ঝালকাঠিতে সুদ ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়ায় ৩ সাংবাদিকের ওপর হামলা: উল্টো চাঁদাবাজির মামলা

Channel Cox.ComChannel Cox.Com
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৩:২৪ PM, ০১ এপ্রিল ২০২০

ঝালকাঠি প্রতিনিধি:

ঝালকাঠি বুধবার ১ এপ্রিল ২০২০: সুদ ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়ায় ৩ সাংবাদিককে ডেকে নিয়ে এলোপাথারি মারধরের ৩দিন পর চাঁদাবাজির অভিযোগে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। স্থানীয় কাঠপট্টি এলাকার এক মুরগি ব্যবসায়ীকে বাদী সাজিয়ে মামলাটি (নং ৩০ তারিখ ৩১ মার্চ ২০২০, ধারা ৩৮৫/৩৮৬) দায়ের করা হয়েছে। এদিকে সাংবাদিকদের পক্ষ বশির আহম্মেদ খলিফা বাদি হয়ে একই সময়ে ৩জনকে আসামি করে একটি অভিযোগ থানায় জমা দিলেও অদৃশ্য কারনে মামলাটি আজও এজাহার হয়নি। সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে দায়ের করা অভিযোগে হাবিবুর রহমান হাবিল, সাংবাদিক আককাস সিকদার ও কামাল মুন্সিকে আসামি করা হয়।

জানাগেছে, গত সোমবার দুপুরে ঝালকাঠি শহরের কাঠপট্টি এলাকায় সুদ ব্যবসায়ী হাবিবুর রহমান হাবিল এক যুবককে দিয়ে ফোনে ডেকে মোহনা টিভির প্রতিনিধি ও বিএমএসএফ’র স্থানীয় সহ-সভাপতি রুহুল আমিন রুবেল, সাধারণ সম্পাদক রিয়াজুল ইসলাম বাচ্চু ও সদস্য বশির আহম্মেদ খলিফাকে এলোপাথারি মারধর করে আহত করে।

এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বিএমএসএফ কেন্দ্রীয় সভাপতি শহীদুল ইসলাম পাইলট ও সাধারণ সম্পাদক আহমেদ আবু জাফর। নেতৃবৃন্দ বলেন, পুলিশ সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে দায়েরকৃত অভিযোগখানা এজাহার হিসেবে গ্রহন না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। নেতৃবৃন্দ বলেন অত্যন্ত দূ:খজনক হলেও সত্য যে আজ সাংবাদিকরাই সাংবাদিক বিরোধী। একজন সুদ ব্যবসায়ীর পক্ষ নিয়ে ৩ সাংবাদিককে পিটিয়ে আহত করার ঘটনা চরম হতাশার। হামলাকারীরা হামলা চালানোর ভিডিও ছেড়ে দিয়ে সাংবাদিকদের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করা হচ্ছে। নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, ভোলায় আওয়ামীলীগ নেতার পুত্রের হামলায় আহত সাংবাদিক সাগর চৌধুরীর ওপর হামলাকারী সন্ত্রাসি নাবিলকে পুলিশ কিছুক্ষন আগে গ্রেফতার করেছে।

সূত্রমতে, ওই সাংবাদিকদের মধ্যে বশির আহম্মেদ তার নিজ আইডিতে গত সোমবার সকালে করোনার মধ্যেও সুদ ব্যবসায়ী হাবিলের অত্যাচারে অতিষ্ট এলাকাবাসি শিরোনামে একটি পোষ্ট করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে হাবিল স্থানীয় সাংবাদিক আককাস সিকদারকে ম্যানেজ করে কাঠপট্টিতে নিয়ে যান। রিংকু নামের একযুবককে দিয়ে বশিরকে ফোন দিয়ে ঘটনাস্থলে নেয়। বশির ঘটনাস্থলে পৌঁছলে তার ওপর চড়াও হয়ে বেদরক মারধর করে। খবর পেয়ে মোহনা টিভির প্রতিনিধি রুহুল আমিন রুবেল ও বিএমএসএফ’র সাধারণ সম্পাদক রিয়াজুল ইসলাম বাচ্চু ঘটনাস্থলে গেলে তাদেরকেও লাঞ্ছিত করে ভিডিও চিত্র ধারণ করে ফেসবুকে ছেড়ে দেয়। এ সময় হামলাকারীরা তাদের দুটি ক্যামেরা, ৩টি মোবাইল ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেয়।

