• রবিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২০, ১০:২৮ অপরাহ্ন
Channel Cox add

ডাক্তার সেজে রোহিঙ্গার প্রতারণা ! বাঁধা এলে খ্রিষ্টানধর্ম গ্রহণের হুমকি

সংবাদদাতা
আপডেট : শুক্রবার, ২২ নভেম্বর, ২০১৯

[জসীম উদ্দীন]

ডাক্তার সেজে স্থানীয়দের সঙ্গে ভয়ানক প্রতারনা করে যাচ্ছেন আবদুল্লাহ নামের এক রোহিঙ্গা। তিনি রামুর পানিরছড়া বাজারে নিজে একটি ফার্মেসী খুলে ডাক্তার সেজে চিকিৎসা দিচ্ছেন। তার প্রতিষ্ঠানের নাম সাজন ফার্মেসী।

সেখানে বসে নিজেকে (বি.ডি.টি.সি) রাবেতা
(ভি.আর.এম.পি.এ) ঢাকা প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত দাবি দীর্ঘদিন ধরে ডাক্তারি করে যাচ্ছেন।সম্প্রতি তার পরিচয় প্রকাশ পেলে সর্বত্র আলোচনার ঝড় উঠে। ক্ষোভে ফুঁসে উঠে স্থানীয়রা।

খবর নিয়ে জানা যায়,রোহিঙ্গা আবদুল্লার বাবা মা বর্তমানে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে রয়েছে। ২০১৭সালে ২৫ আগস্টের পর তারা অন্যসব রোহিঙ্গাদের সঙ্গে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নেয়। রোহিঙ্গা আবদুল্লাহ নিজেও বিষয়টা স্বীকার করে নিয়েছেন। তবে তিনি দীর্ঘ বছর আগে বাংলাদেশে এসেছেন বলে জানিয়েছেন।

রোহিঙ্গা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আবদুল্লাহ
দীর্ঘদিন ধরে মিয়ানমার থেকে অবৈধ পণ্যবহন করে বাংলাদেশে নিয়ে আসতেন। গত দেড়যুগ ধরে মিয়ানমার ও বাংলাদেশে আসা যাওয়ার এক পর্যায়ে রামু উপজেলার জোয়ারিয়া নালা ৮নং ওয়ার্ড থেকে এক স্থানীয় নারীকে বিয়ে করেন।

আইনশৃংঙ্খলা বাহিনীর কঠোর অভিযানে একসময় অবৈধ পণ্যবহন বন্ধ করে দিয়ে তিনি ডাক্তারি প্রতারণা শুরু করেন। তার ডাক্তারি বিষয় নিয়ে আপত্তি জানালে সে নিজেকে জেলা আ’লীগের এক বড় নেতার মামাতো ভাই পরিচয় ব্যবহার করে হুমকি ধুমকি দেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

আব্দু রহিম নামে স্থানীয় এক ব্যাক্তি দাবি করেন, সম্প্রতি আবদুল্লাহ্ ক্যাম্পে থাকা তার বাবা-মাসহ আত্মীয় স্বজনদের ভোটার করার লক্ষে চারিদিকে ছুটাছুটি করছেন। এর মধ্যে কয়েকজনকে ভোটার করিয়েছেন বলেও তিনি শুনেছেন। ডাক্তারি প্রতারনা নিয়ে স্থানীয়দের ক্ষোভের কথাও জানান তিনি।

জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয়রা জানায়, আবদুল্লাহর চিকিৎসা সেবা নিয়ে অভিযোগের কমতি নেই। তবে তার বিরুদ্ধে সরাসরি কেউ কথা বললে বিভিন্ন নেতা ও ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী দিয়ে তিনি স্থানীয়দের অপদস্থ করেন।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত আবদুল্লাহর কাছে মুঠোফোনে যোগাযোগ হলে তিনি বলেন, আমি বাবা মায়ের অনেক আগে বাংলাদেশে এসেছি এবং ভোটার হয়েছি। তাই ডাক্তারি করার অধিকার আমার আছে। তিনি এও বলেন, আমি পড়াশোনা করে ডাক্তারি পেশায় এসেছি।

তার বক্তব্য নেয়ার এর কিছুক্ষণ পর রোহিঙ্গা আবদুল্লাহর ভোটার হওয়া ও ডাক্তারি বিষয় নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে পরিণাম ভালো হবেনা জানিয়ে মুঠোফোনে এ প্রতিবেদক’কে বেশকয়েকটি নাম্বার থেকে হুমকি প্রদান করা হয়েছে। হুমকি দাতা নাম্বার গুলো হচ্ছে +8801840238657+8801628100486
+8801818048804।

বিষয়টি জানাজানি পর গণমাধ্যম কর্মীরা সরজমিনে অভিযুক্ত কথিত রোহিঙ্গা ডাক্তারের প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত হন। এসময় আবদুল্লাহ সব স্বীকার করে বলেন, তার বিষয়ে পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ ও ডাক্তারি পেশায় বাঁধা এলে খ্রিষ্টানধর্ম গ্রহণ করে মুসলিম ধর্মত্যাগ করার হুমকি দেন তিনি।

তার একটু পরে রোহিঙ্গা আবদুল্লাহর পক্ষ নিয়ে যুবলীগের নেতা পরিচয়ে আনছারুল আলম নামে এক ব্যাক্তি মুঠোফোনে বলেন, কক্সবাজারের বেশিভাগ জনপ্রতিনিধি রোহিঙ্গা বলে দাবি করেন। এবং আবদুল্লাহকে নিয়ে বাড়াবাড়ি না করতে সংবাদকর্মীদের সাবধান করেন।

এ ব্যাপারে রামুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রণয় চাকমা বলেন, তার ব্যাপারে খোঁজখবর নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জোয়ারিয়ানালা ৮নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য জসিম-উল ইসলাম বলেন, আবদুল্লাহ্ বিভিন্ন সময় ভোটার হওয়ার চেষ্টা করলে আমি স্বাক্ষর করিনি। সে যদি অন্য কোথাও গিয়ে ভোটার হয় তা আমার জানার বিষয় নয়। তিনি আরোও বলেন, তার ছেলেরাও আমার আপত্তির মুখে ভোটার হতে পারেননি। আর ডাক্তারি বিষয়ে প্রশাসন উদ্যোগ নিলে সহযোগীতা করার কথা জানান তিনি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

2 × 2 =

আরো বিভন্ন বিভাগের নিউজ