"সুশিক্ষায় গড়ি সুন্দর আগামীর বাংলাদেশ"—এই স্লোগানকে বাস্তবে রূপ দিয়ে সততার এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে গোমাতলী উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী পারিয়া। কুড়িয়ে পাওয়া প্রায় অর্ধ লক্ষ টাকা মূল্যের একটি স্বর্ণের আংটি নিজের কাছে না রেখে মালিকের কাছে পৌঁছে দিয়ে সে সবার প্রশংসা কুড়িয়েছে।
জানা যায়, সম্প্রতি বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে খেলাধুলার সময় শিক্ষার্থী পারিয়া মূল্যবান ওই স্বর্ণের আংটিটি কুড়িয়ে পায়। লোভের বশবর্তী না হয়ে সে তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি তার বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জানায় এবং আংটিটি তাদের জিম্মায় জমা দেয়। পরবর্তীতে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন মাধ্যমে খোঁজখবর নিয়ে আংটিটির প্রকৃত মালিককে শনাক্ত করেন। যথাযথ যাচাই-বাছাই শেষে মালিকের কাছে স্বর্ণের আংটিটি হস্তান্তর করা হয়।
শিক্ষার্থী পারিয়ার এমন নৈতিকতায় গর্বিত বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ। এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক বলেন, "গোমাতলী উচ্চ বিদ্যালয়ে আমরা শুধু পাঠ্যপুস্তকের শিক্ষা প্রদান করি না, বরং শিক্ষার্থীদের সততা, নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার দীক্ষা দেই। পারিয়া আমাদের শিক্ষার প্রকৃত প্রতিফলন ঘটিয়েছে।"
এ ঘটনায় এলাকার অভিভাবক ও সচেতন মহলে বেশ সাড়া পড়েছে। স্থানীয়দের মতে, বর্তমান সময়ে এমন সততার দৃষ্টান্ত সমাজের জন্য অত্যন্ত অনুপ্রেরণাদায়ক। পারিয়ার এই কাজ অন্যান্য শিক্ষার্থীদের জন্য অনুসরণীয় হয়ে থাকবে।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সুশিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য কেবল ভালো ফলাফল অর্জন নয়, বরং একজন নৈতিক, সৎ ও দায়িত্বশীল মানুষ তৈরি করা। গোমাতলী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী পারিয়ার এই মহৎ উদ্যোগ প্রমাণ করে যে, সঠিক মূল্যবোধের চর্চা করলে নতুন প্রজন্ম দেশের সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে সক্ষম।
পারিয়ার এই সততার সংবাদটি এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ব্যাপক প্রশংসিত হচ্ছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মনছুর আলম, নির্বাহী সম্পাদক : নাজিম উদ্দীন
অফিস : হোটেল গ্রীণ ভ্যালি বিজনেস কমপ্লেক্স , ৪র্থ তলা (দৈনিক মেহেদী), প্রধান সড়ক, পৌরসভা, কক্সবাজার।