ইনানি নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক পর্যন্ত চালু করা সময়ের দাবী।

Channel Cox.ComChannel Cox.Com
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ১০:৪০ AM, ৩০ ডিসেম্বর ২০১৯

সালাহ্ উদ্দিন জাসেদ,

শিক্ষা প্রতিটি মানুষের জন্মগত মৌলিক অধিকার। নাগরিকের শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ তৈরি ও শিক্ষা গ্রহণের মধ্য দিয়ে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলা প্রত্যেক রাষ্ট্রের দায়িত্ব। আর এ কারণেই শিক্ষার বিস্তারে সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময় নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং এর সুফলও জনগণ পেয়েছে। এরপরও দেখা গেছে, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে অনেক শিক্ষার্থীই শিক্ষা গ্রহণের ক্ষেত্রে নানা প্রতিবন্ধকতার শিকার হচ্ছে, যার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে কাছাকাছি স্কুল না থাকা। ফলে অনেক দূর-দূরান্তে গিয়ে শিক্ষার্থীদের পড়তে হয়। আলোকিত উখিয়া প্রকাশিত, উখিয়া উপজেলার জালিয়াপালং ইউনিয়নের পর্যটন নগরি ইনানি সহ এর দক্ষিণের শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন হাইস্কুলে যাওয়া-আসা করতে অনেকদূর পথ পাড়ি দিতে হয়। স্কুলে যেতে ও বাড়িতে আসতে দূর-দূরান্তের শিক্ষার্থীরা পথ পাড়ি দেয় তার মধ্যে রয়েছে পাহাড়ি এলাকা, সড়কপথ ও বালুময় হাঁটাপথ। এ পথ পাড়ি দিতে প্রতিদিন কৃষক পরিবারের সন্তানদের গুনতে হয় অন্তত ৪০-৫০ টাকা। এর মধ্যে যাদের খরচের টাকা ব্যয়ের সামর্থ্য থাকে না তারা অষ্টম শ্রেণির পর পড়াশোনা করার সুযোগ না পেয়ে ঝরে পড়ে। পর্যটন নগরি ইনানিসহ তারও দক্ষিণে একটি পূর্ণাঙ্গ হাইস্কুল না থাকায় অনেকে অষ্টম শ্রেণির পর লেখাপড়া করতে পারে না। এতে এলাকার মাধ্যমিক শিক্ষা ব্যাহত হচ্ছে।

উল্লেখ্য, সিকদার পাড়া, পুলিশ পাড়ি, শফির বিল গ্রাম, পাটুয়াটেক, চেংছড়ি, রুপতি, বাইল্যাখালি, ইমামেরডেল, প্রায় ৮ টি গ্রামের
একমাত্র বিদ্যাপীঠ ইনানি নিম্ন মাধ্যমিক উচ্চ বিদ্যালয়। এখানে ছাত্র-ছাত্রীদের ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া শেখানো হয়। জেএসসি পরীক্ষা পাস করার পর শিক্ষার্থীদের নবম ও দশম শ্রেণিতে পড়াশোনা করতে বিপাকে পড়তে হয়। কেউ পড়তে চাইলে যেতে হয় দূরের সোনার পাড়া উচ্চ বিদ্যালয় অথবা সোনার পাড়া দাখিল মাদ্রাসায়। এতে চলাচলে দুর্ভোগের যেমন সীমা থাকে না, তেমনি অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় ‘বোঝার ওপর শাকের আঁটি’ হয়ে ঘাড়ে চাপে। এ টাকা খরচের সামর্থ্য না থাকলে স্কুলের পাঠ চুকিয়ে দিতে হয় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের। অনেক সময় ঝড়-ঝাপটা, রোদ-বৃষ্টির অত্যাচার সয়ে তাদের লেখাপড়া চালাতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
এ অবস্থায় নিশ্চিতভাবেই বলা যায়, ইনানি নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়টিকে নবম ও দশম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদানের জন্য পূর্ণাঙ্গ হাইস্কুল হিসেবে অনুমোদন দিলে এলাকার অন্তত ৪৮০ জন ছাত্র-ছাত্রীর দুর্ভোগ কমে যেত। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত দ্রুতই এ অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের সমস্যা সমাধানে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া। পাশাপাশি দেশের আরও যেসব অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা এমন ধরনের দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছে তাদের প্রতিও সদয় দৃষ্টি প্রদান করে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া।

আপনার মতামত লিখুন :