স্থানীয়দের ছাঁটায়ে টিডিএইচ এর নাটক মঞ্চায়িত হচ্ছে কাল

Channel Cox.ComChannel Cox.Com
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৩:২০ PM, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯

নিজস্ব প্রতিবেদক :

প্রকল্প সংকোচিত করার কথা বলে কৌশলে স্থানীয়দের ছাঁটাইয়ের নাকট মঞ্চায়িত হচ্ছে এমন অভিযোগ উঠেছে এনজিও সংস্থা টিডিএইচ এর বিরুদ্ধে। ১৭ ডিসেম্বর (মঙ্গলবার) উখিয়ার রত্নাপালং এর পালং গার্ডেনস্থ টিডিএইচ এর সাব অফিসে এ নাটক মঞ্চায়িত হবে বলে জানা গেছে। এ নিয়ে স্থানীয় ও ভূক্তভোগীদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, টিডিএইচ এর চাইল্ড প্রোটেকশন প্রকল্পের অর্থায়ন করেন জাতিসংঘ এর সহযোগী সংস্থা ইউএনএইচসিআর ও আইওএম। সম্প্রতি ইউএনএইচসিআর টিডিএইচ এর কাজে অসন্তুষ্ট হয়ে চাইল্ড প্রোটেকশন প্রকল্পের চুক্তি শেষ করার ঘোষণা দিয়েছেন। সেক্ষেত্রে স্বাভাবিকভাবে ইউএনএইচসিআর এর অর্থায়নে কর্মরত কর্মকর্তা/কর্মচারীরা চাকরি থেকে বাদ পড়ার কথা। অথচ, টিডিএইচ ম্যানেজমেন্ট তা না করে আইওএম এর অর্থায়নে কর্মরর্ত কর্মকর্তা/কর্মচারীদের চাকরি থেকে বাদ দিয়ে উখিয়া-টেকনাফের বাইরের লোকজনকে সুযোগ করে দিতে নীল নকশা বাস্তবায়ন করার প্রস্তুতি গ্রহণ করে মূল্যায়ন (Evaluation) করার নাম করে স্থানীয়দের ছাঁটাইয়ের নাটক মঞ্চায়িত করার প্রস্তুতি চালাচ্ছে। যদিও আইওএম তাদের অর্থায়ন অব্যাহত রাখার বিষয়ে নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয়রা বলছেন, ইউএনএইচসিআর টিডিএইচ এর চাইল্ড প্রোটেকশন প্রকল্পের অর্থায়ন বন্ধ করলে তাদের অর্থায়নে যেসব কর্মকর্তা/কর্মচারীরা নিয়োজিত ছিলো তারাই চাকরিচ্যূত হবে। কিন্তু আইওএম এর অর্থায়নের যারা কর্মরত কর্মকর্তা/কর্মচারীরা কেন চাকরিচ্যূত হবে এমনটি প্রশ্ন সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের কাছ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভূক্তভোগী বলেন, আমরা সব ধরণের পরীক্ষায় যোগ্যতা প্রমাণ করে চাকরি নিয়েছি। আমরা যাদের অর্থায়নে কাজ করছি তারা আমাদের কাজে সুন্তষ্ট হয়ে অর্থায়ন অব্যাহত রেখেছে। কিন্তু যাদের কাজে অসন্তুষ্ট হয়ে ইউএনএইচসিআর প্রকল্পের চুক্তি শেষ করেছে তাদেরকে আমাদের সাথে এনে Evaluation করার কথা বলে আমাদের চাকরি থেকে বাদ দেওয়ার ষড়যন্ত্র করছে। যা অমানবিক। মানবিক সংস্থার এমন অমানবিক কাজ দেখে আমরা খুবই লজ্জিত।

এ বিষয়ে অধিকার বাস্তাবায়ন কমিটি উখিয়ার সভাপতি শরীফ আজাদ বলেন, ইউএনএইচসিআর এর অর্থায়নে পরিচালিত চাইল্ড প্রোটেকশন প্রকল্পে কক্সবাজারের বাইরের যারা কাজ করতো তাদের সুযোগ দিয়ে স্থানীয়দের বাদ দেওয়ার নাকট মঞ্চায়িত করতে এই আয়োজন। আমরা স্থানীয়রা এই অন্যায় কোনভাবে বাস্তাবায়র করতে দেবো না। এ নিয়ে কোন অপ্রিতিকর ঘটনা ঘটলে তা টিডিএইচ’কে দায়ভার গ্রহণ করতে হবে।

এ বিষয়ে কথা বলতে প্রতিবেদক যোগাযোগ করেছিলেন, টিডিএইচ এর জুনিয়র এইচআর আবদুর রহমান আদি’র সাথে। আদি উত্তেজিত হয়ে জানান, স্টাফ নিয়োগ করাই তাদের কাজ। প্রোগ্রাম থেকে তাদের যে রকম নির্দেশনা দেওয়া হয় তারা সে রকম কাজ করেন। কারা অর্থায়ন বন্ধ করেছেন, কারা অর্থায়ন দিচ্ছেন সে বিষয়ে এইচআর বিভাগের কোন কিছু জানার দরকার নেই। প্রতিবেদক যোগাযোগের জন্য প্রকল্পের কারো নাম্বার চাইলে টিডিএইচ এর জুনিয়র এইচআর আবদুর রহমান আদি কারো নাম্বার দিতে পারবেনা বলে সাফ জানিয়ে দেন। তাই প্রকল্পের কারো বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

আপনার মতামত লিখুন :