নৌসম্পদকে কেন্দ্র করে এগিয়ে যাচ্ছে দেশের জাহাজ নির্মাণ শিল্প

Channel Cox.ComChannel Cox.Com
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৭:০০ PM, ২৬ জুলাই ২০১৯

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বর্তমানে জাহাজ নির্মাণ বাংলাদেশের একটি সম্ভাবনাময় এবং ক্রমবিকাশমান শিল্প। নদী পথেই দেশের অভ্যন্তরীণ বাণিজ্যের সিংহভাগ প্রবাহিত হয়। নয় বছর আগেও দেশে রেজিস্ট্রিকৃত অভ্যন্তরীণ নৌযানের সংখ্যা ছিল প্রায় ছয় হাজার। কিন্তু দিন বদলের পালে হাওয়া লেগেছে দেশের জাহাজ শিল্পেও। বর্তমানে রেজিস্ট্রিকৃত নৌ পরিবহনের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ হাজার। যা আগের তুলনায় দ্বিগুণ বেশি। প্রায় ১১.৪৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ৫৩টি নৌ রুটে মোট ৩২ কোটি ৭৬ লক্ষ ঘনমিটার ক্যাপিটাল ড্রেজিং প্রকল্পের আওতায় বিগত নয় বছরে এক হাজার ১০০ কিলোমিটার নৌপথের নাব্যতা উন্নয়ন করা হয়েছে। বাংলাদেশ সরকার নদীসমূহের নাব্যতা ফিরিয়ে আনার জন্য ১৫ বছরের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী কাজ করছে।

জাহাজ নির্মাণ শিল্প সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তৈরি পোশাক শিল্পের মতো আরো একটি প্রধান রপ্তানি খাতে পরিণত হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন অংশে গুণগত মানসম্মত পণ্য রপ্তানির মাধ্যমে গত পাঁচ বছরে বাংলাদেশের শিপবিল্ডিং ইন্ডাস্ট্রি মোট ২৭টি জাহাজ রপ্তানির মাধ্যমে ১৫০ মিলিয়ন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা আয় করেছে।

বাংলাদেশের আগে চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ জাহাজ নির্মাণশিল্প সুরক্ষা দিতে নানা পদক্ষেপ নেয়। যেমন ভারত সরকার ২০১৬ সালের ১ এপ্রিল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত জাহাজের রফতানি মূল্যের ওপর ২০ শতাংশ হারে নগদ সহায়তা অনুমোদন করেছে। চীনের উদ্যোক্তারা স্বল্প সুদে ঋণের পাশাপাশি নিজেদের কাঁচামাল ব্যবহারে ভর্তুকি পাচ্ছে। মন্দা থেকে এই ভারি শিল্প খাতকে সুরক্ষা দিতে এসব উদ্যোগ নেয়া হয় দেশগুলোতে। বর্তমানে এই শিল্পে প্রায় ৫০ হাজার দক্ষ এবং ১ লাখ আধাদক্ষ কর্মী নিয়োজিত রয়েছে। দেশে আনুমানিক ১০ হাজার টন ক্ষমতার আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন জাহাজ তৈরির ক্ষমতাসম্পন্ন প্রায় ১১টি স্থানীয় শিপইয়ার্ড রয়েছে। নৌবাহিনী কর্তৃক পরিচালিত দেশের নারায়ণগঞ্জ, খুলনা শিপইয়ার্ডে এরই মধ্যে নির্মাণ করা হয়েছে যুদ্ধ জাহাজ। চট্টগ্রাম ড্রাইডকেও যুদ্ধ জাহাজ নির্মাণের পরিকল্পনা করছে সরকার।

রফতানির নতুন সম্ভাবনার দিকে এগিয়ে চলছে বাংলাদেশের জাহাজ নির্মাণ শিল্প। সরকারের যথাযথ পৃষ্ঠপোষকতা এবং পুঁজি বিনিয়োগকারীরা এ খাতে মনোযোগী হলে আগামীতে বাংলাদেশে অর্থনৈতিক খাতে নতুন এক বিপ্লবের সূচনা ঘটবে। প্রতিবছর আয় হবে কয়েক হাজার কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা। এ খাতে কর্মসংস্থান হবে লক্ষাধিক দক্ষ শ্রমিকের। শুধু তাই নয়, জাহাজ নির্মাণে বাংলাদেশ পরিপূর্ণ সুযোগ পেলে এ খাতটি দেশের বিদ্যমান সব ক’টি খাতকে ছাড়িয়ে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের প্রথম স্থানে চলে যাবে। সরকারি-বেসরকারি এবং জাহাজ নির্মাণ খাতে পুঁজি বিনিয়োগকারী সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানও এ খাতের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। জাহাজ নির্মাণ শিল্পে বাংলাদেশের গর্বিত অতীত আছে। বলা যায়, জাহাজ নির্মাণে বাংলাদেশ আবার সেই গৌরবোজ্জ্বল অতীত ফিরিয়ে আনার পথে। এদেশে নির্মিত জাহাজ বেশ উন্নত বলে ইউরোপে প্রশংসিত হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন :