জাতীয় গণমাধ্যম সপ্তাহ সাংবাদিকদের জন্য কী গুরুত্ববহন করে

Channel Cox.ComChannel Cox.Com
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৫:৩৫ PM, ২৮ এপ্রিল ২০২০

নিজস্ব প্রতিবেদক:

জাতীয় গণমাধ্যম সপ্তাহ সাংবাদিকদের জন্য কী গুরুত্ববহন করে এমন একটা প্রশ্ন থাকতে পারে। তবে হ্যাঁ। আপনি একজন সাংবাদিক হিসেবে নি:সন্দেহে দাবিটির প্রতি শতভাগ সমর্থন দিতে পারেন। জানেনতো সমাজের নানা শ্রেণীপেশার লোকজনের বিভিন্ন দিবস ও সপ্তাহ রয়েছে। ওই দিবস ও সপ্তাহের ইস্যুতে তারা নিজ পেশার অধিকার, দাবি ও মর্যাদার লড়াই করে থাকেন।

আগামি ১ মে থেকে ৭ মে দেশে ৪র্থ বারের মত উদযাপিত হচ্ছে জাতীয় গনমাধ্যম সপ্তাহ ২০২০। তবে দেশে চলমান মহামারী করোনা ইস্যুতে কোন আনুষ্ঠানিকতা থাকছেনা।

বিগত ৩ বছর ধরে বিশ্ব গনমাধ্যম দিবসকে সামনে রেখে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম বিএমএসএফ জাতীয় গণমাধ্যম সপ্তাহ জুড়ে সাংবাদিকদের নানা সমস্যা-সম্ভাবণার প্রচার-প্রচারণা তুলে
ধরে আসছিল।

মূলত: বিএমএসএফ সারাদেশের পেশাদার সাংবাদিকদের তালিকা, সাংবাদিক নিয়োগ নীতিমালা, সাংবাদিক নির্যাতন বন্ধে যুগোপযোগি আইন প্রণয়ন, পেশাগত স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার দাবীতে ১৪ দফা বাস্তবায়নে কাজ করছে। এই ১৪ দফাই সাংবাদিকদের পেটের ক্ষুধা, কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা রক্ষার কবজ।

২০১৭ সাল থেকে প্রতিবছর ১ মে থেকে ৭ মে গনমাধ্যম সপ্তাহ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দাবীতে জেলা-উপজেলা থেকে বিগত বছরগুলোতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট স্মারকলিপি প্রদান করে আসছে বিএমএসএফ। তবে ২০১৩ সাল থেকে বিএমএসএফ সর্বোপরি সাংবাদিকদের পাশে থেকে কাজ করেছে সাধ্যমত। এই স্বল্পসময়ে দেশব্যাপী বিএমএসএফ’র রয়েছে এক সোনালী অর্জন।

এরই ধারাবাহিকতায় সপ্তাহ ব্যাপী নানা আয়োজনে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহন করে বিএমএসএফ’র জেলা উপজেলা কমিটি। শেষের দিন ৭ মে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে চল চল ঢাকা চল কর্মসূচী। তবে এ বছর করোনার প্রকোপে তেমন কিছুই থাকছেনা। পরিস্থিতির উন্নতি ঘটলে পরবর্তীতে আয়োজন করা হবে। তবে যে যার জায়গায় প্রচারণা চালাবেন।

সাংবাদিককতা আজ একটি চরম অসহায় পেশায় পরিণত হয়েছে। সবচে অনিরাপদ পেশাটির নাম হচ্ছে সাংবাদিকতা। নিজের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানোর পেশাটির নাম সাংবাদিকতা। কাজ করে মরে যাবেন, অথচ বেতন পাবেন না এমন পেশাটির নাম সাংবাদিকতা। রাষ্ট্রের হয়ে কাজ করবেন অথচ হুমকি-মামলা-হামলার শিকার হবেন। নিরাপত্তা পাবেন না এমন পেশার নাম সাংবাকিতা। কাজ করবেন পেনশন নাই-টেনশন আছে এমন পেশার নাম সাংবাদিকতা। পোশাক কারখানা,মুদি- চা, হোটেল কর্মচারীর কাজেও নিরাপত্তা মেলে বরং সাংবাদিকতায় নাই। অথচ সাংবাদিকরা মানুষের মানবাধিকার বাস্তবায়নে কাজ করে বেড়ায়।

দূর্ভাগ্য হলেও সত্যি যে রাষ্ট্র কর্তৃক এদেশের সাংবাদিকরা আজো পেশার স্বীকৃতিটুকু মেলাতে পারেনি। অথচ বহু নামীদামি সংগঠন রয়েছে । ছাল নাই বাঘা নাম। স্বাধীনতার ৪৯ টি বছর কেটে গেলো। অথচ কি পেলো সাংবাদিকরা!

রাষ্ট্রের কাছ থেকে আপনারা সাংবাদিকদের জন্য কী মর্যাদা রক্ষা করতে পেরেছেন? পেরেছেন কি সাংবাদিকদের তালিকা প্রণয়ন করতে? আজকাল আপনাদের বাড়িওয়ালারাও সাংবাদিক। ছি: ধিক্কার জানাই আপনাদের ওই নোংরা মানষিকতাকে। এই পেশাটি আপনার আমার সকলের। তাই দয়া করে পেশাটিকে বিক্রি করে দিবেন না। পেশাটিকে রক্ষার দায়িত্ব সকলের। তাই আসুন, আমরা আমাদের দাবি-অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় ইস্পাত কঠিন শক্ত অবস্থানে দাঁড়াই।

সাংবাদিকদের মর্যাদা ফিরিয়ে আনতে কি পেরেছেন কেউ। পেরেছেন কি সাংবাদিক নির্যাতন বন্ধে আইন প্রণয়ন করতে। পেরেছেন কি সাংবাদিকদের কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা দিতে। যদি পারতেন তবে মহামারী করোনার মাঝে ৬০ জনের অধিক সাংবাদিক কেন ছাটাই হলো। মহামারী করোনা ইস্যুতে দেশের সকল পেশার মানুষ সরকারের কাছ থেকে নানা সুবিধা গ্রহন করেছে। আপনারা সাংবাদিকদের জন্য কী করলেন?

তাহলে বলুন; আপনাদের কাজটা কী! কি করেন দেশের সাংবাদিকদের জন্য। আপনাদের সাংবাদিকরা চিনে ফেলেছে। রংচং ছোডা মেখে মন্ত্রনালয় গুলোতে ঘুরঘুর করে ফাইল পাশ করাই মূল কাজ।

সারাদেশের সাংবাদিকরা আপনাদের দিকে তাকিয়ে ছিল। কিন্তু কি করলেন! কিছুই দেখতে পেলনা। করোনায় আর্থিক সহায়তা! যা পাবার তাতো দেখাই যাবে। ওয়েজবোর্ড তা আজ সাংবাদিকদের কাছে স্বপ্ন মাত্র।

আহমেদ আবু জাফর
সাধারণ সম্পাদক,
বিএমএসএফ, কেন্দ্রীয় কমিটি
০১৭১২৩০৬৫০১ তারিখ: ২৮ এপ্রিল ২০২০ খ্রী:।

আপনার মতামত লিখুন :