পিএমখালীতে এতিমখানার জমি দখল নিতে শাহেদুল মোস্তফা মরিয়া

Channel Cox.ComChannel Cox.Com
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ১১:৫৫ PM, ০৮ মার্চ ২০২০

বিশেষ প্রতিবেদক:

কক্সবাজার সদরের পিএমখালীতে সাধারন জনগনকে জিম্মী করে এতিমখানা ও হাফেজখানার জায়গা জবর দখলের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

তোতকখালী গ্রামের বশির আহমদ (প্রকাশ সুদি বশির) এর পুত্র তার বিরুদ্ধে পিএমখালী ইউনিয়ন জুড়ে সন্ত্রাস বাহিনী দ্বারা ভূমিদস্যুতা সহ রয়েছে নানা অপকর্মের অভিযোগ। তার হাতে জিম্মী জুমছড়ী এলাকার সাধারন জনগন। এবং এতিমখানা ও হাফেজখানার যায়গা জবর দখলের অভিযোগও রয়েছে। তার বিরুদ্ধে কক্সবাজার মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে যার মামলা নং ৫৯/২০ ইং।

স্থানীয় সূত্র মতে, দীর্ঘ বছর ধরে সে পিএমখালী ইউনিয়ন জোড়ে রাজত্ব কায়েম করার চেষ্টা করে আসতেছিল। কিন্তু প্রশাসনের সুদৃঢ় অবস্থানের কারনে প্রতি বারই সে ব্যর্থ হই। কিন্তু সবার অঘোচরে সে ভূয়া খতিয়ান তৈরী করে এতিমখানা ও হাফেজখানা উচ্ছেদ করে যায়গা জোর জবর দখল করবে বলে হুমকি ধমকি দিচ্ছে বলে জানা যায় । তার বিরুদ্ধে এলাকায় তীব্র নিন্দার ঝড় শুরু হয়েছে। সর্বস্থরে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে।

মামলার বাদী হাজী নুরুল কবির জানান, তারা আরএস সূত্রে পিএমখালীর জুমছড়ী চেরাংঘর স্টেশনে যায়গা জমির খরিদ সূত্রে প্রকৃত মালিক। তারা ১৯৭৮ ইংরেজী হতে ভোগ দখল করে আসতেছিল উক্ত যায়গা জমি। দীর্ঘ বছরের দোকানঘর এমনকি এতিমখানা,হাফেজখানা এবং চাষাবাদের জমি তাদের দখলে রয়েছে।

কিন্তু হঠাৎ করে শুনা যাচ্ছে পিএমখালীর ভুমিদস্যু শাহেদুল মোস্তফা তাদের জমি জোর জবর দখল করা শুরু দিয়েছে। স্থানীয় চিহ্নিত কিছু সন্ত্রাসীর আদলে সে এমন অপকর্ম করেই যাচ্ছে। তার পোষ্য লাঠিয়াল বাহিনী ধারা আমার যায়গায় রাতারাত খুটি ও সাইনবোর্ড টাঙাই। যার প্রতিটা চিত্র প্রতিবেদকের হাতে রয়েছে।

তিনি আরোও জানান, ভূয়া খতিয়ান দেখিয়ে যায়গা দখলের অপচেষ্ট চালাই সে। পরে বিষয়টা খতিয়ে দেখে জানতে পারি সে ভূয়া খতিয়ান বানিয়ে আমাদের হয়রানি ও মোটা অংকের টাকা চাঁদাবাজি করার উদ্দেশ্যে এমনটা করছে। এলাকায় তার রয়েছে লাঠিয়াল বাহিনী। সমাজের নিম্নশ্রেণীর কিছু টোকাই দিয়ে আমাদের প্রতিনিয়ত হেনস্থা করেই যাচ্ছে। তাদের হাতে এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ জিম্মী তাই কেউ প্রতিবাদ করতে চাইলে লাঞ্চিত করে তাই প্রকাশ্যে কেউ মুখ খোলছেনা।

এই ব্যাপারে পিএমখালী ইউনিয়নের নাম জানাতে অনিচ্ছুক কিছু সচেতন ব্যক্তি জানান, উক্ত যায়গা জমি দীর্ঘ বছর ধরে এতিমখানা ও হাফেজখানা সহ মৌলভী নুরুল কবির গং ভোগ দখল করে আসিতেছে। হঠাৎ করেই একজন ভূমিদস্যু উড়ে এসে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করবে তা আমাদের মোটেও কাম্য নই। আমরা উক্ত ভূমি দস্যুর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করার জোর দাবী জানাচ্ছি সে সাথে প্রশাসনের সুষ্টু তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধীকে আইনের আওতায় আনা হউক।

মুঠোফোনে পিএমখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাষ্টার আবদুর রহিম জানান, আমি বিষয়টি অবগত এবং ঘটনা শুনেছি। শাহেদুল মোস্তফা প্রকৃত পক্ষে একজন খারাপ মানুষ। আমি প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করছি। বিষয়টির সুষ্টু তদন্তপূর্বক অপরাধীকে আইনের আওতায় আনা হউক। এবং ঐতিহ্যবাহী হাফেজখানা ও এতিম খানা সহ স্থানীয় সাধারন জনগনের চাষাবাদের জমি, ভূমি দস্যু হতে রক্ষা থাকুক।

এই ব্যাপারে অভিযুক্ত শাহেদুল মোস্তফার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে, প্রতিবেদকের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর কোন সদোত্তর না দিয়ে সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক মাহমুদুল করিম মাদু কে মুঠোফোন হস্তান্তর করেন।

তিনি বলেন, আমরা ২০ জনেরর একটি সিন্ডিকেট কাগজ পত্র যাচাই বাছাই করে উক্ত যায়গাটি ক্রয় করি। তারা যদি যায়গার মালিক হয়ে থাকে কাগজ পত্র নিয়ে যেকোন যায়গায় বসতে আমার কোন আপত্তি নাই।

তিনি আরোও বলেন, ইতপিূর্বে তারা সদর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন সেখানে আমরা উক্ত জমির কাগজ পত্রের একটি ফাইল থানা কর্তৃপক্ষকে দিয়ে রেখেছি। তারপরেও তারা যদি মিমাংসা করতে চাই যে কোন যায়গায় এডভোকেটের মাধ্যমে আমার কোন আপত্তি নাই।

আপনার মতামত লিখুন :