এক দুর্ধর্ষ প্রতারকের খপ্পরে পড়ে দু’সন্তান নিয়ে দিশেহারা গৃহবধু!

Channel Cox.ComChannel Cox.Com
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ১১:৩৫ AM, ০২ ফেব্রুয়ারী ২০২০

নিজস্ব প্রতিবেদক:

কক্সবাজার শহরে এক দুর্ধর্ষ প্রতারকের আভির্ভাব ঘটেছে। তার ভয়ানক প্রতারণা থেকে রেহাই পাচ্ছে না কেউ। সরকার প্রশাসন থেকে শুরু করে সমাজের বিত্তশালী পরিবারের কন্যা কিংবা গৃহবধু সবাই তার একের পর এক শিকারে পরিণত হচ্ছে। সরকারের বড় বড় প্রকল্পগুলোর অধিগ্রহণকৃত জমির অর্থ আত্মসাতে ভূয়া দলিল-খতিয়ান সৃজন, জনপ্রতিনিধি বা সরকারী কর্মকর্তাদের ব্যবহৃত সিল নকল করাসহ এমন কোনো দুঃসাহসী অপকর্ম নেই যা সে করেনি ইতিমধ্যে। এমনকি নিজেকে একজন কথিত সেনা কর্মকর্তার বিশ্বস্ত তল্পিবাহক হিসেবে পরিচয় দিয়ে থাকে এই প্রতারক। কখনও কখনও আইনের হাতে আটক হলেও সেসব ব্যাপারে একেবারেই বেপরোয়া এই দালাল। আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে কীভাবে জামিনে ছাড়া পেতে হয় সেটাও সে ভালো মতোই রপ্ত করেছে। আর এভাবে দিনে দিনে দুর্ধর্ষ হয়ে উঠছে সে। তার শিকারের থলিতে একের পর এক যুক্ত হচ্ছে ভুক্তভোগীর নাম। দীর্ঘ হচ্ছে আক্রান্তদের তালিকা।

এতক্ষণ যার কথা বলা হচ্ছে সে হলো- সদরের পিএমখালী ইউনিয়নের মাইজপাড়ার মৃত আবুল কাসেমের পুত্র নুরুল আবছার (৩৫)। ২০১৮ সালের ১৬ জানুয়ারী ৩বস্তা জাল দলিল, নকল সিল ও সরকারি বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রসহ আটক হয়েছিলো। অল্প কিছুদিন কারাবাস করে আইনের ফাঁক গলে জামিনে বেরিয়ে আসে। এরপর আবারও শুরু করে সেই পুরোনো কৃত্তিকলাপ। প্রভাবশালীদের ইন্ধনে যখন যেভাবে ব্যবহার হওয়ার হয়ে আসছে এই দুর্ধর্ষ প্রতারক আবছার। প্রশাসনের সাথে পেরে উঠা এই প্রতারকের সাহস এখন আকাশচুম্বি। প্রশাসন যেখানে নস্যি সাধারণ মানুষ তার কাছে কিছুই নয়। সম্প্রতি কক্সবাজার শহরের তারাবনিয়ার ছড়া এলাকার এক বিত্তশালী পরিবারের মেয়ের বিরুদ্ধে আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করে। জানা যায়- মিথ্যা টাকা পাওয়ার অজুহাত তোলে ধরে চেক ডিজ-অনারের মামলাটি করে ওই মেয়ের সংসার ভেঙে দেওয়া চেষ্টা করছে আবছার। মামলাটির নথি যাচাই করে জানা যায়- সাড়ে ১৮লাখ টাকার লেনদেনের কথা উল্লেখ করে মামলাটি করা হয়। তবে ওই নথির কোথাও উল্লেখ নেই প্রতারক আবছার মেয়েটির সাথে কিভাবে পরিচিত এবং কেনো মেয়েটিকে আবছার সাড়ে ১৮লাখ টাকা ঋণ দিয়েছিলো।

