কক্সবাজারে অধিগ্রহণকে কেন্দ্র করে ভূমি বিরোধে বাড়ছে হানাহানি

Channel Cox.ComChannel Cox.Com
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০২:২২ PM, ১০ জানুয়ারী ২০২০

শাহীন মাহমুদ রাসেল

কক্সবাজার জেলার ৮টি উপজেলায় ভূমি বিরোধের ফলে মারামারি, হানাহানি, দলাদলি, দখল-বেদখল, পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ফ্যাঁসাদ সৃষ্টি, মামলা-পাল্টা মামলা দিন দিন বেড়েই চলেছে। পক্ষ-বিপক্ষ একে অপরকে মিথ্যাভাবে ফাঁসানোর প্রতিযোগিতা চলছে প্রতিনিয়ত। এ ভুমি বিরোধের ফলে দালাল ও প্রভাবশালীদের উৎপাতে সর্বস্ব হারাচ্ছে এলাকার দরিদ্র পরিবারের সদস্যরা।

এ সব সামাল দিতে গিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ছে এলাকার নিরীহ পরিবারগুলো। আবাদি জমি, পুকুর, দখলী খাস জমি, ভিটি, বসতবাড়ী নিয়ে বিরোধ যেন লেগেই আছে। আবার কেউ হারাচ্ছে এতটুকুন সম্বল বসতভিটা।

জানা যায়, থানার বেশিরভাগ অভিযোগ ভুমি সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে। আর এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ফায়দা লুটছে এলাকার কিছু টাউট, বাটপার ও দালালেরা। তারা এলাকার কিছু বেকার যুবকদের টাকা-পয়সার লোভ দেখিয়ে বিরোধীয় জমি জবর দখলের মাধ্যমে এলাকায় সংঘাতের সৃষ্টি করে যাচ্ছে।

এসব দালালেরা কৌশলে জমির খতিয়ানভুক্ত পরিবারের সদস্যদের মধ্যে প্রথমে ভুমি সংক্রান্ত ফ্যাঁসাদ সৃষ্টি করে দেয়। পরে খতিয়ানের বিভিন্ন দাগাদির অংশ বিক্রির জন্য কুপরামর্শ দিয়ে থাকে। সেখানে তারা দালালি হিসেবে হাজার হাজার টাকা চুক্তি করে নিচ্ছে।

৮টি উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নের প্রায় এলাকায় চলছে এ বিরোধ। বিশেষ করে কক্সবাজার সদর, চকরিয়া, উখিয়া, মহেশখালী ও রামু উপজেলার নদী ভাঙ্গন এলাকা, রেল লাইন, কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকায় এ বিরোধ সবচেয়ে বেশি পরিলক্ষিত হচ্ছে।

এলাকার কিছু টাউট প্রকৃতির লোক আর এস, বি এস খতিয়ান সহ জমি সংক্রান্ত কিছু ধারনা থাকায় আইনজীবী এবং বিচারকের চেয়েও নিজেদের বেশি জ্ঞানী মনে করেন। মুখের জোরে প্রতিপক্ষকে ধরাশায়ী করার অপকৌশল অবলম্বন করতে দেখা যায়। এসব টাউট প্রকৃতির লোকেরা বেশিরভাগই থানা ও ইউনিয়ন পরিষদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে গলাবাজী করে বিচারের নামে দৈনিক ১ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করে থাকে। অথচ তাদের এ টাকা যোগান দিতে গিয়ে কিছু পরিবার সর্বস্ব হারাতে বসেছে।

দালালেরা স্থানীয় মেম্বার-চেয়ারম্যানদের আশ্রয়ে-প্রশ্রয়ে এবং থানার সম্মতির কারণে এসব দালাল, বখাটেরা পক্ষে-বিপক্ষের প্রতিনিধি পরিচয়ে চালিয়ে যাচ্ছে হঠকারিতামূলক কার্যকলাপ। এসব দালাল, টাউটের জন্য কিছু কিছু গ্রাম্য আদালতে চেয়ারম্যানদের পাশাপাশি একটি চেয়ার দখল করে থাকতেও দেখা যায়। এরা পক্ষে-বিপক্ষের অবস্থান নিলেও সবাই নিজেদের স্বার্থে সংঘবদ্ধ থাকে।

এলাকার সাধারণ দরিদ্র জনগণ বিরোধ মিমাংসার জন্য গ্রাম্য আদালতের স্মরণাপন্ন হয়ে দালালদের খপ্পরে পড়ছে প্রতিনিয়ত। অনেক সালিশকারক নিজে বিচারকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য আদালতে মামলা চলাকালীন অবস্থায় বিরোধীয় সম্পত্তিতে খুঁটি স্থাপনও করে দিতে দেখা গেছে।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সালিশকারক নামে একটি চক্র অসহায় গরীবদের জায়গা জমি বিরোধ মিটানোর নামে প্রহসন চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের এ সিন্ডিকেটটি পুরো ইউনিয়ন থেকে জেলা-উপজেলা পর্যন্ত সংঘবদ্ধভাবে গ্রাম্য আদালত থেকে শুরু করে থানা পর্যন্ত কাজ করছে বীরদর্পে।

কক্সবাজারের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো থাকলেও জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে সংঘাত লেগেই আছে। ফলে পক্ষদ্বয়ের মধ্যে মিচ মামলা, মারামারির মামলা, মারামারির ঘটনা যেন নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাড়িয়েছে। এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে দালাল চক্রটি সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এরা বিচারের নামে তাদের অর্থ আদায়, প্রয়োজনে থানায় মামলা রুজু করার দায়িত্বও নিয়ে থাকেন।

এ ব্যাপারে নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা বলেছেন, বর্তমানে জমির মূল্য অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় জমি সংক্রান্ত বিরোধ দিন দিন বেড়ে চলেছে। আদালতে দেওয়ানী মামলার দীর্ঘ সূত্রিতার কারনে স্থানীয় সালিশকারের সরণাপন্ন হচ্ছে। সাধারন মানুষ জমিজমার হিসাব বুঝেন না বিধায় এসব লোকদেরকে তাদের পক্ষে সালিশকার হিসেবে দিয়ে থাকেন। এরা দালালী করলেও সাধারণ বিচার প্রার্থীর পক্ষে থাকায় থানা কর্তৃপক্ষের কিছুই করার থাকে না। এ সকল বিচারিক কার্যক্রম থানা ক্যাম্পাসে না হয়ে অনেক সময় থানা পার্শ্ববর্তী চায়ের দোকানেও হয়ে থাকে।

সাধারণ মানুষ এর থেকে পরিত্রাণ চায়। এ ব্যাপারে তারা যথাযথ কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেন। সে সাথে দালাল চক্রকে থানায় প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ করার দাবী জনিয়েছেন। স্থানীয়দের দাবী, এসব দালালচক্র থানায় যেতে না পারলে জেলার বিভিন্ন থানায় মামলা-মোকদ্দমা আরো কমে যাবে বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন বিজ্ঞ মহল।

আপনার মতামত লিখুন :