• শুক্রবার, ০৫ মার্চ ২০২১, ০৪:০২ পূর্বাহ্ন

প্রধানমন্ত্রী সমীপে খোলা চিঠি – আনম রফিকুর রশীদ

আনম রফিকুর রশীদ
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০২০

মুজিববর্ষে কক্সবাজার জেলায় শতাধিক পরিবারকে গৃহহীন করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। দুর্নীতির দায়ে ভূমি অধিগ্রহণ মামলায় জব্দকৃত শত শত কোটি টাকা থেকে অথবা অন্যকোনো বিশেষ উপায়ে তাদেরকে পুনর্বাসিত করা হোক!
বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা রূপরেখা বাস্তবায়নের অগ্রদূত মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সমীপে ক্ষতিগ্রস্ত গৃহহীন পরিবারের পক্ষ থেকে আবেদন।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী
আপনি শ্রেষ্ঠ বাঙালির শ্রেষ্ঠ কন্যা শ্রেষ্ঠ জননী। দেশহীন রোহিঙ্গাদেরকে দুহাত বাড়িয়ে বক্ষে ধারণ করেছেন, মায়ের আদরে। বাসস্থানের ব্যবস্থা করেছেন ভাসানচরে। কক্সবাজার বিমানবন্দর সম্প্রসারণকল্পে সৈকতবাসীদের জন্যে ভবন নির্মাণ করেছেন খুরুশকুলে। আমাদের বিশ্বাস, আমরাও হব না, আপনার মহানুভবতা থাকে বঞ্চিত।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী
হিংসুকেরা আপনাকে ভুল ইনফরমেশন দিতে পারে, হয়তো বলবে, তারা ক্ষতিপূরণের টাকা থেকে নিজেদের ঘরবাড়ি নিজেরাই তৈরি করে নেবে।
আপনাকে সবিনয়ে অবহিত করা হচ্ছে যে, আপনার নাগরিক বান্ধব সরকারের আইন অনুযায়ী, আমরা ভূমির ক্ষতিপূরণ মৌজা মূল্যের তিনগুণ পাওয়ার দাবিদার। কিন্তু ছলচাতুরি অজুহাতে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে, মাত্র দেড়গুণ। নির্মম বাস্তবতা হচ্ছে, এই পরিমাণ টাকায় কক্সবাজারের কোথাও সমপরিমাণ ভিটেজমি পাওয়া যায় না। বিশ্বের অন্যতম এই পর্যটন জেলায় ভিটেজমির দাম মৌজামূল্যের অনেক অনেক গুণ বেশি।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী
আমাদের দাবির গ্রহণযোগ্যতা প্রমাণের জন্য অপ্রিয় সত্য কথাটির একটু ইঙ্গিত না দিলে হয় না, “কাজির গরু গোয়ালে আছে কেতাবে নেই” – ক্ষতিপূরণের টাকা পাওয়ার এমাউন্টও সেরকম। হিসাবে আছে সত্যি, বাস্তবতা সাত পাঁচে চৌদ্দ। কমিশন উপহার উপরি প্রদান শেষে শূন্য আবদুল্লাহ। তাছাড়া, ০৭ ধারার ভুল নোটিশ, অভিযোগ ও মামলার পেছনে দৌড়তে দৌড়তে অনেকেই নিঃস্ব। রাস্তা হয়ে গেছে ঘরের উপর, টাকাপয়সার খবর নেই।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী
চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় একটি প্রবাদ আছে, ভালার নাম হাঁলাও করে অর্থাৎ ভালো কাজ করলে দুশমনও সুনাম করে।
স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব, কক্সবাজারের অভিভাবক জনাব হেলালুদ্দীন আহমদ ও কক্সবাজারের জননন্দিত জেলা প্রশাসক জনাব মোঃ কামাল হোসেন, কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান লে কর্নেল (অবঃ) ফোরকান আহমদের বহুমুখী কর্মপরিকল্পনা ও ঐক্যবদ্ধ সমন্বয়করণের ফলে কক্সবাজার ফিরে পেতে যাচ্ছে হারানো স্বাস্থ্যকর গৌরব। ভিক্ষুকমুক্ত হচ্ছে কক্সবাজার, পত্রিকার হকার পেয়েছে টমটম, জুতোর মুছি পেয়েছে দোকান, ইট ভাঙার শ্রমিক পাচ্ছে ঘর, আরও কত কী!
জনগণের বিশ্বাস, আপনার নির্দেশনা পেলে, উনারা কক্সবাজার জেলায় রেলওয়ে কর্তৃক ভূমি অধিগ্রহণের কারণে গৃহহীনদের কল্যাণে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নেবেন।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী
আমাদের ভিটে বাড়ির উপর দিয়ে ট্রেন চলাচল করবে, রেললাইনের পাশে মাটিতে বসে ঘুমপাড়ানি ছড়া কাটবেন, মা,
‌”ছেলে ঘুমালো পাড়া জোড়ালো ট্রেন এলো দেশে,
ভিটে গেলো ঘর গেলো শুতে দেবো কিসে” – এমন দৃশ্যের নির্মম পুনরাবৃত্তি জাতির জন্যে খুবই লজ্জার ব্যাপার হবে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী
আপনি ঘোষণা করেছেন, মুজিববর্ষে কেউ গৃহহীন থাকবে না। গৃহহীনরা আপনার উপহার পাচ্ছেন দেশজুড়ে।
আপনার করপল্লাবে তিনটি বিকল্প প্রস্তাব উপস্থাপন করছি-
ক, দুর্নীতির দায়ে ভূমি অধিগ্রহণ মামলায় জব্দকৃত শত শত কোটি টাকা থেকে
খ, বাংলাদেশ রেলওয়ের নিজস্ব ভূমি বা অর্থ থেকে
গ, মুজিববর্ষে প্রধানমন্ত্রীর উপহার থেকে
রেলওয়ের ভূমি অধিগ্রহণের কারণে কক্সবাজার জেলার গৃহহীন পরিবারগুলোকে ভিটেবাড়ি প্রদানের ব্যবস্থা করা হোক ‌।

পরিশেষে আপনার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করছি। এবং আপনার সম্মানে আমার প্রকাশিত কবিতার বই থেকে একটি কবিতা সংযোজিত হলো।

শ্রেষ্ঠ জননী

এপারের ভালোবাসা ওপারে, ওপারের ভালোবাসা এপারে,
দুকূলবাসীর চোখে এক নদী জল।
দাতাদের কানাকানি, বিশ্বব্যাংকের চোখ রাঙানি, চরণ তলে পিষে হাত বাড়ালেন মা।
মাথার উপর গজিয়ে ওঠে পদ্মা সেতু্র খুঁটি।
মমতাময়ীর আদর পেয়ে দুকূল জুড়ে কোলাহল; সন্তানের উল্লাস দেখে মায়ের চোখে আনন্দের ঢল।
যেখানে কেউ নেই, সেখানে উনি;
শ্রেষ্ঠ বাঙালির শ্রেষ্ঠ কন্যা শ্রেষ্ঠ জননী।

আকাশ ছোঁয়া পাহাড়, সবুজ আলপনায় শকুনের নিঃশ্বাস। পাহাড়িবাঙালি ভেদাভেদ, রক্তের হোলি খেলা ভাইয়ে ভাইয়ে।
বিচলিত মা পেতে দেন শান্তির আঁচল।
সবুজ আস্তরণে লালমাটি ঢেকে যায়, বেআইনি অস্ত্রের পুষ্পবৃষ্টি বর্ষণে।

মগের মুলুকের নির্যাতিত রোহিঙ্গা সাগরজলে ভাসে,
ধর্ষিত নারীর চিৎকার, ক্ষুধাতুর শিশুর আর্তনাদ, শোনার কেউ নেই, – নিশ্চুপ ধরণি!
চোখ বুজে সইতে পারলেন না বিশ্বজননি।

মুখপোড়া বানরেরা মায়ের নাম ধরে ভেংচায়, দিবসের কাজটা কেনো মধ্যরাতে সারে!
অবুঝ শিশুরা শয়তানের ধোঁকায় যদি মাসির কোল পায়!
বিদুষী মা অন্ধকারে তাই পার হয়ে যায় বৈতরণী।
শ্রেষ্ঠ বাঙালির শ্রেষ্ঠ কন্যা শ্রেষ্ঠ জননী।

বিনীত
রেলওয়ে কর্তৃক কক্সবাজার জেলায় ভূমি অধিগ্রহণের ফলে মুজিববর্ষে গৃহহারা জনগণের পক্ষে-
আনম রফিকুর রশীদ
কক্সবাজার।

SuperWebTricks Loading...

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

seven − five =

আরো বিভন্ন বিভাগের নিউজ