ঈদগাঁও উপজেলাজুড়ে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে সংক্রামক ব্যাধি হাম। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে জ্বর, কাশি ও শরীরে র্যাশের উপসর্গ ছড়িয়ে পড়ায় অভিভাবকদের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে জালালাবাদ ইউনিয়নে হামে আক্রান্ত হয়ে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে একই পরিবারের দুই শিশুর মৃত্যুর ঘটনাও রয়েছে।
সবশেষ শুক্রবার জালালাবাদের খামারপাড়া এলাকায় একই দিনে এক বৃদ্ধা নারী ও হামে আক্রান্ত এক শিশুর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। খামারপাড়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ মাঠে পাশাপাশি জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। স্থানীয়রা জানান, শিশুটি কয়েকদিন ধরে জ্বর, কাশি ও শরীরে র্যাশে আক্রান্ত ছিল।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ঈদগাঁও উপজেলায় হামের প্রকৃত পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য বিভাগের দৃশ্যমান তৎপরতা খুব একটা চোখে পড়ছে না। কোন এলাকায় কতজন আক্রান্ত, কোথায় চিকিৎসাধীন কিংবা কোথায় ঝুঁকি বেশি এসব বিষয়ে নিয়মিত তথ্য প্রকাশ না হওয়ায় সাধারণ মানুষ সচেতন হতে পারছে না।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম অত্যন্ত ছোঁয়াচে ভাইরাসজনিত রোগ। আক্রান্ত ব্যক্তি হাঁচি-কাশি দিলে বা সংস্পর্শে এলে খুব দ্রুত অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে শিশু ও দুর্বল রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন মানুষের জন্য এটি প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে।
তারা শিশুদের নিয়মিত টিকা নিশ্চিত করা, অপ্রয়োজনে হাসপাতালে ভিড় এড়িয়ে চলা, আক্রান্তদের আলাদা রাখা এবং জ্বর-র্যাশ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
স্থানীয় সচেতন মহলের আশঙ্কা, এখনই কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে ঈদগাঁও উপজেলায় হামের সংক্রমণ আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মনছুর আলম, নির্বাহী সম্পাদক : নাজিম উদ্দীন
অফিস : হোটেল গ্রীণ ভ্যালি বিজনেস কমপ্লেক্স , ৪র্থ তলা (দৈনিক মেহেদী), প্রধান সড়ক, পৌরসভা, কক্সবাজার।