বিধবা ও তিন এতিম মেয়ের সম্পত্তি দখল করে রেখেছে কালারমারছড়া হোসেন ড্রাইভার

Channel Cox.ComChannel Cox.Com
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ১০:০৯ PM, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২০

নিজস্ব প্রতিবেদক:
মহেশখালী উপজেলার কালারমারছড়া বহুল সমলোচিত হোসেন ড্রাইভারের বিরুদ্ধে তার মৃত চাচার বিধবা স্ত্রী ও তিন এতিম মেয়ের জমি দখল রাখার অভিযোগ পাওয়া গেছে। চাচার মৃত্যুর পর অসহায় হয়ে পড়ার সুযোগ নিয়ে হোসেন ড্রাইভার তার ভাইয়ের মিলে এসব জমি দখল রেখেছে। এতে ওই বিধবা ও তিন এতিম মেয়ে অতি কষ্টে এতিম খানায় লালিত-পালিত হয়েছে। তারা দীর্ঘদিন ওই জমিগুলো উদ্ধারের চেষ্টা করলেও কোথাও সুবিচার পায়নি।

অভিযোগ মতে, মহেশখালী উপজেলার কালারমারছড়ার সোনার পাড়ার মৃত নুরুজ্জামানের চারপুত্র। তার মধ্যে মোস্তাক চতুর্থ। তিনি দীর্ঘদিন প্রবাসে ছিলেন। তার আয় করা টাকা দিয়ে বাবার নামে জমি-জমা কিনেছিলেন। প্রবাস থেকে এসে বিয়ে করেন হোয়ানক ইউনিয়নের খোরশা পাড়া গ্রামের আনোয়রা বেগমকে। ওই স্ত্রীর গর্ভে সানজিদা মোস্তারীণ নামে এক কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। কিন্তু তার জন্মের কিছুদিন পরই তাদের সংবাদ ভেঙে যায়। পরে শাপলাপুর থেকে মাবিয়া খাতুন নামে এক নারী তিনি বিয়ে করেছিলেন। ওই স্ত্রীর গর্ভে পর পর তিন কন্যা সন্তান জন্ম হয়। ওরা ছোট থাকতেই ২০০২ সালে আকস্মিক মৃত্যুবরণ করেন মোস্তাক আহামদ। বড়স্ত্রীর কন্যা সানজিদা মোস্তারীণ নানাবাড়িতে লালন-পালন হলেও চরম বিপাকে পড়ে দ্বিতীয় স্ত্রী মাবিয়া খাতুন এবং তিন কন্যা রোজী আকতার, মোমেনা আকতার ও আয়শা আকতার। এই কঠিন অবস্থায় মোস্তাক আহমদের অংশে পাওয়া জমিগুলো দখলে নিয়ে মৃত জাফর আহমদ পুত্র পুত্র হোসেন ড্রাইভার ও তারভাইসহ তার অন্যান্য ভাই চাচাতো ভাইয়েরা।

মোস্তাক আহামদের বিধবা স্ত্রী মাবিয়া জানান, মোস্তাক আহামদ মারা যাওয়ার পর চাচা ও চাচাতো ভাইয়েরা সাহায্য করবে তো দূরের কথা; উল্টো আমাদের সব জমিগুলো দখল করে নেয়। এমনকি বসতভিটা থেকে পর্যন্ত তাড়িয়ে দেয়। আমাদের এই অমানবিক আচরণ বেশি ভূমিকা রেখেছিলো হোসেন ড্রাইভার। এছাড়াও তার ভাই ।

মোস্তাক আহামদের বিধবা স্ত্রী মাবিয়া আরো বলেন, স্বামীর মৃত্যুর পর আমার কোনো অবলম্বন ছিলো না। সবগুলো মেয়ে হওয়ায় তাদের মহা বিপদে পড়ে গিয়েছিলাম। এর মধ্যে অত্যন্ত নিষ্ঠুর কায়দায় আমাদেরকে সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করে ভিটা থেকে পর্যন্ত তাড়িয়ে দিয়েছিলো। আমার গর্ভের তিন ছোট ছোট তিন মেয়ে কক্সবাজার ইসলামির মাদ্রাসার এতিম খানায় রেখেছিলাম। সেখানে বড় হয়েছে। সেখান থেকেই তাদের বিয়ে হয়েছে।

মোস্তাক আহামদের প্রথম স্ত্রীর কন্যা আইন বিষয়ে মাস্টার্স করা সানজিদা মোস্তারীণ বলেন, আমার দ্বিতীয় মা এবং তার বোনেরা অত্যন্ত অর্থ কষ্টের মধ্যে দিন পার করেছে। কিন্তু কত নিষ্ঠুর এবং জঘন্য হলে অসহায় মানুষের সমস্ত জমি কেড়ে নিতে পারে। ওই সব জমি থেকে বছরে ৫০ হাজার টাকা বেশি আয় হয়। ২০/২২ বছর ধরে তারা আমাদের জমিগুলো ভোগ দখল করে যাচ্ছে। ওই টাকা পেলে আমার বিধবা মা ও এতিম বোনদের এতিম খানায় বড় হতো না। আমাদের জমি উদ্ধারে আমরা বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে চেষ্টা করেছি। এলাাকার চেয়ারম্যানসহ বিভিন্নজনের কাছে গিয়েছি। কোথাও সুবিচার পায়নি। আমরা অসহায় বলে কেউ আমাদের সহযোগিতা করেনি।

তিনি বলেন, বহু বছর তারা আমাদের জমিগুলো ভোগ করেছে। আর খেতে পারবে না। আমরা এবার আমাদের জমি ফেরত চাই। আমাদের জমি উদ্ধার করে দেয়ার জন্য আমরা মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ওসির কাছে আকুল আহ্বান জানাচ্ছি।

আপনার মতামত লিখুন :