• বৃহস্পতিবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২১, ১১:২৭ পূর্বাহ্ন

নামেই টার্মিনাল, বাস থাকে রাস্তায়

Md. Nazim Uddin
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০২০

শাহীন মাহমুদ রাসেল:

কক্সবাজার শহরের বাস টার্মিনালটা ঘিরে সন্নিহিত এলাকার সড়কের ওপর এলোপাতাড়ি গাড়ি রাখার প্রবনতা বেড়েই চলেছে। টার্মিনালের ভেতরে যত গাড়ি রাখা হয় তার চেয়ে বেশি থাকে রাস্তায়।

টার্মিনালে প্রবেশ এবং বের হওয়ার ক্ষেত্রেও চলছে চরম বিশৃংখলা। ফলে লিংকরোড থেকে শহরের কলাতলী পর্যন্ত সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট, জনসাধারনের ভোগান্তি চরমে পৌছাচ্ছে। সড়কে যাতায়াতেও দুর্ভোগ বাড়ছে।

শুধু তাই নয়, এইসব এলাকা জুড়েই যত্রতত্র এখন দূরপাল্লার বাস কাউন্টারের ছড়াছড়ি। লিংকরোড, বাস টার্মিনাল, ডলফিনমোড ও কলাতলী সড়কসহ বিভিন্ন স্থানে রয়েছে দূরপাল্লার বাস কাউন্টার। অধিকাংশ কাউন্টারের সামনে থেকে যাত্রী তুলছে বাস। এতে পথ সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে। ভয়াবহ ভোগান্তিতে পড়ছে শহরবাসী।

এ নিয়ে ট্রাফিক বিভাগের কোন উদ্যোগ বা নির্দেশনা কাজে আসছে না। প্রশাসন একাধিক বার জরিমানা করলেও ফলাফল শূন্য। ট্রাফিক কর্তৃপক্ষ ও বাস মালিকরা বলছেন, টার্মিনালের ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত বাস বৃদ্ধির কারনে রাস্তায় রাখতে বাধ্য হচ্ছে চালকরা। আবার অনেক দুরপাল্লার চালক টার্মিনালে প্রবেশে গাড়ির লম্বা লাইন থাকলে রাস্তার পাশেই গাড়ি রেখে বিশ্রামে চলে যান।

জানা গেছে, বাস টার্মিনালের ধারণক্ষমতার ৪ গুণ বেশি বাস রাখা হয়। অতিরিক্ত বাস থাকায় প্রধান সড়কসহ আশপাশের রাস্তাগুলোয় পার্কিং করা হচ্ছে দূরপাল্লার এসব যানবাহন। এতে লিংকরোড থেকে জেল গেইট পর্যন্ত সড়কে সৃষ্টি হচ্ছে ভয়াবহ যানজট। দূরপাল্লার এসব পরিবহনের কারণে উপজেলা গেইট থেকে বিডি আর ক্যাম্প পর্যন্ত শহরের প্রধান সড়কের যানজট ক্রমেই বাড়ছে। সড়কটির কোনো কোনো অংশে দীর্ঘ যানজট নিত্যদিনের সঙ্গী। এ সড়কের ১২ থেকে ১৫ শতাংশ দখলে রাখছে টার্মিনালের গাড়ি।

বিভিন্ন উপজেলার মিনিবাস বাসগুলো মূলত হর্টিকালচার অফিসের সামনে থেকে মহাসড়কে যাচ্ছে। টার্মিনালটিতে আড়াইশ’র মতো বাস রাখা যায়। ধারণক্ষমতা না থাকায় টার্মিনালের সামনে লারপাড়া সড়ক ও আশপাশের রাস্তায় পার্কিং করা হচ্ছে শত শত বাস।

দেখা যায়, টার্মিনালের বাইরেও অবাধে ওঠানামা করছেন দূরপাল্লার যাত্রীরা। ট্রাফিক বিভাগ বলছে, টার্মিনালে তুলনামূলক জায়গা খুবই কম। একটি গাড়ি বের হলে ১০টি গাড়ি প্রবেশের জন্য অপেক্ষা করে। সড়কে যানজট কমাতে টার্মিনালে বাস এক লাইনে প্রবেশের নিয়ম করে দেওয়া হলেও মানছে না বাসচালক ও হেলপাররা। কিছু সময় একাধিক লাইন হওয়ায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। কিছু কিছু বাস লাইন ছাড়া এসে টার্মিনালে প্রবেশের চেষ্টা করে। এতে যানজট আরও বেড়ে যায়।

