• বৃহস্পতিবার, ২৯ জুলাই ২০২১, ০১:০২ অপরাহ্ন

খরুলিয়ার জামাল হত্যায় জড়িতরা গ্রেফতার না হওয়ায় এলাকাবাসীর ক্ষোভ

Md. Nazim Uddin
আপডেট : বুধবার, ১৪ জুলাই, ২০২১

নিজস্ব প্রতিবেদক:

কক্সবাজার সদরের খরুলিয়ায় বর্বরোচিত হত্যাকান্ডের শিকার জামাল উদ্দিন (৩৫) হত্যার ঘটনায় জড়িতরা এখনও গ্রেফতার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে স্থানীরা।

সন্ত্রাসী হামলার শিকার জামাল উদ্দিন সোমবার (১২ জুলাই) সকাল পৌনে ১১ টার দিকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে মারা যান। মঙ্গলবার (১৩ জুলাই) ময়না তদন্তশেষে তার মৃতদেহ বাড়িতে নেয়া হয়। বাদ আছর খরুলিয়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ মাঠে তাঁর নামাজে জানাযা অনুষ্ঠিত হয়।

তাঁর দাফন শেষে জামালের ভাই কামাল হোসেন ও বোন খুরশিদা জানান, চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় জামালের যখন জ্ঞান ফিরে আসে তখন কিভাবে সে আক্রান্ত হয়েছে তা বলেছে।

জামাল জানিয়েছেন, মাস দেড়েক আগে খরুলিয়া বাজারপাড়া এলাকার মাদক সম্রাট হিসেবে পরিচিত ইউসুফ আলীর ছেলে শওকত আলী পুতু তাকে টাকা পাচ্ছে বলে গালিগালাজ করে। এ নিয়ে বাকবিতণ্ডা এবং একপর্যায়ে হাতাহাতিও হয়। সেদিন জামালকে ধরে বেঁধে তার ব্যবহৃত মোটর সাইকেলটিসহ আটক করে রাখতে চেষ্টা চালায় পুতু। জামাল তাকে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে চলে আসে। এর জের ধরে ৭ জুলাই রাতে ইউসুফ আলী, শওকত আলী পুতু, তার ভাই দেলোয়ার হোসেন, লিয়াকত, সাদ্দাম, ওসমান গণি ও দেলোয়ারের ছেলে মেহেদী মিলে জামালকে বাজার থেকে ধরে তাদের বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে সবাই মিলে লোহার রড় ও হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে মাথা ও শরীর থেঁতলে দেয়। জামাল তাদের বর্বরোচিত নির্যাতন সয্য করতে না পেরে চিৎকার দিলে তার গালের ভেতর মাটি চাপা দেন।

তারা আরো জানায়, মারের ছুটে একসময় জামাল অচেতন হয়ে গেলে তাকে মৃত ভেবে ইউসুফ আলীর বাড়ির সামনে জনচলাচলের রাস্তার পাশে ফেলে চলে যায়। এক টমটম চালক বাড়ি ফেরার পথে একজনকে রাস্তার পাশে পড়ে থাকতে দেখে কাছে যান এবং জামালকে চিনতে পেরে ঘরে খবর দেয়া হয়। পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে প্রথমে রামু চা বাগান হাসপাতালে নেয়। সেখান থেকে তাকে চমেক হাসপাতালে রেফার করা হয়। তাড়াতাড়ি সুস্থ হবার আশায় তাকে পাঁচলাইশস্থ পার্কভিউ হাসপাতালে নেয়া হয়। কিন্তু সেখানে খরচ বেশি পড়ায় আর্থিক অনটনের কারণে জামালকে আবার কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে আসা হয় ১১ জুলাই। সেখানেই সোমবার বেলা পৌনে ১১ টার দিকে মারা যান জামাল।

