি মোঃ আশেক উল্লাহ ফারুকী, সাবেক সভাপতি-কায়ছার হামিদ, সাবেক সহ-সভাপতি মোঃ তাহের নাঈম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুরুল করিম রাসেল প্রমুখ।

এ বিষয়ে জানতে সাবেক এমপি আবদু রহমান বদির ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিক রিং দেওয়ার পরেও সাড়া পাওয়া না যাওয়ায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান বলেন, প্রেসক্লাবের ভবন নির্মাণে বাঁধা ও ইঞ্জিনিয়ারকে মারধর করার বিষয়টি আমিও শুনেছি। তবে এ বিষয়ে এখনো পর্যন্ত কেউ থানায় অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলেই আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।

এর আগেও এমপি থাকাকালীন গত ২০১১ সালে কক্সবাজার সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবদুর রহমানকে টেকনাফ পৌর নির্বাচনে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে দায়িত্ব পালনের সময় শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন বদি।

একইভাবে ২০১৫ সালে টেকনাফ উখিয়া উপজেলা প্রশাসনের মাসিক উন্নয়ন সভা চলাকালে উখিয়া উপজেলা পরিষদের সহকারী প্রকৌশলী মোস্তফা মিনহাজকে মারধর করেন। এছাড়াও স্কুল শিক্ষক, ব্যাংকারসহ অনেই সাবেক এমপি বদির হাতে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ আছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

20 − 9 =

আরো বিভন্ন বিভাগের নিউজ