একজন ড্রাইভার বলেন, টার্মিনালে প্রবেশের জন্য দীর্ঘলাইন ধরে থাকতে হয়। দু’শ থেকে তিনশ’ কিলোমিটার জার্নি করে কোনো চালকই টার্মিনালে প্রবেশের জন্য বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে চায় না। বহুদূর থেকে এসে বেশিক্ষণ রাস্তায় থাকা যায় না।

এদিকে টার্মিনালের পাশে ও ভেতর বাসের কাউন্টার ও কাউন্টারসংলগ্ন খোলা জায়গায় গাড়ি রাখার ব্যবস্থা থাকলেও বাসগুলো থাকে মূল সড়কের ওপর। ঝুঁকি নিয়ে যাত্রীরাও সেই সড়ক থেকেই গাড়িতে ওঠেন। যাত্রী পাওয়ার জন্য সবগুলো পরিবহন কর্তৃপক্ষ নিয়ম অমান্য করে টার্মিনালের বাইরে একাধিক কাউন্টার দিয়েছে। সেখান থেকেই বিক্রি করছে টিকিট ও গাড়িতে তুলছে যাত্রী।

কক্সবাজার কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল জেলার জনসাধারণের সড়কপথের একমাত্র ভরসা। এখান থেকে প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫ হাজার মানুষ ও পাঁচ শ’র মতো গাড়ি বিভিন্ন জেলায় ছেড়ে যায়। এ টার্মিনালটি কোটি টাকা ব্যয়ে সংস্কার করা হলেও নানা সমস্যায় জর্জরিত।

বাস পরিবহন মালিক সমিতির এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, যানজটের ব্যাপারে আমরা আমাদের দোষ স্বীকার করছি। সেই সঙ্গে পুলিশকেও তাদের দোষ স্বীকার করতে হবে। টার্মিনালের বাইরে শত-শত বাস দাঁড়িয়ে থাকে। সড়কের পাশেই গড়ে তোলা হয়েছে এসব বাস কোম্পানির কাউন্টার। এ কারণে যাত্রীরা টার্মিনালের ভেতর যেতে চান না।

ঢাকা-চট্টগ্রামসহ অন্যান্য প্রায় সব বাস এখান থেকে চলাচল করে। এখানে কয়েকশ বাস রাখার ধারণ ক্ষমতা থাকলেও চলাচল করে হাজারেরও বেশি গাড়ি। ফলে এই টার্মিনালের বাস কলাতলী পর্যন্ত সড়কের ওপর এলোপাতাড়িভাবে রাখা হচ্ছে। রাস্তার পাশে কয়েকটি পরিবহনের ডিপো থাকলেও তাদের বেশিরভাগ গাড়ি থাকতে দেখা যায় সড়কের পাশে।

বাস-টার্মিনাল থেকে টেকনাফ, চকরিয়া, ঈদগাঁওসহ বিভিন্ন এলাকার মিনিবাস চলে। শহরের প্রবেশমুখের লিংকরোড বাস কাউন্টারের জন্য জায়গা খুবই কম। ফলে অধিকাংশ বাস থাকে রাস্তায়। এতে করে বিশাল এলাকাজুড়ে যানজট চলে আসছে দীর্ঘ দিন যাবত। এর কোন সুরাহা হচ্ছে না।

কক্সবাজার ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক আমজাদ হোসেন। তিনি বলেন, বাস টার্মিনালের ভেতরের সড়কগুলো ভাঙ্গাচোরা তাই অধিকাংশ গাড়ী প্রবেশ করতে পারছেন না। সড়কগুলো মেরামত করা হলে সব গাড়ি টার্মিনালের ভেতরে ঢুকানো হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

4 + 11 =

আরো বিভন্ন বিভাগের নিউজ