ভুমিগ্রাসী চক্রের প্রতারণার শিকার খুরুশকুলের নয় হতদরিদ্র পরিবার

Channel Cox.ComChannel Cox.Com
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৯:০৭ PM, ১৪ জানুয়ারী ২০২০

বিশেষ প্রতিবেদক:

কক্সবাজার সদরের খুরুশকুলে জালিয়াতি করে নয়টি পরিবারের বসতভিটা দখলের অপেষ্টা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। সুরঞ্জন ধর নামে এক ব্যক্তি লাঠিয়াল বাহিনী দিয়ে দফায় দফায় হামলা চালাচ্ছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে এই হয়রানির মুখে পড়ে চরম অসহায় হয়ে পড়েছে এই অসহায় পরিবারগুলো।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, খুরুশকুল টাইমবাজার এলাকার মৃত অশি কুমার দে’র পুত্র রিক্সা চালক পরিমল দে’কে ১৫ বছর আগে প্রতারণার ফাঁদে ফেলেন একই এলাকার প্রফুল্ল ধরের পুত্র সে সময়ের চিহ্নিত মানবপাচারককারী সুরঞ্জন ধর। ১ লাখ ৪০ টাকার চুক্তি করে নগদ এক লাখ ৩০ হাজার টাকা আদায় করে। বাকি ১০ হাজার জন্য পরিমল দে’র পৈত্রিক অংশের পাওয়া বসত ভিটাটি বন্ধক হিসেবে রাখে সুরঞ্জ।

তবুও প্রতারণা করে ১লাখ ৪০ হাজার টাকার বিনিময়ে রিক্সা চালক পরিমল দে কে দিয়েছিল টু্রিস্ট ভিসা। এই ভিসা নিয়ে তিনি ওমান যেতে পারলেও সেখানে থাকতে পারেনি। তাই মাত্র তিন মাসের মাথায় ধরা পড়ে জেলে কেটে দেশে ফিরে আসতে হয় পরিমলকে। এতে পরিবার নিয়ে মারাত্মকভাবে অসহায় হয়ে পড়ে রিক্সা চালক পরিমল। কিন্তু তার পরে প্রতারক সুরঞ্জনের আরো ভয়াবহ প্রতারণার শিকার হয় পরিমলসহ তার পুরো পরিবার।

দেশে ফিরে আসার কয়েক মাসের মাথায় পরিমল ও তার ভাইদের বসতভিটা দখল করতে যায় সুরঞ্জন। তখন পরিমল ও তার ভাইয়েরা বুঝতে পারে সুরঞ্জনের ফাঁদে পড়ে আরো প্রতারণার শিকার হয়েছে তারা!

ভুক্তভোগী পরিমল তার ভাইয়েরা জানান, ভিসার ১০ হাজার টাকা বকেয়ার বিপরীতে সুরঞ্জন পরিমলের ভিটার অংশ বন্ধক নিলেও কাগজ করেছিলো ভুয়া! বন্ধকী কাগজে দাতা হিসেবে পরিমল এবং সাক্ষী হিসেবে তার ভাইদের স্বাক্ষর নিয়েছিল। কিন্তু প্রতারণার মাধ্যমে ওইটা ছিলো বেচা দলিল। অশিক্ষিত হওয়ায় বিষয়টা জানতে পারেনি পরিমলরা।

জমি রেজিস্ট্রি অফিসের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের সাথে যোগসাজস করে বন্ধকীর স্থলে ভুয়া দলিলে স্বাক্ষর নিয়েছিল প্রতারক সুরঞ্জন এবং জমি পরিমাণ লিখা হয়েছে ১০ কড়া। এই ভুয়া কাগজ দিয়ে ওই সময়েই ভাড়াটে লোকজন দিয়ে হামলা চালিয়ে পরিমলদের ওই যৌথ বসতভিটার সামনের অংশের দোকানঘরটি দখল করে নেয় এবং পাঁচ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নেয় সুরঞ্জন ধর। সে সময় হামলায় শিকার হয়ে পরিমলের বড় সুনারাম দে’র স্ত্রী মনষা দে গুরুতর আহত হয়ে কিছুদিন পর সে মারা যান।

