কুতুবদিয়ায় স্বেচ্ছাসেবকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ: সুষ্ঠু তদন্তের দাবী

Channel Cox.ComChannel Cox.Com
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৯:৫৯ PM, ২৬ এপ্রিল ২০২০

নিজস্ব প্রতিনিধি:

কুতুবদিয়া উপজেলায় করোনা সংক্রামক প্রতিরোধে উপজেলা প্রশাসনের নিয়োজিত স্বেচ্ছাসেবকদের বিরুদ্ধে ডাকাত তকমা দেয়ার একদিন পরেই বোট মালিক পক্ষে আব্দুল মালেক মাঝি বাদী হয়ে স্বেচ্ছাসেবকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও হয়রানি মূলক সাজানো মামলা দেয়ার অভিযোগ উঠেছে।

সূত্রে জানা যায়, মামলায় ১৬ জনের নাম উল্লেখ করে আরো ১০/১২ জনকে অজ্ঞাত আসামী করা হয়েছে। স্বেচ্ছাসেবকদের বিরুদ্ধে মামলা করায় কুতুবদিয়াবাসীর মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়াসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিবাদের ঝড় বয়ে যাচ্ছে। এরুপ মিথ্যা মামলার সুষ্ঠু তদন্তের দাবী জানিয়েছেন সচেতন মহল।

স্বেচ্ছাসেবক সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াউল হক মীরের শিডিউল মোতাবেক পিলটকাটা খাল, বড়ঘোপ ঘাট, মলমচরের কোনাপাড়াসহ বিভিন্ন জায়গার ২০ পয়েন্টে নিয়মিত দায়িত্ব পালন করে অাসছিলেন ১৩০ জন অাত্মপ্রত্যয়ী তরুণ স্বেচ্ছাসেবকরা। স্বেচ্ছাসেবকেরা প্রশাসনের নির্দেশমত করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে বিভিন্ন গণসচেতনতা ও প্রশাসনকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা দিয়ে জনসেবামূলক কাজ করে আসছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় ২০ এপ্রিল রাত আনুমানিক ৭ টায় কাজী তাহমিদ, সাজ্জাদ হোসেন সাগর, মারুফ হাসান, মেহেদি হাসান, মাইমুন ইসলাম, ইমন, মোহাম্মদ রাসেল প্রমুখ স্বেচ্ছাসেবকগণ দায়িত্ব পালনকালে নারায়ণগঞ্জ থেকে একটি বোট অাসার খবর পেয়ে পিলট কাটা খালে উপস্থিত হয়। বোটে কারা আসছে, কয়জন, কোত্থেকে আসছে এসব তথ্য জানার জন্য।

স্বেচ্ছাসেবকরা একটি বোট আসতে দেখেন উক্ত বোটটিকে সিগনাল দেয় নোঙ্গর করার জন্য। আর বোটের মাঝি জিজ্ঞেস করলে তারা বলেন আমরা স্বেচ্ছাসেবক। ইউএনও স্যার আমাদের ডিউটি দিয়েছেন এখানে। স্বেচ্ছাসেবকরা বোটের মাঝিকে প্রশ্ন করেন, আপনারা কোথায় হতে আসতেছেন। বোটের মানুষজন বলে নারায়নগঞ্জ হতে। স্বেচ্ছাসেবকরা বলে, বোটে মানুষ আছে কিনা? মাঝিমাল্লারা বোটে যে মানুষজন ছিলো তা অস্বীকার করে। স্বেচ্ছাসেবকরা বোট নোঙ্গর করতে বললে মাঝি নোঙ্গর না করে বোটের স্পিড় বাড়িয়ে দেয়। তখন, স্বেচ্ছাসেবকদের সন্দেহ আরও বৃদ্ধি পায়। তখন তারা বোটটিকে ফলো করতে থাকে এবং বিষয়টি তারা ইউএনও জিয়াউল হক মীরকে জানান। তিনি নির্দেশনা দেন বোটটিকে ফলো করতে থাকো। আর বোটের মাঝি এবং মালিকের নাম, বোটে মানুষ আছে কিনা তথ্য সংগ্রহ করে আমাকে জানাও। ইউএনও’র নির্দেশ মোতাবেক তারা স্বেচ্ছাসেবকেরা বোটটিকে ফলো করে, যাতে তথ্য সংগ্রহ করতে পারে। এদিকে বোটের মাঝি ইতিমধ্যেই বোটের মালিকপক্ষকে ফোন করে দেয়। ফলে তারা দা, বটি, ছুরি নিয়ে স্বেচ্ছাসেবকদের উপর হামলা করে। হামলায় স্বেচ্ছাসেবকরা কম বেশি অাঘাত পায়। এ বিষয়টি স্বেচ্ছাসেবকরা ইউএনওকে জানালে ইউএনও নির্দেশ দেন, আশেপাশে ডিউটিরত স্বেচ্ছাসেবকদের একত্রিত হওয়ার জন্য এবং নির্দেশনা অনুযায়ী ১০মিনিটের মধ্যে বড়ঘোপ ঘাট এবং মলমচরের কোনাপাড়া এলাকায় ডিউটিরত স্বেচ্ছাসেবক এবং আনসার সদস্য লিটন একত্রিত হলে বোটের মালিকপক্ষ ধাওয়া বন্ধ করে দেয় এবং পিছু হটে। এদিকে ততক্ষণে বোট মলমচরের কোনাপাড়া এলাকায় নোঙ্গর করে মানুষজন নামিয়ে দেয়। বোটে কমপক্ষে ২০ জন যাত্রী ছিলো বলে স্বেচ্ছাসেবকগণ তথ্য দেন। ইউএনও ফোন করে স্বেচ্ছাসেবকদের সর্বশেষ অবস্থা জানতে চাইলে তারা বলে, বোটের মালিকপক্ষের কর্মচারীগণ তাদের থেকে অল্প কিছু দুরত্বে দাঁড়িয়ে আছে, আর অশ্লিল ভাষায় গালিগালাজ করছে। এর কিছুক্ষণের মধ্যে এস অাই অামিরসহ ৫ জন পুলিশ গঠনাস্থলে উপস্থিত হয়। পুলিশ আসলে ডিউটিরত স্বেচ্ছাসেবকসহ সবাই মিলে বোটের কাছে যায়। এবং বোটের মাঝিকে নিচে নেমে আসতে বলে কিন্তু বোটের মাঝি তখনও নিচে নামতে অসঙ্গতি প্রকাশ করে। এরপর পুলিশ বোটের মালিক এবং মাঝিসহ আনুসাঙ্গিক সকল তথ্য নিয়ে সেখান থেকে চলে যায়। স্বেচ্ছাসেবকেরাও পুলিশের সাথে ইউএনও’র পাঠানো জীপে করে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে চলে যায় এবং পুরো বিষয়টি ইউএনওকে অবিহিত করেন।

স্বেচ্ছাসেবকরা বলেন, মূলত এ ঘটনাকে ভিন্নভাবে প্রভাবিত করে ২১ এপ্রিল ২০২০ইং তারিখ স্বেচ্ছাসেবকদেরকে উল্টো ফাঁসানোর জন্য বোটের মাঝি আব্দুল মালেক বাদী হয়ে বোটের মাঝি মাল্লাদের মারধর, ২লাখ ৫৪ হাজার টাকা চুরি, ৪৫ হাজার টাকার ক্ষতিসাধন ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ এনে কুতুবদিয়া থানায় পেনাল কোডের ১৪৩/৩২৩/৩৭৯/৪২৭/ ৫০৬ ধারার মামলা রুজু করা হয়।

স্বেচ্ছাসেবকেরা অভিযোগ করে বলেন, “আমরা ১৩০ জন তরুণ স্বেচ্ছাসেবী ইউএনও কুতুবদিয়া ফেসবুক আইডি থেকে জানতে পেরে ইউজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব জিয়াউল হক মীর স্যারের আহবানে সাড়া দিয়ে দেশের স্বার্থে কুতুবদিয়াবাসীর মা, বোন, খালা, বাপ, ভাইদের সর্বোপরি কুতুবদিয়ার মানুষকে করোনা মহামারী রোগ থেকে মুক্ত রাখার জন্য পালাক্রমে রাত দিন ২৪ ঘন্টা স্বেচ্ছায় শ্রম দিয়ে যাচ্ছি। বিনিময়ে আমরা এক পয়সাও নিচ্ছি না। কোন কোন সময় নিজেদের পকেটের টাকা দিয়ে মানুষকে মাস্ক কিনে দিচ্ছি। দেশের স্বার্থে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করে আসছি। এর মধ্যে যদি আমাদেরকে আবার ডাকাত বলে তকমা দেয়। আমাদের উপর হামলা করা হচ্ছে। মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানী করা হচ্ছে। তাহলে আমরা দেশের স্বার্থে কাজ করছি এটাই কি আমাদের অপরাধ? জাতির কাছে প্রশ্ন রইল।

আমরা দেশের স্বার্থে সাড়া দিয়ে স্বেচ্ছাসেবকের দায়িত্ব নিয়েছি। এখন অামরা হয়রানীর শিকার হচ্ছি। একজন স্বেচ্ছাসেবক নাম জাহেদুল ইসলাম আক্ষেপ করে বলেন, আমার উপর ২৩ এপ্রিল ধূরং বাজারে স্বেচ্ছাসেবকের দায়িত্ব পালনকালে ছাত্রলীগ নেতা সাজ্জাদ হোসেনের নেতৃত্বে ৫/৬ জন সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে আমাকে আঘাত করে আমার সাথে থাকা মোবাইল ও মানিব্যাগসহ টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়।

আপনার মতামত লিখুন :