• শুক্রবার, ০৫ মার্চ ২০২১, ০৪:১৩ পূর্বাহ্ন

ইসলামপুরে পাহাড় কেটে দালান তৈরির উৎসবে মেতেছে পাহাড় খেকো বদিউল

Md. Nazim Uddin
আপডেট : শুক্রবার, ২২ জানুয়ারী, ২০২১

নিজস্ব প্রতিবেদক:

জেলার প্রতিটি রন্দ্রে রন্দ্রে পাহাড় কাটার ধুম পড়েছে যেন। তারই ধারাবাহিকতায় কক্সবাজার সদর উপজেলার ইসলামপুরে পাহাড় কেটে দালান বাড়ি তৈরি করার মহা উৎসব চলছে। এতে পরিবেশ হারাচ্ছে তার প্রাকৃতিক ভারসাম্য।

জানা যায়, ইসলামপুর ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের ভিলেজার পাড়া এলাকায় স্থানীয় চিহ্নিত ভূমিদস্যু বদিউল আলমের নেতৃত্বে কোন নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে প্রশাসনের কর্তাদের বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে প্রকাশ্য পাহাড় কেটে যাচ্ছে। বদিউল আলম একই এলাকার মৃত দলিলুর রহমানের পুত্র। সে হত্যামামলা সহ এক ডজন মামলার আসামী বলে জানা গেছে। অন্যদিকে পাহাড়ের আশপাশে বসবাসরত মানুষ চরম আতংকে রয়েছে।

গতকাল সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভিলেজার পাড়া চিহ্নিত পাহাড়খেকো বদিউল আলমের নেতৃত্বে বিগত এক সপ্তাহ ধরে পাহাড় কেটে সমতল করে দালান বাড়ি তৈরির কাজ চলছে। প্রতিদিন ভোর ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত অন্তত ১৫-২০ জন শ্রমিক পাহাড় কাটায় নিয়োজিত থাকে।

এলাকাবাসী জানান, হেডম্যান শফির মাধ্যমে নাপিতখালী বিট অফিসের কর্মকর্তাদের টাকার বিনিময়ে ম্যানেজ করে সব সময় পাহাড় কাটা চলছে হরদমে। শ্রমিকরা পাহাড় কেটে ২টি ডাম্পার গাড়ি দিয়ে বিভিন্ন চক্রের কাছে মাটি বিক্রি করছে। নির্বিচারে পাহাড় কাটার কারণে বিভিন্ন স্থানে ফাটল সৃষ্টি হচ্ছে। তিনি কারো কথায় কর্ণপাত না করে পাহাড় কেটে যাচ্ছে। যেকোন মুহুর্তে পাহাড় ধসে প্রাণহানিসহ ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশংকা রয়েছে।

ভিলেজার পাড়া এলাকায় বসবাসরত কয়েক জন প্রবীণ ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করা শর্তে বলেন, বদিউল আলম একাধিক মামলার আসামী এবং তাদের রয়েছে বড় একটি পাহাড় কাটার চক্র, তারা কারো কথায় কর্ণপাত না করে পাহাড় কেটে যাচ্ছে। তাদের বাধা দিতে গেলে হামলা মামলা করার হুমকী দেয়া হয়।

এ বিষয়ে বদিউল আলমের সাথে কথা হলে তিনি তার খতিয়ানভুক্ত জায়গা সমান করে দোকান ঘর বানাচ্ছে বলে জানান। তা ছাড়া পাহাড় তার জায়গার মাথাখিলা জমি বলেও জানান। এবং এক পর্যায়ে বিট কর্মকর্তাকে টাকার বিনিময়ে ম্যানেজ করে পাহাড় কাটতেছে বলে স্বীকার করেছেন।

এ বিষয়ে জানতে, নাপিতখালী বিট ইনচার্জে থাকা আলা উদ্দিন বলেন, বিষয়টি জানার পর স্থাপনা নির্মান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এর পরও করলে তাহলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এবং টাকার বিনিময়ে ম্যানেজ হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে, তিনি অস্বীকার করেন।

এ বিষয়ে হেডম্যান শফি আলম বলেন, টাকা নেওয়ার বিষয়টি ঠিক নয়। খবর পেয়ে বিট কর্মকর্তা সহ গিয়ে কাজ বন্ধ করে দিয়েছি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফুলছড়ি রেঞ্জ কর্মকর্তা (দায়িত্বপ্রাপ্ত) মাজহারুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমার জানা ছিলনা। আসলে দুটি রেঞ্জের দায়িত্ব থাকায় সব তথ্য যথা সময়ে পইনা। তবে আপনাদের মাধ্যমে আমরা অনেক ভাল তথ্য পেয়ে থাকি।

SuperWebTricks Loading...

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

fourteen + one =

আরো বিভন্ন বিভাগের নিউজ