• বৃহস্পতিবার, ২৯ জুলাই ২০২১, ১২:২৩ অপরাহ্ন

পাহাড়ে ঝুঁকিতে বসবাস প্রায় তিন লাখ মানুষের

Md. Nazim Uddin
আপডেট : শনিবার, ১৯ জুন, ২০২১

নিজস্ব প্রতিবেদক:

কক্সবাজার শহর ও বিভিন্ন উপজেলায় পাহাড়ের ওপরে ও নিচে ঝুঁকিপূর্ণ বসতঘর তৈরি করে বসবাস করছে প্রায় তিন লাখ মানুষ। বন উজাড় ও পাহাড় কেটে বসতঘর তৈরিসহ নানা কারণে পাহাড় ধসে গত ১০ বছরে দেড়শর বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। এরমধ্যে বর্ষা শুরু হওয়ায় সর্বত্র পাহাড় ধস আতঙ্ক বিরাজ করছে।

এদিকে সারা বছর কোনো উদ্যোগ না নিলেও প্রতিবছর বর্ষা এলে মাইকিং করে পাহাড়ে বসবাসকারীদের সরে যেতে বলে কোনোরকম দায় এড়ানোর চেষ্টা করে প্রশাসন।

কক্সবাজার শহরের বৈদ্যঘোনা, পাহাড়তলী, সার্কিট হাউস, কলাতলী, আদর্শগ্রাম, টেকনাইফ্যা পাহাড়, হিমছড়ি, মহেশখালী উপজেলাসহ সীমান্ত উপজেলা টেকনাফ ও উখিয়ায় পাহাড়ধস প্রতি বর্ষা মৌসুমের নিয়মিত ঘটনা। প্রতিবছর ছোট-বড় পাহাড় ধসে মারা যান পাহাড়ে বসবাসকারীরা। এত ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করার কারণ জানতে চাইলে পাহাড়তলী এলাকায় মো. ইসমাইল বলেন, ‘আমরা খেটে খাওয়া মানুষ। দিনমজুরি করে সাত সদস্যের পরিবার নিয়ে বাসা ভাড়া করে থাকতে পারি না। এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে পাঁচ বছর আগে ৪০ হাজার টাকা দিয়ে ২ শতক পাহাড়ি জমি কিনে কোনোমতে টিন দিয়ে ঘর তৈরি করে বসবাস করছি। এ ছাড়া আমাদের আর কোনো উপায় নেই।

একই কথা বলেছেন রুমালিয়ারছড়ার বাঁচা মিয়ার ঘোনার পাহাড়ে বসবাসকারী নুর মোহাম্মাদ, বাদশাঘোনা এলাকার মৌলভী হাফেজ আলম, বৈদ্যঘোনার ইলেকট্রিক মিস্ত্রি মো. হোসেন, বাদশার ঘোনার আয়েশা বেগম। তারা আরও বলেন, সরকার আমাদের মাথা গোঁজার ঠাঁই নিশ্চিত করলে আমরা এসব পাহাড় ছেড়ে দিতে প্রস্তুত।

সংশ্লিষ্টরা জানান, জেলায় মোট বনভূমির ৭৩ হাজার ৩৫৮ হেক্টরের মধ্যে অবৈধ দখলে আছে ৯ হাজার ৬৫৭ হেক্টর। এর মধ্যে পাহাড়ি জমিতেই প্রায় ১৩ হাজার ৮২৬টি পরিবারের তিন লাখ মানুষের বসবাস।

জেলায় ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড় রয়েছে ৬২টি। প্রতিবছর বর্ষা মৌসুম এলেই কক্সবাজার জেলা প্রশাসন ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করা লোকজনকে সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেন। মাইকিং করে সতর্কমূলক প্রচারণা চালান। কিন্তু পরে আবারও সেই পাহাড়েই ঠাঁই নেয় পরিবারগুলো।

এদিকে কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পাহাড় ধসে এ পর্যন্ত ৬ জন সেনা সদস্যসহ বিভিন্ন স্থানে ১৫২ জন প্রাণ হারায়। কক্সবাজারের পরিবেশ অধিদপ্তর বলছে, যারা পাহাড় কাটছে, তাদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এই পর্যন্ত প্রায় দুই শতাধিক মামলা হয়েছে। তবে পাহাড় খেকোরা বরাবরেই সক্রিয় রয়েছে।

পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজারের সহকারী পরিচালক সংযুক্তি দাশ গুপ্তা বলেন, ‘পাহাড় কাটা বন্ধ ও বসতি উচ্ছেদের জন্য গত জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত অন্তত ২০টি স্থানে অভিযান চালানো হয়েছে।’ এ সময় নতুন করে তৈরি শতাধিক ঘরবাড়ি উচ্ছেদ ও পাহাড় কাটার দায়ে মামলা ও জরিমানা করা হলেও আরও বহু অবৈধ স্থাপনা রয়ে গেছে। এসব স্থাপনা উচ্ছেদে যৌথ অভিযান দরকার। কিন্তু আমাদের লোকবলসংকটের কারণে একসঙ্গে এত অবৈধ দখলদারের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। তিনি আরও বলেন, বৃষ্টি হলে পাহাড় কাটার কারণে মাটি নরম হয়ে ধসে পড়ে। যদি বর্ষাকালে টানা বর্ষণ হয়, তা হলে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীর পরিস্থিতি ভয়াবহ হবে।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ বলেন, অতীতে কি হয়েছে সেটি বলতে পারব না। আমি কাজ করতে চাই। তালিকা সম্পন্ন হলে ঝুঁকিতে থাকা মানুষকে সরানো হবেই। কেউ না যেতে চাইলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থাও নেয়া হবে। তবে, যে কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় ফায়ার সার্ভিস, রেড ক্রিসেন্টসহ নানা সংস্থাকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে সহযোগিতা নেয়া হবে সেনাবাহিনীরও।


আরো বিভন্ন বিভাগের নিউজ