ঘুষের মাধ্যমে বীচ ধান বিক্রি, প্রতিবাদ করায় সংখ্যালঘু ও এমপি মন্ত্রীদের গালিগালাজ

Channel Cox.ComChannel Cox.Com
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৩:০৫ PM, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯

অভিযোগ কামরুন নাহারের বিরুদ্ধে

 

জসীম উদ্দীন,

শুক্রুবার ২৭সেপ্টেম্বর সবাই তখন জুমার নামাজে যাওয়ার প্রস্তুুতি নিয়ে ব্যাস্ত। ঠিক সে সময় বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন কক্সবাজারের আলির জাহাল গুদামে ট্রাক ভর্তি করা হচ্ছে আমন মৌসুমের বীচ ধানের।একটি ট্রাক লোডের কাজ চলছে বাইরে গাড়ি দাড় করে রাখা হয়েছে অপর আরেকটি ট্রাক।

অভিযোগ উঠেছে সরকারি বন্ধের দিনেও ঘুষের বিনিময়ে তড়িঘড়ি করে গোপনে এসব বীচ ধান বিক্রির পর ডেলিভারি দিচ্ছেন স্টোর কিপার কামরুন নাহার। এসময় কয়েকজন ডিলার উপস্থিত হয়ে প্রতিবাদ করতেই হৈ চৈ পড়ে যায়।সংশ্লিষ্টদের মতে কামরুন নাহার লাখ টাকার ঘুষের বিনিময় এসব বীচ ধান বিক্রি করেছেন। এবং গত ১৫বছরে ধরে তার এ রাজত্ব চলছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী ডিলাররা।

সংশ্লিষ্টদের মতে নিয়ম অনুযায়ী আমন মৌসুমের অবিক্রিত ৮৬ টন বীজ ধান আনুপাতিক হারে ডিলারদের মাঝে বরাদ্দ দেয়ার কথা। যদি ডিলারা অনাগ্রহী হয়,এতে করে আগ্রহীদের মাঝে বরাদ্দ করে দেয়ার নিয়ম রয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কোন নিয়মের তোয়াক্কা না করে অজ্ঞাত ডিলাদের কাছে এসব বীচ ধান বিক্রি করে দেন।

অনিয়মের প্রমাণ মিলেছে সরজমিনেও। মো: আলম নামের একজন ডিলার গণমাধ্যমের উপস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট, কামরুন নাহারকে ফোন দিয়ে- জানতে চান” তাকে যে বীজ ধান দেয়ার কথা, তা কখন দেয়া হবে! কামরুন নাহার জবাবে বলেন, রোববার টাকা নিয়ে আসেন । অথচ সেসময় অবশিষ্ট ৮৬টন বীচ ধান -ই বিক্রি করে ট্রাকে লোড হচ্ছে খোদ কামরুন নাহারের নেতৃত্বে।

পরে উভয় মুখোমুখি হলে উত্তেজিত হয়ে উঠেন
দায়িত্বরত কামরুন নাহার। উপস্থিত ডিলাদের মধ্যে স্থানীয় এক এমপির ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত উত্তম কুমারকে দেখতে পেয়ে-কোন কারন ছাড়াই সংখ্যালঘু ও সরকারী এমপি মন্ত্রীদের অশৃল্য ভাষায় গালিগালাজ করেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

 

 

অভিযোগের বিষয়ে কক্সবাজার বিএডিসি’ আলির জাহাল কার্যালয়ের স্টোরকিপার কামরুন নাহার অস্বীকার করলেও সঠিক কোন উত্তর দিতে পারেননি। বরং অন্য ডিপার্টমেন্টের দুর্নীতির বিষয়ে সাংবাদিকদের অবগত করার চেষ্টা করেন।উপস্থিত গণমাধ্যম কর্মীরা সংশ্লিষ্ট সিনিয়র সহকারী পরিচালকের নাম্বার চাইলেও তিনি অপরাগতা জানান। একই স্থানে কিভাবে ১৫বছর আছেন, এমন প্রশ্নের জবাবে উত্তেজিত কন্ঠে তিনি আর চাকরি করতে চান না বলে মন্তব্য করেন।

কক্সবাজার জেলা বিএডিসির সিনিয়র সহকারি পরিচালক শাহ মো: জালাল উদ্দিন, ঘুষ লেনদেনের বিষয়টি তিনি অবগত নয় দাবি করে বলেন, দুই দিন আগে আমাদের কাছে প্রজ্ঞাপন এসেছে। আমরা সরকারি প্রজ্ঞাপন মতে বীজগুলো বিক্রি করেছি।

বীজ বিক্রির বিষয়টি ডিলারদের জানানো হয়নি কেন! এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের তালিকাভূক্ত যেসব ডিলার রয়েছে, সবাইকে দিতে গেলে হৈ ছৈ পড়ে যাবে তাই বীজ বিক্রির বিষয়টি প্রচার করা হয়নি।

আপনার মতামত লিখুন :