এদিকে জামালের হত্যাকান্ডটি ধামাপাচা দিতে হত্যায় অভিযুক্ত পরিবারের নারীরা নানানরকম মিথ্যাচার করে কক্সবাজার প্রেসক্লাবে এসে একটি সংবাদ সম্মেলন করেন। হত্যায় অভিযুক্তদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে ডাকাতি, হত্যা, অস্ত্র, ও মাদকসহ ডজন খানেক মামলা থাকলেও হামলাকারীরা এলাকার নিরহ লোকজন বলে দাবী করেন সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেয়া নারীরা।

নিহত জামাল উদ্দিন সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের ৯ ওয়ার্ডের মৃত ফজল কবিরের ছেলে।

নিহত জামালের ভাই মনসুর আলম ও কামাল উদ্দিন জানিয়েছেন- আর্থিক বিষয় নিয়ে স্থানীয় ইউসুফ আলীর ছেলে শওকত আলী পুতিয়ার সাথে জামালের বিরোধ চলছিলো। গত ৭ জুলাই রাতে নানার বাড়ি থেকে খরুলিয়া আসছিলেন জামাল। পথে মুন্সীর বিল রাস্তার মাথা নামক স্থানে পৌঁছলে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে তাকে ইউসুফ আলীর বাড়ির ভিতরে নিয়ে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে পুরো শরীর থেঁতলে দেয়।

ইউসুফ আলীর ছেলে শওকত আলী পুতিয়া ছাড়াও হামলায় অংশ নেন ইউসুপ আলী নিজেই, দেলোয়ার হোছনের ছেলে মেহেদী হাসান, ইউসুফ আলীর ছেলে সাদ্দাম হোসেন, দেলোয়ার হোসেন ও ওসমান গনি।

হামলার পর মূমুর্ষু অবস্থায় জামালকে ইউসুফ আলীর বাড়ির সামনে ফেলে দেয়া হয়। সেখান থেকে স্থানীয়রা তাকে রাত ১১ টার দিকে উদ্ধার করে প্রথমে রামু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যান।

পরদিন তার অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রামের একটি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। সেখানে আইসিইউতে রাখার জন্য বলা হলে অর্থাভাবে স্বজনরা জামালকে গত রবিবার পূনরায় কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে আসেন। সেখানে সোমবার সকালে তিনি মারা যান।

তারা আরো জানান- নিহত জামাল উদ্দিনের পিঠের উপরি অংশ, মাথার সামনে বাম অংশে, কপালের ডানপাশে, অন্ডকোষ ও মেরুদন্ডের উপরে সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্তাক্ত জখমের চিহ্ন রয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানান তারা।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি (অপারেশন) মো. সেলিম জানিয়েছেন- মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনের জন্য মৃতদেহ সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

ঝিলংজা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান টিপু সুলতান জানিয়েছেন-ইউসুফ আলীর ছেলেদের হামলায় জামাল উদ্দিন প্রাণ হারিয়েছেন। তিনি সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দোষিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

জামাল উদ্দিনের ভাই কামাল ও মনসুর আরো জানান- হামলাকারি ইউসুফ আলীর ও তার পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘদিন এলাকায় বিভিন্ন অপরাধ কর্মকান্ডে জড়িত। তার আনেক ছেলে রাজা মিয়া ১ বছর পূর্বে খরুলিয়ায় মসজিদে প্রবেশ করে আবদুল মালেক নামের এক মুসল্লীকে কুপিয়ে আহত করেন। ওই ঘটনার পর র‌্যাবের ক্রসফায়ারে নিহত হন রাজা মিয়া।

জানা গেছে- ৫ ভাই, ২ বোনের মধ্যে নিহত জামাল উদ্দিন ৪র্থ। তাকে হত্যার ঘটনায় পুরো এলাকাজুড়ে শোকাবহ পরিবেশ বিরাজ করছে। এলাকাবাসী এ ঘটনায় জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছে।


আরো বিভন্ন বিভাগের নিউজ