করোনা ভাইরাস ও রোগ-ব্যাধি থেকে মুক্তি পেতে মুমিনের করণীয়

Channel Cox.ComChannel Cox.Com
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ১১:৫৭ PM, ১৯ মার্চ ২০২০

এম.কলিম উল্লাহ:
যখন সমাজ ও দেশের বেশির ভাগ মানুষ পাপাচার, ব্যাভিচার, অন্যায় এবং নিজ প্রভুকে ভুলতে বসে তখনই আল্লাহ তাআলা তার পক্ষ থেকে বিভিন্ন আজাব-গজব আমাদের ওপর নেমে আসে।

পবিত্র কুরআনে আল্লাহপাক বলেন-‘আর তোমাদের কৃতকর্মের কারণই তোমাদের ওপর বিপদ নেমে আসে। অথচ তিনি অনেক কিছুই উপেক্ষা করে থাকেন।’
(সুরা শুরা : আয়াত ৩০)

করোনা ভাইরাস ও রোগ-ব্যাধি থেকে একমাত্র আরোগ্যদানকারী মহান আল্লাহ তাআলার ওপর পরিপূর্ণ বিশ্বাস , ধর্য্যধারন , সচেতনতা অবলম্বন, সুচিকিৎসা ও বেশি বেশি তওবা ইস্তেগফারের এর মাধ্যমে করুণা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ও সাধারণ রোগ-ব্যাধি থেকে আমরা রক্ষা পেতে পারি।

১) এ বিশ্বাস রাখা যে,রোগ-ব্যাধিতে একমাত্র আরোগ্যদানকারী মহান আল্লাহ। তিনি ছাড়া অন্য
কেউ রোগ থেকে মুক্তি দিতে পারে না।
আল্লাহ তায়ালা বলেন:
ﻭَﺇِﺫَﺍ ﻣَﺮِﺿْﺖُ ﻓَﻬُﻮَ ﻳَﺸْﻔِﻴﻦِ “
(ইবরাহীম আ. বললেন) যখন আমি অসুস্থ হই তখন তিনিই আমাকে সুস্থতা দান করেন।” (সূরা শুয়ারা: ৮০) ওষুধ-পথ্য কেবল মাধ্যম। মহানআল্লাহই এ সব ওষুধে রোগমুক্তির কার্যকারিতা দান করেছেন। ওষুধকেই মুল আরগ্যদানকারী মনে না করা।

২) সবর করা: কারণ, রোগ-ব্যাধি আল্লাহর তকদীরের অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং আল্লাহর ফয়সালার উপর সন্তুষ্ট থাকা এবং সবর করা ঈমানের দাবী।
সবরের মর্যাদা সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা বলেন,
ﻭَﺍﺻْﺒِﺮُﻭﺍ ﺇِﻥَّ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﻣَﻊَ ﺍﻟﺼَّﺎﺑِﺮِﻳﻦَ .
আর তোমরা ধৈর্য ধর, নিশ্চয় আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন’ (সূরা আনফাল: ৪৬)।

তিনি আরও বলেন:
ﺇِﻧَّﻤَﺎ ﻳُﻮَﻓَّﻰ
ﺍﻟﺼَّﺎﺑِﺮُﻭﻥَ ﺃَﺟْﺮَﻫُﻢْ ﺑِﻐَﻴْﺮِ ﺣِﺴَﺎﺏٍ
“ধৈর্যশীলদেরকেই তাদের প্রতিদান পূর্ণরূপে দেয়া হবে
কোন হিসাব ছাড়াই।” (সূরা যুমার: ১০)।

সবরের পরিচয় হল:
(ক) মনোক্ষুন্ন না হওয়া এবং হা হুতাশ ও বিরক্তি
প্রকাশ করা থেকে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করা।
(খ) মানুষের কাছে রোগ- ব্যাধির ব্যাপারে বেশী অভিযোগ করা থেকে বিরত থাকা।
(গ) এমন সব কথা ও আচরণ থেকে দূরে থাকা যা ধৈর্য
হীনতার পরিচয় বহন করে।