আহত বশির সাংবাদিকদের জানান, গত এক সপ্তাহ পূর্বে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের ভ্রাম্যমান টিম কাঠপট্টি এলাকার একটি মিষ্টির দোকানে যান। সেখানে পঁচাবাসি মিষ্টি ও দধি দেখতে পান। খবর পেয়ে আমিসহ কিছু সাংবাদিক ঘটনাস্থলে যাই। সেখানে মিষ্টির দোকানের পক্ষ নিয়ে প্রশাসনকে ম্যানেজ করবে বলে হাবিল সাংবাদিকদের চলে যেতে বলেন। সাংবাদিকরা তার কথায় কর্নপাত না করে ঘটনাস্থলেই থাকেন। ইতিমধ্যে পৌর কাউন্সিলর এবং জেলা আ’লীগের যুগ্ম-সম্পাদক তরুন কর্মকার ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সাংবাদিকদের কিছুটা দূরে সরে যেতে অনুরোধ করেন। তরুন কর্মকারের কথার সম্মানে সাংবাদিকরা স্থান ত্যাগে উদ্যত হলে হাবিল সাংবাদিকদের বলেন আমি যখন বললাম তখনতো যাওনি তরুন কি আমার চেয়ে বড় নেতা? তখন হাবিলের সাথে বশিরের কথা কাটাকাটি হয়। এরই সূত্রধরে হাবিল বশিরের পিছু নেয় এবং কাঠপট্টি তার নিকটাত্মীয় মুরগি দোকানদারকে হাত করে একটি ভিডিও বক্তব্য ফেসবুকে ছেড়ে দেয়।

মোহনাটিভির প্রতিনিধি রুহুল আমিন রুবেল জানায়, আককাস সিকদার একাধারে আইনজীবি, সাংবাদিক ও ঠিকাদার। সে বহুল আলোচিত বোমা হামলা মামলায় নিহত ডালিম হত্যা মামলাসহ বিস্ফোরক মামলার আসামি। আককাস র‌্যাবের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত লিমন ইস্যুর মূল নায়ক। আককাসের রোষানলের শিকার সমকালের ঝালকাঠি প্রতিনিধি জিয়াউল হাসান পলাশ, যমুনা টিভির দুলাল সাহা, একুশে টিভির আজমীর হোসেন তালুকদারের স্বস্ত্রীক, যায়যায়দিনের এমদাদুল হক স্বপন, দিনকালের ওমর ফারুক, আমাদের সময়ের এসএম রাজ্জাক পিন্টু, বাদল ও বশিরসহ অগনিত সাংবাদিককে মামলা, হামলা ও হয়রাণী করছে। আমরাও আককাসের গভীর ষড়যন্ত্রের শিকার। আককাসের দোসররা আমাদের বিরুদ্ধে ফেসবুক এবং বিভিন্ন মিডিয়ায় অপপ্রচার চালাচ্ছে।

লাঞ্ছিতের শিকার বিএমএসএফ’র জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক রিয়াজুল ইসলাম বাচ্চু জানান, বশিরকে হামলার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছলে ওখানে থাকা সাংবাদিক আককাস সিকদার আমার ওপর চড়াও হয় এবং লাঞ্ছিত করে। এ সময় আককাস, হাবিল ও কামাল মুন্সি বশির এবং রুবেলের ওপর মধ্যযুগীয় কায়দায় হামলা চালায়।

এ ব্যাপারে ঝালকাঠি নাগরিক ফোরামের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে এভাবে প্রকাশ্যে সাংবাদিকদের ওপর নগ্ন হামলায় পুরো সাংবাদিক সমাজকে লজ্জিত ও বিতর্কিত করলো। আর এই ঘটনার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত অভিযোগ এজাহার হিসেবে গ্রহন না করায় প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার আগে সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে দাখিলকৃত এজাহার গ্রহনের অনুরোধ জানানো হয়।

আপনার মতামত লিখুন :