ভারুয়াখালীতে ত্রাণের দাবিতে ৪শ ড্রাইভার সিএনজি-টমটম সহকারে পরিষদে

Channel Cox.ComChannel Cox.Com
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৯:১২ PM, ১৫ এপ্রিল ২০২০

[জসীম উদ্দীন]

কক্সবাজার সদরের ভারুয়াখালী ইউনিয়নে প্রায় ৫শ জনের মত সিএনজি-টমটম চালক রয়েছে। তারা বেশিরভাগই পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী। বিপরীতে রয়েছে ৪ থেকে ৬ জন করে পরিবারের সদস্য। এর পরও সারাদিন সিএনজি-টমটম চালিয়ে যা আয় হয় তা দিয়ে কোনরকম চলছিল তাদের সংসার।

কিন্তুু করোনার কারনে গত এক মাস ধরে রাস্তায় টমটম-সিএনজি নিয়ে বের হতে পারছে না তারা। কেউ কেউ বের হওয়ার চেষ্টা করলেও আইনশৃংঙ্খলা বাহিনীর বাঁধার মুখে বাধ্য হয়ে ফিরে যেতে হয় বাড়িতে।

এতে করে আয় রোজগার বন্ধ থাকায় চরম অভাব অনটনে দিন কাটছে এসব সিএনজি-টমটম চালক পরিবার গুলোর।

এ পরিস্থিতি ত্রাণ সহায়তার দাবিতে ১৪এপ্রিল মঙ্গলবার ভারুয়াখালী ইউনিয়ন পরিষদে অবস্থান নেয় তারা। প্রায় ৪শ জন ড্রাইভার সিএনজি-টমটম সহকারে পরিষদের মাঠে অবস্থান নিয়ে ত্রাণ সহায়তার দাবি করেন।

এসময় উপস্থিত সিএনজি-টমটম ড্রাইভারদের অনেকেই তাদের পরিবার উপোষ দাবি করেন। এ অবস্থা চলতে থাকলে আত্মহত্যার হুমকি দিতে দেখা যায়।

এইদিন খবর পেয়ে ভারুয়াখালীর চেয়ারম্যান শ‌ফিকুর রহমান সিকদার আর পরিষদে আসেননি। পরিষদ ছিল তালা বদ্ধ।

সিএনজি ড্রাইভার হাবিব উল্লাহ বলেন, করোনায় আমরা মরবো না, তার আগেই না খেয়ে আমরা মারা যাবে। তিনি বলেন, গত একমাস হলো সিএনজি নিয়ে বের হতে পারি না। শুনেছি, আমাদের জন্য সরকার অনেক সহায়তা দিয়েছে। তার কিছু আমরা পাইনি। তাই সবাই এক যোগে পরিষদে এসেছি। এসে দেখি, চেয়ারম্যান নাই। পরিষদ তালা ঝুলিয়ে বাকিরা চলেগেছে।

আরেক ড্রাইভার আবদু শুক্কুর বলেন, গত এক মাস কিভাবে যে চলছি, কেউ খবর নেয়নি। তাই চেয়ারম্যানের কাছে এসেছিলাম।কিন্তু চেয়ারম্যান পরিষদে আসেননি। এ অবস্থা চলতে থাকলে আত্মহত্যা করবেন বলে হুমকি দেন তিনি।

নবাব মিয়া নামের টমটম চালক বলেন, সরকারি সীদ্ধান্ত মেনে একা ধারে বাড়ি থেকে টমটম নিয়ে বের হয়নি। এতে করে না খেয়ে দিন কাটছে আমার পরিবারের। তাই বাধ্য হয়ে পরিষদে এসেছি। আমি সরকার থেকে দেয়া আমার প্রাপ্য সহযোগীতা পেতে চাই।

বিষয়টি স্বীকার করেছেন ভারুয়াখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শ‌ফিকুর রহমান সিকদার। তিনি বলেন, সিএনজি-টমটম চালকরা পরিষদে আসবে সেটি আমি আগে থেকে জানতাম না। তবে তারা এসেছে জেনে পরিষদে আসেনি সেটা ঠিক নয়।

শ‌ফিকুর রহমান সিএনজি-টমটম চালকদের দুর্দশার কথা ম্বীকার করে বলেন, সরকার থেকে মাত্র দুইটন চাল পরিষদকে দেয়া হয়েছে। চাল গুলো আমার ইউনিয়নে ৯টি ওয়ার্ডে ভাগ করে দিয়েছি। এক ওয়ার্ডে ১৫ থেকে ২০ জনকে করে মোট ২০০শ পরিবার তা পেয়েছে। সেখানে হয়তো ড্রাইভারদের ১৫ জনের মত পেয়েছে। আমি যদি না পাই কোথাথেকে এত গুলো মানুষকে ত্রাণ দেবো।

তিনি আরও বলেন, ড্রাইভারদের কয়েকজন নেতা মঙ্গলবার রাতে আমার কাছে এসেছিল।আমি তাদের সংগঠন থেকে জেলা প্রশাসক বরাবর একটি ত্রাণ সহায়তা চেয়ে আবেদন করতে পরামর্শ দিয়েছি। আমিও তাদের পাশে থাকবো।

আপনার মতামত লিখুন :