৩) ধৈর্যের সাথে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শে চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া। এ বিশ্বাস রাখা যে,অসুখ হলে আল্লাহ তায়ালা ঈমানদারের গুনাহ মোচন করেন এবং তাঁর নিকট তার মর্যাদা বৃদ্ধি করেন। একজন প্রকৃত মুমিন সর্বাবস্থায় দৃঢ়ভাবে এ কথা বিশ্বাস করে যে, সে যে অবস্থায় আছে, তাতে কোনো কল্যাণ নিহিত রয়েছে।
যেমন সহীহ মুসলিমে প্রখ্যাত সাহাবী সুহাইব ইবন সিনান রা. থেকে মারফূ‘ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে,
‘মুমিনের বিষয়টা বড়ই অদ্ভূত! তার সব অবস্থাতেই কল্যাণ থাকে। এটি শুধু মুমিনেরই বৈশিষ্ট্য যে, যখন সে আনন্দে থাকে, তখন আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করে এবং যখন সে কষ্টে থাকে, তখন সবর করে। আর এ উভয় অবস্থাই তার জন্য কল্যাণ বয়ে আনে।’

৪) রোগ-ব্যাধিতে বেশি বেশি আল্লাহর নিকট তওবা
করা এবং সুস্থতার জন্য মহান আল্লাহর দরবারে বেশি বেশি দুয়া করা। সুস্থ অবস্থায় মানুষ আল্লাহর এই নিয়ামত সম্পর্কে গাফেল থাকে। তাই অসুস্থ হলে তার সামনে আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া আদায়ের পাশাপাশি নিজের গুনাহের জন্য মহান আল্লাহর নিকট তওবা করার এবং তার নিকট দোয়া ও আরাধনা করার সুযোগ সৃষ্টি হয়। তাই এ অবস্থায় বেশি বেশী তওবা-ইস্তিগফার, দোয়া এবং আল্লাহর কাছে ফিরে আসার মাধ্যমে তার প্রিয় ভাজন বান্দাদের অন্তর্ভূক্ত হওয়ার এ সুযোগকে হাত ছাড়া করা উচিৎ নয়।

৫. যে কোন বিপদগ্রস্থ মানুষের সাহায্যে হাত বাড়িয়ে দেয়া। রাসুল সা.বলেন-যে ব্যক্তি তার ভাইয়ের সাহায্যে হাত বাড়িয়ে দেন আল্লাহ তাআলা তাকে সাহায্য করতে থাকেন- মিশকাত হাদীস নাং-৪৯৫৮।

৬. বেশি বেশি এই দুআ পড়া।
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْبَرَصِ، وَالْجُنُونِ، وَالْجُذَامِ، وَمِنْ سَيِّئِ الأَسْقَامِ
আল্লাহুম্মা ইন্নি আউযু বিকা মিনাল বারাসি ওল জুনুনি ওল জুযামি ওমিন সায়্যিইল আসকম।

بِسْمِ اللَّهِ الَّذِي لَا يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ فِي الْأَرْضِ وَلَا فِي السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ
এই দুআ বাদ ফযর ও বাদ মাগরীব তিনবার করে পড়তে হবে। রাসুল সা. বলেন- ঐদিন আল্লাহ তাকে মাখলুকের অনিষ্ঠ থেকে হিফাযত করবেন। আবু দাউদ হাদীস-৫০৮৮।

৭. বিশেষজ্ঞগণ যা পরামর্শ দিয়েছেন সেগুলো মেনে চলা।
আপনাদের জ্ঞাতার্থে নিম্মে তার কিছুটা উল্লেখ করা হলো-১. বেশি বেশি হাত ধৌত করুন। ২. ঘন ঘন পানি পান করুন ৩. এন্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ যেমন লেবু, গাজর টমেটো ইত্যাদী খাবার খান। ৪. কোক,ফাস্টফুড,তেলে ভাজা খাবার পরিহার করুন। ৫.পরিচ্ছন্ন থাকুন ৬.গণহাত যেখানে স্পর্শ করে সেখানে হাত দেয়া থেকে বিরত থাকুন। ৭.খোলা খাবার বাদ দিন। ৮. বাইরে গণচায়ের কাপ পরিহার করুন। ৯. গুজবে কান দেবেন না ১০.বাইরে গেলে হাতে গ্লভস ব্যবহার করুন। ১০. বোরকা, হিজাবসহ পর্দার সবটুকু মেনে চলুন ১১. নিত্য ব্যবহার্য্য বস্তুও পারসোনাল ব্যবহার করুন।

পরিশেষে, মহান আল্লাহ তায়ালা যেন, পৃথিবীর সকল করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ও সাধারণ রোগ-ব্যাধি থেকে মানুষকে সুস্থতা দান করেন এবং কষ্ট ও দুর্দশায় নিপতিত প্রতিটি মানুষের কষ্ট ও দূর্দশা লাঘব করে দেন। আমীন।

আপনার মতামত লিখুন :