অনুসন্ধানে জানা যায়- কক্সবাজার শহরের তারাবনিয়ার ছড়া এলাকার আ. ম সিরাজুল হকের মেয়ে সাজিয়া হক নিপুনের বিরুদ্ধে উক্ত চেক প্রতারণা মামলাটি করে দুর্ধর্ষ জমির দালাল প্রতারক আবছার। ঘটনাচক্রে- সাজিয়া হক নিপুনের পূর্বের বিচ্ছেদ হওয়া স্বামী ইফতেখারের ইন্ধনে উক্ত মামলাটি করে আবছার। অথচ আবছার এবং নিপুন কেউ কাউকে কখনওই চিনতো না। নিপুনের ভাষ্যমতে- নিপুনের স্বাক্ষরিত বেশকিছু ব্যাংক চেক তার পূর্বের স্বামী ইফতেখারের সংসার করার সময় তার হাতে জমা ছিলো। ইফতেখার সুপরিকল্পিতভাবে নিপুনকে তালাক দিয়ে সংসার ত্যাগ করতে বাধ্য করে। এরপরে নিপুন যেনো ইফতেখারের কাছে কোনো ধরণের ক্ষতিপূরণ আদায় করতে না পারে এবং নিয়মিত ঝামেলায় জড়িয়ে যায় এজন্য নতুন ফন্দি আঁটে। ইফতেখার তার বন্ধু ভূমিদস্যু দালাল চিহ্নিত প্রতারক নুরুল আবছারকে বাদি করে ওই ব্যাংক চেকগুলোর একটিতে সাড়ে ১৮লাখ টাকা লিখিয়ে নিয়ে অহেতুক একটি মিথ্যা চেক প্রতারণা মামলা করিয়ে নেয়। গত ২২ এপ্রিল, ২০১৮ উক্ত মামলাটি করে। বলাবাহুল্য যে, এই কথিত চেক প্রতারণা মামলাটিতে অন্যতম স্বাক্ষী দেখানো হয়েছে- ঝিলংজার চান্দের পাড়ার মৃত আবু ছৈয়দের পুত্র ছৈয়দুল হককে। এই সেই ছৈয়দুল হক যে কিনা চ্যাঞ্চল্যকর ৩ বস্তা ভূয়া দলিল বানানোর ঘটনায় অন্যতম আসামী হিসেবে আটক হয়েছিলো। ২০১৮ সালের ১৬ জানুয়ারীর উক্ত ঘটনায় প্রতারক আবছারের সাথে এই ছৈয়দুল হকও একসঙ্গে আটক হয়েছিলো প্রশাসনের হাতে। এখন আবার তারা উভয়েই একজন অসহায় নারীর বিরুদ্ধে চেক প্রতারণা মামলা করেছে।

এরপর থেকে নিপুনের জীবনে নেমে আসে গাঢ় অন্ধকার। দুটো বাচ্ছা নিয়ে সে এখন অসহায় দিনাতিপাত করছে। না পারছে নতুন স্বামীর সংসারে ঠিক মতো সময় দিতে, না পারছে আগের সংসারের কাছ থেকে ধারণ করা দুটো সন্তানকে ঠিক মতো যত্ন নিতে। এর উপর রয়েছে পূর্বের স্বামী ইফতেখারের ইন্ধনে তার বন্ধু প্রতারক আবছার কর্তৃক চেক ডিজ-অনার মামলার বোঝা। যদিও নিপুন এখন হাজিরায় রয়েছেন। কিন্তু বর্তমান স্বামীর আবাসস্থল রাজধানী ঢাকাতে হওয়ায় দীর্ঘপথ পাড়ি দিয়ে কিছুদিন পরপর হাজিরা দিতে আসা এবং উক্ত মিথ্যা দাবীকৃত সাড়ে ১৮লাখ টাকা প্রদানের আইনী বিপদ মোকাবেলা করতে গিয়ে তিনি হিমসিম খাচ্ছেন। অথচ হওয়ার কথা ছিলো উল্টো। যেখানে ইফতেখার নিপুনকে মধ্যযুগীয় কায়দায় মারধর করে সংসার ত্যাগ করতে বাধ্য করেছে এবং অপবাদ দিয়ে তালাক প্রদান করেছে। সেখানে আইনগতভাবে নিপুন দুটো সন্তান লালনপালন করতে ও সংসার ভঙ্গের ক্ষতিপূরণ পাওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু হয়েছে উল্টো ঘটনা। প্রতারক আবছার ও ইফতেখার উভয়ের যোগসাজসে আজ নিপুন অসহায় দিনাতিপাত করছে। তাকে ফাঁসানো হয়েছে মামলার জালে। নতুন স্বামীর সংসারে ঠিক মতো সংসার করতে দিচ্ছে না। বাচ্চা দুটোর ঠিক মতো যত্ন নিতে দেওয়া হচ্ছে না। এযেনো এক নব্য আইয়্যামে জাহিলিয়্যাতের পদধ্বনি।

এবিষয়ে অভিযুক্ত আবছারের কাছে জানতে চাইলে তিনি দাবী করেন- নিপুন তার কাছ থেকে সাড়ে ১৮লাখ টাকা ধার নিয়েছে। ওই টাকা চেক মূলে ফেরত দেওয়ার কথা ছিলো কিন্তু সময় মতো ফেরত না দেওয়ায় চেক ডিজ-অনার মামলাটি করেছেন। কিন্তু কেনো, কোন কারণে একটি অপরিচিত মেয়েকে এতোগুলো টাকা ধার দিয়েছেন জানতে চাইলে তিনি কোনো সদুত্তর না দিয়ে পাল্টা প্রতিবেদকের পরিচয় জানতে চান। প্রতিবেদকের পরিচয় নিশ্চিত হলে তিনি ফোন লাইন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। এরপর একাধিকবার চেষ্টা করেও আবছারের বিস্তারিত বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

আপনার মতামত লিখুন :