প্রতারণার শিকার হওয়ার বিষয়টি বুঝার পর আদালতে মামলা করেছিলো পরিমল দে ও তার ভাইয়েরা। মামলাটি এখনো নিষ্পত্তি হয়নি। মামলা নিষ্পত্তি না হওয়ার জন্য নানাভাবে ষড়ডন্ত্র চালিয়ে আসছে সুরঞ্জন। অসহায় পরিবারটি মামলার ব্যয়ভার বহন করতে না পারবে তাই শেষ পর্যন্ত মামলা হাইকোর্টে নিয়ে যায় সুরঞ্জন। এদিকে সুরঞ্জনের ভাড়াটে লোজনের হামলায় পরিমল দে’র ভাবি নিহত হওয়ার ঘটনায়ও মামলা করতে পারেনি তারা। মোটা টাকা লেনদেন এবং প্রভাব কাটিয়ে সুরঞ্জন মামলাটি করতে দেয়নি।

এদিকে মামলা বিচারাধীন থাকলেও সেই থেকে বিভিন্ন সময় পরিমল দে ও তার ভাইদের বসতভিটাটা দখলের অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সুরঞ্জন। সম্প্রতিও কয়েক দফা অপচেষ্টা চালানো হয়েছে। শুধু তাই নয়; পরিমল দে ও তার ভাইদের মিথ্যা মামলা দায়েরসহ নানাভাবে ষড়যন্ত্র চালানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সুরঞ্জনের দফা দফায় হামলা এবং হুমকির মুখে অসহায় পরিমল দে ও তার ভাইয়েরা অসহায় পড়েছে। তারা প্রতিনিয়ত বসত ভাটা হারানোর অজানা শঙ্কায় ভুগছে। তাদের অসহায়ত্ব এবং আহাজারিতে এলাকার সাধারণ মানুষও ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে। বিষয়টি জানতে পেরে সম্প্রতি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও মানবাধিকারকর্মী নাজনীন সরওয়ার কাবেরী। তিনিসহ আরো অসংখ্য সাধারণ মানুষ তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

ভুক্তভোগী পরিমল দে বলেন, প্রতারক সুরঞ্জন ধরের ফাঁদে পড়ে আমি ও আমার পরিবার চির জীবনের জন্য ধ্বংস হয়ে গেছে। সুরঞ্জন আমাকে পথে বসিয়ে দিয়েছে। তার কারণে ঘরছাড়া হয়ে চট্টগ্রামে এসে যাযাবর জীবন কাটাচ্ছি। আমার বিবাহ উপযুক্ত পাঁচটি মেয়ে নিয়ে চরম দুর্দশায় জীবন কাটাচ্ছি। এই বৃদ্ধ বয়সেও রিক্সা চালিয়ে সংসার চালাতে হচ্ছে। এখন যদি মাথা গুজার জায়গাটি হারিয়ে ফেলি বউ-মেয়েগুলো নিয়ে কোথায় যাবো? প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

পরিমল দে’র বড় ভাই সনারাম দে বলেন, প্রতারক সুরঞ্জন ধর শুধু আমার ভাইয়ের সাথে জীবন শেষ করে দেয়নি। সে প্রতারণা করে সাক্ষী থাকার কথা বলে আমাদের অংশও ভুয়া দলিলে লিখে নিয়েছে। সে যে জালিয়াতি করেছে তা অত্যন্ত ভয়ংকর। এমন জালিয়াতি করে শাস্তি তো দূরের কথা; উল্টো আমাদের বাস্তুহারা করার ষড়যন্ত্র করছে। আমরা সুরঞ্জনের এই জালিয়াতির শাস্তি চাই এবং আমাদের নিরাপত্তা দেয়ার জন্য প্রশাসনের কাছে আকুল আহ্বান জানাচ্ছি।

নাজনীন সরওয়ার কাবেরী বলেন, যেখানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গৃহহীন মানুষদের ঘর দিতে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছে। সেখানে এই অসহায় দিনমজুর পরিবারগুলোকে উচ্ছেদ করার জন্য এই ভুমিদস্যু বিভিন্নভাবে উঠেপড়ে লেগেছে। এট সত্যিই দুঃখজনক। ভুমিদস্যুর হাত থেকে তাদের রক্ষা করতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও সংশিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এই নেত্রী।

অভিযুক্ত সুরঞ্জন ধর বলেন, তাকে আমি বিদেশ পাঠিয়েছিলাম, কিন্তু সে মেডিকেলে আনফিট হয়ে চলে এসেছে। তাকে বিদেশ নিয়ে যাওয়ার জন্য আমাকে জমি বিক্রি করেছে। তাছাড়া আমার কেনা জমি তাদের হাত থেকে আমি উদ্ধার করেছি। তিনি আরো বলেন, বর্তমানে তাদের দখলে আমার আরও জমি রয়েছে। অসহায় বলে তাদের থাকতে দিয়েছি।

আপনার মতামত লিখুন :