• শনিবার, ০৬ মার্চ ২০২১, ০১:৩৮ পূর্বাহ্ন

কক্সবাজার শহরে অবৈধ টমটম ঘিরে সংঘর্ষ, আহত ২০

Md. Nazim Uddin
আপডেট : বুধবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২১

বিশেষ প্রতিবেদক:

মাত্রাতিরিক্ত ইজিবাইক (টমটম) ও রিক্সায় পর্যটন শহর কক্সবাজার যেন যানজটের নগরীতে পরিণত হয়েছে। যানজট কমাতে অতিরিক্ত টমটমের লাইসেন্স স্থগিতের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের পরিবর্তে সম্প্রতি আরো ৫০০ নতুন টমটমের লাইসেন্স দিয়েছে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ। লাইসেন্স গ্রহীতাদের অভিযোগ, একেকটি লাইসেন্সের বিপরীতে নেয়া হয়েছে ৮০ হাজার টাকা হতে এক লাখ টাকা। এতে জ্যাম ও ভোগান্তি আরো তীব্র হয়েছে। ভোগান্তিতে নাকাল পৌরবাসী ও পর্যটকদের পরিত্রাণ দিতে সপ্তাহ ধরে অবৈধ টমটমের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছে ট্রাফিক পুলিশ।

ইতোমধ্যে জব্দ করে পুলিশ লাইনে আটকে রাখা পাঁচ শতাধিক টমটম ছাড়াতে ব্যর্থ হয়ে বুধবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) শহরে টমটম ও রিকশা ধর্মঘট পালন করে অতিরিক্ত দামে লাইসেন্স নেয়া টমটম মালিক-চালকরা। এতে টমটম ও রিকশায় চলাচলকারীদের দুর্ভোগ বেড়ে যায়।

এদিকে, লাইসেন্স থাকার পরও অবৈধ হিসেবে উল্লেখ করায় বুধবার টমটম মালিক-চালকরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে এসে পৌরসভার সামনে মানববন্ধন করেন। লোকজন নিয়ে হঠাৎ এ মানববন্ধনে হামলা করেন পৌরসভার প্যানেল মেয়র মাহবুবুর রহমান মাবু। তারা মানববন্ধনে অংশ নেয়া টমটম মালিক ও চালকদের বেধড়ক মারধর করেন। এক পর্যায়ে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। মানববন্ধনে নেতৃত্ব দেয়া রুহুল কাদের মানিক নামে ছাত্রলীগের সাবেক এক নেতাকে মাটিতে ফেলে টেনে পৌর কম্পাউন্ডের ভেতর নিয়ে যান হামলাকারীরা। সেখানে লাইসেন্স সরবরাহের সঙ্গে জড়িত কাউন্সিলর ও তাদের অনুসারীরা মানিককে বেধড়ক মারধর করেন। মারধরের এমন বেশ কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সম্প্রচার পড়িয়েছে।

সংঘর্ষে প্যানেল মেয়র মাবুসহ উভয়পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হন। আহতদের বেশ কয়েকজন কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। উভয় পক্ষই একে অপরের ওপর হামলার অভিযোগ করেছেন।

টমটম শ্রমিকদের অভিযোগ, পৌরসভার সামনে তাদের শান্তিপূর্ণ মানববন্ধনে কোনো কারণ ছাড়াই মাহবুবুর রহমানের নেতৃত্বে পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা হামলা চালান। এসময় হামলাকারীরা শ্রমিক নেতা রুহুল কাদের মালিককে পেটাতে পেটাতে এক পর্যায়ে টেনেহেঁচড়ে পৌরসভার ভিতরে নিয়ে গিয়ে ব্যাপক মারধর করেন। এতে বাধা দিতে গেলে পুলিশের ওপরেও চড়াও হন হামলাকারীরা। পরে পৌরসভার ভেতর থেকে মুমূর্ষু অবস্থায় পড়ে থাকা শ্রমিক নেতা মানিককে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যায় সদর থানা পুলিশ।

