সাংবাদিক নির্যাতনকারী নাজিম উদ্দিনের কুকীর্তির ফের তদন্ত

Channel Cox.ComChannel Cox.Com
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ১১:২৪ AM, ১৯ মার্চ ২০২০

ইমাম খাইর, কক্সবাজার
কুঁড়িগ্রামে সাংবাদিক নির্যাতন চালিয়ে দেশব্যাপী ফের আলোচনায় আসা সিনিয়র সহকারী কমিশনার (আরডিসি) নাজিম উদ্দিন কক্সবাজারে এসিল্যান্ড থাকাকালে নফু মাঝি নামে এক বৃদ্ধ কৃষকের উপর নির্যাতন চালানোর ঘটনাটি ফের তদন্ত হয়েছে। গত প্রায় পৌনে ২ বছর আগে সংঘটিত এ কৃষক নির্যাতনের ঘটনাটি তদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহমদুল্লাহ মারুফের নেতৃত্বে একটি দল বুধবার (১৮ মার্চ) ঘটনাস্থল শহরতলীর দরিয়ানগরে যায়। সেখানে নির্যাতিত কৃষক নফু মাঝিসহ ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের মৌখিক ও লিখিত সাক্ষ্য নেন তারা। প্রত্যক্ষদর্শী এলাকাবাসী ঘটনার বর্ণনা দেন। এ সময় অনেকেই নাজিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করে উপযুক্ত শাস্তির দাবী জানায়।


নাজিম উদ্দিন ২০১৮ সালে কক্সবাজার সদরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসিল্যান্ড থাকাকালে বৃদ্ধ কৃষক মোহাম্মদ আলী প্রকাশ নফু মাঝিকে কান ও জামার কলার ধরে টানতে টানতে নিয়ে আসার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। এরপর আরো নানা দূর্নীতির অভিযোগে তাকে কক্সবাজার থেকে স্ট্যান্ড রিলিজ করে রাঙ্গামাটি পার্বত্য এলাকার জুড়াছড়ি উপজেলায় বদলী করা হয়। পরে সেখান থেকে সিনিয়র সহকারী কমিশনার পদে পদোন্নতি পেয়ে কুঁড়িগ্রাম জেলা প্রশাসনের রেভেনিউ ডেপুটি কালেক্টর (আডিসি) পদে যোগদান করেন তিনি। সেখানেই বাংলা ট্রিবিউনের সাংবাদিকের উপর নির্যাতন চালিয়ে দেশজুড়ে ফের আলোচনায় আসেন নাজিম উদ্দিন। আর ফের ভাইরাল হয়ে ওঠে কৃষক নির্যাতনের সেই ভিডিওটি। ইতোমধ্যে নাজিমউদ্দিকে কুঁড়িগ্রাম থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তার নানা অনিয়ম-দূর্নীতি ও নির্যাতন নিয়ে ফের তদন্ত শুরু হয়েছে। এরমধ্যে কক্সবাজারে কৃষক নির্যাতনের ঘটনাটি তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছেন কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ মাহমদুল্লাহ মারুফ। বুধবার দুপুরে সদর ইউএনও’র নেতৃত্বে তদন্ত দলটি ঘটনাস্থল শহরতলীর দরিয়ানগর পরিদর্শন। সেখানে নির্যাতিত কৃষক নফু মাঝিসহ ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের মৌখিক ও লিখিত সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। এসময় ভাইরাল হওয়া কৃষক নির্যাতনের সেই ভিডিও ধারণকারী ও দৈনিক আজাদীর কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি আহমদ গিয়াসও ঘটনার লিখিত সাক্ষ্য দেন। তদন্ত রিপোর্টটি বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে জমা দেয়ার কথা।
প্রায় দেড় বছর আগে খাগড়াছড়ির সিনিয়র সহকারী কমিশনার অজিত দেব এর নেতৃত্বে গঠিত একটি কমিটিও ঘটনাটি তদন্ত করে। তবে ওই তদন্ত রিপোর্টে নাজিম উদ্দিনকে অভিযোগ থেকে মুক্তি দেয়া হয়েছিল বলে জানা গেছে। যেকারণে তার পদোন্নতিতে কোন বেগ পেতে হয়নি।
সব কর্মস্থলে বারবার অপরাধ করেও অদৃশ্য কারণে পার পেয়ে যায় বিতর্কিত কর্মকর্তা নাজিম উদ্দিন। তিনি যেখানেই দায়িত্ব পালন করেছেন নিজের আচরণের কারণে সেখানেই বিতর্কিত ও জনরোষের শিকার হন। বিশেষ করে সাংবাদিদের উপর তিনি ‘খুব বিরক্ত’ ভাব দেখান।
কক্সবাজারে দায়িত্ব পালনকালে বহু বিতর্কিত কাজে হাত দেন। অবৈধ উপায়ে টাকা কামাই করেন। তাকে ‘স্যার’ না ডাকায় সাংবাদিকসহ অনেককে বেইজ্জত করে ছাড়েন। পকেটভরে টাকা নিয়ে কক্সবাজার ছাড়েন। মাত্র ৬ বছরে হাজার কোটি টাকার মালিক দিনমজুরের ছেলে নাজিম উদ্দিন। নিজের এলাকায় স্বনামে বেনামে গড়েন অট্টালিকা। ছাত্র জীবনে ছাত্রদলের রাজনীতি করলেও আওয়ামী পিরিয়ড়ে চাকুরির সুবাদে বনে যান মহাআওয়ামী লীগ। কথায় কথায় ক্ষমতার ভয় দেখান অপরকে। অবশেষে কুড়িগ্রামের সাংবাদিক আরিফুল ইসলামকে নির্যাতনের সুত্র ধরে বেরিয়ে আসতে শুরু করে দরিদ্র বাবার ‘কুসন্তান’ নাজিম উদ্দিনের কুকীর্তি।

আপনার মতামত লিখুন :