শূন্য থেকে কোটিপতি টেকনাফের দলিল লেখক শাহাজান

Channel Cox.ComChannel Cox.Com
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৯:২১ PM, ১৮ ডিসেম্বর ২০১৯

 

জসীম উদ্দীন, গত কয়েক বছর আগেও নুন আনতে পানতা ফুরিয়ে যেতো পেশায় দলিল লেখক শাহাজানের। কিন্তু বর্তমানে তিনি কোটিপতি। অল্পদিনের ব্যবধানে আলাদীনের চেরাগের মত জ্বলে উঠেন তিনি। তার সম্পদের বিবরণ শুনে যে কারো চোখ কপালে উঠার মতো অবস্থা।

শূন্য থেকে অঢেল সম্পদের মালিক হওয়া
মোঃ শাহাজান টেকনাফ ফুলের ডেইল মোঃ আক্কাসের ছেলে।

সম্প্রতি শাহজানের সম্পদের বিবরণ শুনে পুরো এলাকায় হৈ চৈ পড়েগেছে। চলছে জোর আলোচনা।তাকে নিয়ে স্থানীয়দের নানান মত। তবে সবাই ঘুরে ফিরে তার বিরুদ্ধে ইয়াবা সম্পৃক্ততা ও দখলবাজির অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা।

একাধিক সূত্র জানিয়েছে শাহাজান চট্রগ্রামের আগ্রাবাদে ১কোটি ৮০লাখ টাকা দিয়ে একটি বাড়ি ক্রয় করেছেন।নিজ এলাকা টেকনাফের হোয়াইক্যং করেছেন গ্যাস ও তেলের পাম্প। মেরিন ড্রাইভে পার্টনারে একটি হোটেল । এলাকায় ৬ বিঘা জমি ক্রয়। জায়গা কিনে দোকানপাট নির্মাণ। কাপড়ের দোকান। কম্পিউটারের দোকানসহ নামে বেনামে ব্যবসা ও সম্পদের পাহাড় গড়েছেন তিনি। চলাফেরা করার জন্য চট্র মেট্রো নং (৫৭২২) একটি প্রাইভেট কার, বসার জন্য বিলাসবহুল অফিসও করেছেন তিনি। স্থানীয়দের অনেকেই এসব বিষয় আগে না জানলেও এখন সবাই শাহাজনের সম্পদের মালিক হওয়া নিয়ে আলোচনা সমালোচনায় মুখর।

আনোয়ার নামে এক ব্যাক্তি জানান , সে ইয়াবা কারবার ও দখলবাজি করে এসব সম্পদ গড়েছেন। দখলবাজির জন্য সে নিজস্ব একটি সন্ত্রাসী বাহিনী লালন করেন। সে বাহিনী দিয়ে তার জমিতেেও বাঁধা প্রদান করছেন বলে জানান তিনি। গত কয়েকমাস আগে এনজিও ব্র্যাক কে সে তার জমির একটি অংশ ভাড়া দিলে শাহাজানের সন্ত্রাসী বাহিনী বাঁধা প্রদান করেন।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ দিলেও শাহাজান উপস্থিত হননি।

স্থানীয় নুরুল আলম জানান,শাহাজান গডফাদারদের ফাদার।সে মূলতো একজন ইয়াবা কারবারি বলে দাবি করেন তিনি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক জনপ্রতিনিধি বলেন, জাহাজান একজন চিহৃত ইয়াবা কারবারি। তবে দুঃখের বিষয় হচ্ছে তার নামে মাদকের কোন মামলা নেই। তিনি আরোও বলেন আমি শুনেছি, শাহাজান কয়েকজন অসৎ পুলিশ অফিসারকে প্রতিমাসে লাখ টাকা মাসোয়ারা দেন।

স্থানীয়দের দাবি, যেকজন ইয়াবার ব্যবসা করে মামলার আসামী না হয়ে কোটিপতি হয়েছেন তাদের একজন শাহাজান। মাদক মুক্ত করতে দেশের স্বার্থে এসব ইয়াবা ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা মামলা ও তাদের সম্পদ সরকারি কোষাগারে নেয়ার দাবি জানান তারা।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত দলিল লেখক শাহাজানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, মানুষের টাকা দিয়ে তিনি এসব করেছেন।
তিনি মাদকের সঙ্গে যুক্ত নয় বলেও দাবি করেন।

টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, বলেন তার নামে কোন মাদকের মামলা নেই।তবে তার উপর নজর রাখা হবে।

আপনার মতামত লিখুন :