অপরদিকে পাল্টা অভিযোগ এনে আওয়ামী লীগ নেতা ও প্যানেল মেয়র মাবুকে মারধর করা হয়েছে দাবি করে প্রতিবাদ সমাবেশ করা হয়েছে। পৌরসভার কাউন্সিলরদের দাবি, ধর্মঘট বন্ধের জন্য অনুরোধ করা হলে শ্রমিক নেতা মানিকের নেতৃত্বে মাবুর ওপর হামলা করা হয়। এতে তিনি মারাত্মকভাবে জখম হন। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

বিকেলে কক্সবাজার পৌরসভার সামনে তাৎক্ষণিক আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে পৌর আওয়ামী লীগ সভাপতি নজিবুল ইসলাম, পৌর কাউন্সিলর সালা উদ্দীন সেতু, কাউন্সিলর সাহাব উদ্দীনসহ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

এদিকে, টমটম মালিক ও শ্রমিকরাও বিক্ষিপ্তভাবে প্রতিবাদ সমাবেশ অব্যাহত রাখেন। এতে দুইপক্ষের পাল্টা অবস্থানে কক্সবাজার শহরজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

এ বিষয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুনীর উল গীয়াস বলেন, ‘অবৈধ টমটম ঘিরে সংঘটিত ঘটনায় নজর রাখছে পুলিশ। এখানে স্বার্থ সংশ্লিষ্টতা আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আহত শ্রমিক নেতা মানিককে উদ্ধার করে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। পাল্টা অভিযোগ উঠলেও এখনো কোনো পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাইনি।’

উল্লেখ্য, পর্যটন নগরীর সিংহভাগ ভাঙা-চোরা সড়কে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক (টমটম) হেলেদুলে চলতে গিয়ে যানজটের শহরে পরিণত হয় পুরো কক্সবাজার। সংশ্লিষ্টরা বার বার যানজট নিরসনের প্রতিশ্রুতি দিলেও তার বাস্তবায়ন দেখা যায়নি। প্রতিশ্রুতির উল্টো পথে হেটে চলতি বছরের শুরুতে নতুন করে আরো ৫০০ টমটমের লাইসেন্স দেয় কক্সবাজার পৌর প্রশাসন। এর আগে কর্তৃপক্ষ আড়াই হাজার টমটমের লাইসেন্স দেয় বলে দাবি করলেও কক্সবাজার শহরে টমটমে চলাচল করছে প্রায় ১২ হাজার। যা নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হয়। এটি জেলার আইনশৃঙ্খলা মিটিংয়ে আলোচনার পর নড়েচড়ে বসে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সীদ্ধান্ত হয় কক্সবাজার শহরকে যানজট মুক্ত করে টমটমসহ সব অবৈধ যান উচ্ছেদের। এরই প্রেক্ষিতে অবৈধ টমটম জব্দ করা শুরু করে প্রশাসন।

অভিযোগ রয়েছে, একটি লাইসেন্সকে কপি করে চার থেকে পাঁচটি টমটম চালায় কাউন্সিলরদের অনুসারীরা। আর লাইসেন্স কিনে নেয়া টমটম মালিকদের দাবি, ৮০ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকায় একেকটি লাইসেন্স কিনেছেন তারা। যদিও পৌর কর্তৃপক্ষ বরাবরই এমন অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। কিন্তু প্রচার রয়েছে, শহরে চলাচলরত ১২ হাজার টমটমের অবৈধগুলোকে বৈধতা দিতে বেআইনি লাইসেন্স সরবরাহে জড়িয়ে পড়েছে আওয়ামী লীগের দুটি গ্রুপ।

এসব বিষয়ে কক্সবাজার ট্রাফিক পুলিশের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার রাকিবুল ইসলাম বলেন, ‘অবৈধ টমটম চলাচলকে কেন্দ্র করে ধর্মঘটের ডাক দেন টমটম শ্রমিকরা। তবে কক্সবাজার শহরকে যানজটমুক্ত করতে অবৈধ সব টমটমই উচ্ছেদ করতে প্রশাসন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

SuperWebTricks Loading...

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

5 × 2 =

আরো বিভন্ন বিভাগের নিউজ