বেপরোয়া সন্ত্রাসী কালাম: সিএনজি শ্রমিককে প্রাণনাশের হুমকি ফেসবুকে ভাইরাল

Channel Cox.ComChannel Cox.Com
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৯:১৭ PM, ০২ মে ২০২০

উখিয়ার সোনারপাড়া উপকূলের শীর্ষ সন্ত্রাসী আবুল কালাম। যার কাছে অসহায় খোদ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও।

বিশেষ প্রতিনিধি:

তিনি কোন কিছুই তোয়াক্কা করেন না। যখন যাকে মন চায় তার উপর চালায় অত্যচার-নির্যাতন। এমনকি খোদ আইন প্রয়োগকারী সংস্থাও তার কাছে অসহায়। একের পর এক নির্যাতনের ঘটনা ঘটিয়ে পার পাওয়ায় বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। সম্প্রতি এক সিএনজি চালক ত্রাণ তালিকায় এই ব্যক্তির নাম দেওয়াকে ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রাণনাশের হুমকিতে আছেন।
শীর্ষ এই অপরাধীর নাম আবুল কালাম। তার বাড়ি উখিয়ার জালিয়াপালং ইউনিয়নের সোনারপাড়া এলাকায়। সোনারপাড়ার সাগর উপকূলের মানবপাচার যেক’জন গডফাদারের নিয়ন্ত্রণে ছিল তারমধ্যে আবুল কালাম অন্যতম। অভিযোগ আছে মেরিনড্রাইভ রোড়ে ইয়াবা পাচারেও জড়িত তিনি। রেজুখালস্থ বিজিবি চেকপোষ্টে চালানো তার হামলাটি এখনো আলোচিত। যেখানে বিজিবি নিরাপদ নয়, সেখানে সাধারণ মানুষ তার কাছে কিছুই নয়। প্রতিনিয়ত কোন না কোন নিরীহ মানুষ নির্যাতনের শিকার হচ্ছে।
জানা গেছে, গত ৩০ এপ্রিল ত্রাণ তালিকায় নাম দেওয়াকে কেন্দ্র করে একজন সিএনজি চালককে মারধর করেন আবুল কালাম। পরে এ ঘটনায় ভয়েসওয়াল্ড ২৪ ডটকমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। মারধরের ঘটনায় সংবাদ প্রকাশ হওয়ায় মোবাইলে সরাসরি ওই সিএনজি চালককে প্রাণনাশের হুমকি দেন আবুল কালাম। সেই হুমকির অডিও ক্লিপ বিভিন্ন লোকজনের কাছে মুহুর্তে চলে যায়। ফাঁস হয়ে পড়ে সন্ত্রাসী কালামের হুমকির বার্তা। যা ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ভাইরাল হয়েছে। সেখানে কেউ কেউ সিএনজি শ্রমিক মারধরের জন্য সন্ত্রাসী কালামের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানিয়েছেন।
আবুল কালামের হাতে মারধরের শিকার সিএনজি শ্রমিক কালু ড্রাইভার বলেন, উপকূলের এই শীর্ষ সন্ত্রাসী কালামের কাছে খোদ আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা পর্যন্ত অসহায়। সোনারপাড়া বাজারে প্রতিনিয়ত টাকার জন্য দিনমজুরদের মারধর করেন তিনি। ভুক্তভোগীরা কোন সময় নির্যাতনের বিচার পান না কারও কাছে। সবাই তার কাছে জিম্মি।
“সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ওই অডিও ক্লিপের হুমকিতে আবুল কালাম বলেন, তুমি মনে রাখবা যে, শাহ্ জাইন্ন্যা অর্থাৎ শাহ্জাহানকে সোনারপাড়া বাজারে যেভাবে ধোলাই (মারধর) দিয়েছিলাম তেমনি তোমাকেও ধোলাই দিবো।”
কালাম যে শাহ্জাহানের কথা বলেছে তিনিও একজন পানের দোকানি। কালাম বাহিনীর কথা না শোনায় তাকে বাজারে বেধম প্রহার করেছিল। সেই উদাহারণ দিয়ে কালাম ওই সিএনজি চালককে মনে করে দিয়েছে! যেন সে কালামের বিরুদ্ধে কোথাও কোন অভিযোগ না করেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১৪ সালের ৭ ডিসেম্বর (শনিবার) সন্ধ্যা সাতটায় মাদক সংশ্লিষ্ট ঘটনায় রেজুর মোহনার পাশে বিজিবি চেকপোস্টে আবুল কালাম ও আবু তাহেরর নেতৃত্বে ২০ জন সন্ত্রাসী হামলা করে। সেই ঘটনায় বিজিবির ৫ জন সদস্য গুরুতর আহত হয়েছিলেন। আহত আব্দুল বারেক (৫৫), শরীফ উল্লাহ (৪৫), আবু দাউদ (২১) রুবেল হোসেন (২২) ও শামসু উদ্দিনকে (২৭) কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল। পরে ওই সন্ত্রাসী বাহিনীর বিরুদ্ধে বিজিবির এক সদস্য বাদী হয়ে মামলা করেছিলেন। যা বর্তমানেও আদালতে মামলা চলমান। কিন্তু এতবড় একটি ঘটনায় এখনো দৃশ্যমান কিছুই হয়নি। এ ছাড়া কালাম বাহিনীর বিরুদ্ধে উখিয়া থানা এবং আদালতে ধর্ষণ ও ছিনতাইয়ের মামলাও রয়েছে। তারপরও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাত থেকে পার পেয়ে যাচ্ছে তারা।
হামলার শিকার কালু ড্রাইভার বলেন, করোনা মহামারিতে আমরা অসহায়ত্বের দিনাতিপাত করছি। এই অবস্থায় উখিয়া উপজেলার ত্রাণ সহায়তা পেতে বাদ পড়া সিএনজি চালকদের নাম দেয়া কি আমার অপরাধ? আমাকে নির্মমভাবে মারধর করেছে। আমি ইতিমধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানিয়েছি। তিনি আমাকে আশ্বস্থ করেছেন বিষয়টি দেখবেন। সংবাদ প্রকাশ এবং ইউএনও স্যারকে বিচার দেওয়ার খবর শুনে কালাম মোবাইলে আমাকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছে। যা এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক ভাইরাল হয়েছে।
কালু ড্রাইভার আরও বলেন, ‘কালাম আমাকে হুমকি দিয়ে বলেন- তোমাকে কোন ইউএনও এবং কোন প্রেসিডেন্ট রক্ষা করবে ? আমরা ইউসুফ আলী মেম্বারের ছেলে। আমরা কাউকে ছাড় দিই না। তোকে নিউজ করানোর পরিণতি ভোগ করতে হবে।
দুইমাস আগেও কালাম বাহিনীর ১১ জন সদস্য জুয়া খেলা অবস্থায় নারী এবং মদসহ সোনারপাড়া রিসোর্ট থেকে উখিয়া থানা পুলিশের হাতে আটক হয়েছিল। কিন্ত অদৃশ্য শক্তির কাছে পুলিশও সেইদিন অসহায় হয়ে তাদেরকে মুচলেখা নিয়ে মুক্ত করে দেয়।
আহত শ্রমিক কালু আরো বলেন, এখন আমার জীবন নিয়ে হুমকিতে আছি। আমি জেলা প্রশাসক এবং পুলিশ সুপার মহোদয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করছি। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে যেকোন সময় আমাকে প্রাণে মেরে ফেলবেন দূর্ধর্ষ সন্ত্রাসী আবুল কালাম।
এ দিকে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কালাম বাহিনীর প্রধান আবুল কালাম প্রকাশ কালাইম্যা হচ্ছে উখিয়ার জালিয়া পালংয়ের সোনারপাড়া এলাকার মৃত ইউসুফ আলীর পুত্র। এলাকাবাসী বলেন, এই কালামের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে পারে না। চাঁদাবাজি করলেও নিরবে সহ্য করতে হয়। কেউ যদি কিছু বলে বাজারে এনে প্রকাশ্যে বেধম মারধর করে। এই কালাম বাহিনীর হাতে সমাজের সম্মানিত লোকজনও বিভিন্ন সময়ে মারধরের শিকার হয়েছে। এমনকি বর্তমান জালিয়াপালং ৩ ওয়ার্ডের বর্তমান ইউপি সদস্য রফিক উল্লাহর বাড়িতেও কালাম বাহিনী হামলা করেছিল।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিকারুজ্জামান বলেন, সোনারপাড়া সিএনজি সমিতির ঘটনায় আমাদের কাছে অভিযোগ আসলে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নিবো। আর কেউ ত্রাণ না পেয়ে অবশিষ্ট থাকবে না। আমরা প্রত্যেককে স্ব স্ব ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছি। তবে আামর সাথে সবাই যোগাযোগ করবে এটাই স্বাভাবিক। তাতে কোন নেতার ক্ষুব্ধ হওয়ার কিছু নাই।

আপনার মতামত লিখুন :