বৃষ্টি হলেও ঈদের আনন্দ থামেনি , হাজার পর্যটকে ভরা সমুদ্র সৈকত

Channel Cox.ComChannel Cox.Com
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০১:৫৫ PM, ০৯ জুন ২০১৯

জাহাঙ্গীর শামস: বৃষ্টি উপক্ষো করে প্রতি বছরের মতো এবারও ঈদের ছুটিতে লাখো পর্যটকে সরগরম হয়ে উঠেছে পর্যটন নগরী কক্সবাজার। স্বজনদের নিয়ে সমুদ্র সৈকতের বালিয়াড়িসহ জেলার পর্যটন স্পটগুলোতে ভিড় জমিয়েছেন ভ্রমণ পিপাসুরা। মেঘ-রোদ্দুরের লুকোচুরিতে বৃষ্টি মাথায় নিয়ে সাগরের নীল জলরাশির সঙ্গে উচ্ছ্বাসে মেতেছেন পর্যটকরা।

এদিকে পর্যটকদের সেবা দিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন পর্যটন সংশ্লিষ্টরা। আর নিরাপত্তা নিশ্চিতে সার্বক্ষণিক কাজ করছে ট্যুরিস্ট পুলিশ, জেলা পুলিশ ও জেলা প্রশাসন।

পর্যটন সংশ্লিষ্টরা জানান, ঈদের ছুটির আগেই পর্যটকরা হোটেল-মোটেল বুকিং দিয়ে রেখেছিলেন। তাই ঈদের পরদিন থেকে পর্যটক আগমন বাড়তে থাকে। পারিবারিক ঝামেলা না থাকায় কেউ কেউ ঈদের দিন রাতেই কক্সবাজার আসেন। সকাল থেকেই ভিড় জমান সমুদ্রের পাড়ে। পর্যটকটের উল্লাসে মুখরিত রয়েছে সমুদ্র সৈকতসহ কক্সবাজারের দর্শনীয় স্থানগুলো।

আগত পর্যটকরা সমুদ্র সৈকতের পাশাপাশি দরিয়ানগর, হিমছড়ি ঝর্ণা, ইনানীর পাথুরে সৈকত, ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক, রামু বৌদ্ধ বিহার, মহেশখালী আদিনাথ মন্দিরসহ জেলার পর্যটন স্পটগুলোতেও ঢুঁ মারছেন।

কক্সবাজার হোটেল-গেস্ট হাউস মালিক সমিতির তথ্য অনুযায়ী, কক্সবাজারের প্রায় সাড়ে ৪ শতাধিক হোটেল-মোটেল, রিসোর্ট ও কটেজে রয়েছে। যেখানে লক্ষাধিক পর্যটক অবস্থান করতে পারেন। এবারের ঈদেও পূর্বের মতো প্রায় লাখো পর্যটক ঈদের পরদিন থেকে গড়ে প্রতিদিন কক্সবাজারে অবস্থান করছেন।

কক্সবাজার বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটি সূত্র জানায়, আগত পর্যটকদের সেবা নিশ্চিতে সতর্ক অবস্থায় দায়িত্ব পালন করছে ট্যুরিস্ট পুলিশ ও জেলা পুলিশ। মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশও। পর্যটক হয়রানি রোধে পর্যটন স্পটগুলোকে সিসিটিভি ক্যামরার আওতায় আনা হয়েছে। ট্যুরিস্ট পুলিশের পক্ষ থেকে দ্রুত সাধারণ চিকিৎসা ও খাবার পানির ব্যবস্থা রয়েছে সমুদ্র সৈকতে। গোসল করাকালীন বিপদাপন্ন পর্যটকদের রক্ষার্থে সতর্ক অবস্থায় রয়েছেন লাইফগার্ড কর্মীরা।

গাজীপুর থেকে আসা পর্যটক রাসেল মিয়া বলেন, শুধু শীতকাল নয়, বৃষ্টির মাঝেও যে সমুদ্র সৈকতকে এত মোহনীয় লাগে তা ঈদের ছুটিতে কক্সবাজার বেড়াতে না আসলে বুঝতে পারতাম না। পরিবারসহ খুবই মজা করছি।

পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী হাসিবুর রহমান বলেন, অনেকে ভয় দিয়েছিলেন- সৈকত ও হোটেল-মোটেল জোন এলাকায় ঠকবাজরা ফণা তুলে আছে। কিন্তু প্রশাসনের কঠোর নজরদারিতে আমরা কলেজ বন্ধুরা পরিচ্ছন্নভাবে বেড়িয়ে রাতে (শুক্রবার) ফিরছি।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসনের পর্যটন সংশ্লিষ্ট নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলাম জয় বলেন, পর্যটক হয়রানি বন্ধে হোটেল-মোটেল ও রেস্তোরাঁয় মূল্য তালিকা টাঙ্গানোর নির্দেশনা আগেই দেয়া ছিল। সমুদ্র সৈকতের লাবণী, সুগন্ধা, কলাতলীসহ ১১টি পয়েন্টে স্থাপন করা হয়েছে তথ্য কেন্দ্র। পাশাপাশি দেয়া হয়েছে একটি হটলাইন নম্বর (০১৭৩৩৩৭৩১২৭)। যে কোনো অভিযোগ এখানে করতে পারবেন পর্যটকরা। হট লাইনের সেবা নিয়ে বেশ কয়েকজন পর্যটক হয়রানির বিচার পেয়েছেন। জরিমানা করা হয়েছে কয়েকটি রেস্তোরাঁ ও হোটেলকে।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইকবাল হোসাইন বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তায় সব সময় সতর্ক অবস্থায় রয়েছে পুলিশ। পর্যটকরা যাতে কোনো ধরনের ছিনতাই কিংবা হয়রানির শিকার না হন, পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে এবং পর্যটক বেশে পুরুষ-নারী পুলিশের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে।

ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার জোনের পুলিশ সুপার মো. জিল্লুর রহমান বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তায় সৈকত এলাকায় পোশাকধারী পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। ট্যুরিস্ট পুলিশের বিশেষ রেসকিউ টিম, ইভটিজিং কন্ট্রোল টিম, ড্রিংকিং জোন, দ্রুত চিকিৎসাসহ নানা পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে পর্যটকদের নিরাপত্তায়। সৈকতে বিচ বাইক নিয়ে টহল অব্যাহত রেখেছে ট্যুরিস্ট পুলিশ। রয়েছে ৩টি বেসরকারি লাইফ গার্ড সংস্থার অর্ধশতাধিক প্রশিক্ষিত লাইফগার্ড কর্মী। কন্ট্রোল রুম, পর্যবেক্ষণ টাওয়াসহ পুরো সৈকত পুলিশের নজরদারির আওতায় রয়েছে।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন বলেন, পর্যটন সম্ভাবনাময় শিল্প। পর্যটক হয়রানি বন্ধে হোটেল-মোটেল ও রেস্তোরাঁয় মূল্য তালিকা টাঙানোর নির্দেশসহ বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। পর্যটক হয়রানি বন্ধে মাঠে জেলা প্রশাসনের একাধিক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন :