বিশাল প্যারাবন ধ্বংস করে ঘের বানাচ্ছে খালেক চেয়ারম্যান ও তার লোকজন! সি কক্স নিউজ

Channel Cox.ComChannel Cox.Com
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ১০:২৩ PM, ১৪ মে ২০২০

নিজস্ব প্রতিবেদক:

মহেশখালীর শাপলাপুরের উপকূলীয় বনবিভাগ ও চরণদ্বীপ রেঞ্জের দীনেশপুর মৌজার বন বিভাগের মালিকানাধীন প্রায় ৫০ হেক্টর প্যারাবন কেটে গড়ে তুলা হচ্ছে চিংড়ী ঘের। নিত্যদিন শতাধিক শ্রমিক দিয়ে প্রকাশ্যে অবৈধভাবে প্যারাবন কেটে গড়ে তোলা হচ্ছে চিংড়ী প্রজেক্ট। নদী দখলকারী সন্ত্রাসীরা ভারি অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে দিন দুপুরে মহাড়া দিয়ে যাচ্ছেন। জানা গেছে- স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান খালেকের বাড়ির পেছনের পূর্বদিকে লইল্যাচরায় চেয়ারম্যান নিজেই তার লোকজন দিয়ে প্যারাবন দখল করে যাচ্ছে। বিগত একমাস ধরে খালেক চেয়ারম্যান এমন বেপরোয়া কর্মকান্ড চালাচ্ছে বলে জানিয়েছে প্রত্যক্ষদর্শীরা। কীভাবে প্যারাবনের গাছ কেটে সাবাড় করে বিরানভূমি বানানো হচ্ছে তার প্রমাণস্বরুপ বেশ কিছু ভিডিওচিত্র ও ছবি আমাদের কাছে এসেছে।

কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য- সংশ্লিষ্ট প্রশাসন এসব বিষয়ে নূন্যতম পদক্ষেপ কিংবা আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না। যার ফলে বিলীন হয়ে যাচ্ছে প্রকৃতির রূপ লাবণ্যের অন্যতম সহযোগী মায়াবী প্যারাবন। সম্প্রতি কিছুদিন আগে স্থানীয় বন কর্মকর্তা সংঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে নদী দখলকারীদের বিরুদ্ধে অভিযানে গেলে নদী দখলকারীদের সাথে বন বিভাগের গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটে। এর পরেই স্থানীয় বিট কর্মকর্তা বাদী হয়ে সংশ্লিষ্ট ধারায় নদী দখলকারীদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা হলেও সেই থেকে এখন পর্যন্ত পুরোদমে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে নদী দখলকারীরা। ঔসব নদী দখলবারীরা স্থানীয় চেয়ারম্যানের ছত্রছায়াতে এসব কাজ চালিয়ে যাচ্ছে বলে এলাকাবাসীর সূত্রে জানা যায়।

এলাকাবাসী সূত্রে জানায়, শাপলাপুরের চেয়ারম্যান, বাকঁখালী নদী দখলের তালিকা ভুক্ত অন্যতম নদী দখলকারী আ:খালেক চেয়ারম্যান নির্বাচিত হবার পরপরেই তার দৃষ্টি পড়ে চরণদ্বীপ রেঞ্জের দীনেশপুর মৌজার বিশাল প্যারাবনে। তার ছত্রছায়াতে পারিবারিক লোকজন ও লালিত ক্যাডার বাহিনী দিয়ে বিশাল প্যারাবন কেটে গড়ে তুলা হচ্ছে চিংড়ী প্রজেক্ট।

স্থানীয় বন বিভাগ দুয়েকবার অভিযান চালিয়ে নদী দখলকারীদের ধাওয়া করলেও তারা চলে আসার পরপরেই আবারো দখল কাজে নেমে পড়ে নদী দখলকারীরা।

এ নিয়ে স্থানীয় বিট কর্মকর্তা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, এসিল্যান্ড, রেঞ্জ কর্মকর্তা সহ উধর্তন কর্মকর্তাদের অবহিত করে চিঠিও প্রেরণ করেছেন। তারপরেও রহসজনকভাবে ঐপ্রভাবশালী চেয়ারম্যান আ:খালেকের লোকজনদের হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছে না বিশাল এ প্যারাবন। স্থানীয় লোকজন নদী দখলে বাধা প্রধান করতে গিয়ে অনেকবার লাঞ্চিত হতে হয়েছে মি. খালেকের লোকজনদের হাতে।

অনুসন্ধানে জানা যায়- চেয়ারম্যান আ.খালেকের সার্বিক সহযোগিতায় প্যারাজায়গীর তথা হেডম্যান নামধারী প্যারানিধনকারী আবদুল্লাহ (পিতা মৃত কালামিয়া দালাল) হেডম্যান পরিচয়ে নিয়মিত প্যারাবন কেটেঁ সাভাবিক ভাবে চিংড়িঘের নির্মাণ করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। যার সহযোগিতায় রয়েছে অলি আহমদ ও নজির আহমদ(উভয় পিতা: কমলি) গং এর সহযোগিতা রয়েছে। এমনকি উক্ত প্যারাবন কাটা গাছগুলো বহন করা বোটের মালিক সাইফুল (পিতা মোজাম্মেল) নিজের বোট দিয়ে বিক্রি করত; বিভিন্ন জায়গায় নিয়মিত পৌঁছে দেয়ার দায়িত্বে নিয়োজিত থাকেন। ঐ এলাকায় বসবাসকারী নিরীহ জনগনের ভাষ্যমতে, আ: খালেক চেয়ারম্যান হওয়ার একমাসের মাথায় দীনেশপুর মৌজায় আরও একটি চিংড়িঘের নির্মান করেন প্যারাবন কেটেঁ। উক্ত প্যারাবন কেটেঁ চিংড়িঘের নির্মাণের সময় বিভিন্ন পত্রিকায় ও গণমাধ্যমে আলোড়ন সৃষ্টি হলে দুই /একদিন কাজ বন্ধ রাখে। পরবর্তীতে নিয়মিত কাজের ন্যায় প্যারাবন কেটেঁ চিংড়িঘেরের কাজ সম্পাদন করে।

স্থানীয় লোকজন জানান, উক্ত প্যারাবন ধ্বংসের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে হেডম্যান আবদুল্লাহ গংদের। কারন আবদুল্লাহ গং হেডম্যান এর দায়িত্বে আছেন বলে এলাকার কোন লোকজনকে প্যারাবনের আশেপাশে হাটতেঁও দেয়না। সেই সুযোগে চেয়ারম্যান ও আবদুল্লাহ গংদের পৈত্রিক সম্পদের ন্যায় প্যারাবন ধবংস করে নির্ভয়ে নিয়মিত চিংড়িঘের তৈরী করে যাচ্ছে। প্রশাসন ও প্যারাবন রক্ষাকারী কতৃপক্ষের কাছে এলাকাবাসীর প্রশ্ন- এভাবে প্যারাবন ধ্বংস করে উপকূলীয় অঞ্চল ঝুঁকিতে ফেলা ওপরিবেশ ধ্বংস করা এমনকি রাষ্ট্রীয় সম্পদ ধ্বংসের খবর কি কর্তৃপক্ষের কেউ জানে না?

এবিষয়ে উপকূলীয় বনকর্মকর্তা গোলাম মওলার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথমে বিষয়টি কক্সবাজার বনবিভাগ উত্তরের সাথে সংশ্লিষ্ট বলে দাবী করেন। এর আগে কক্সবাজার বনবিভাগ উত্তরের সাথে কথা হলে মহেশখালীর প্যারাবনের বিষয়টি উপকূলীয় বনবিভাগের অধীনে বলে জানান। এভাবেই পাল্টাপাল্টি দোষারোপ করে পার পেতে চেয়েছিলো সংশ্লিষ্ট এই কর্মকর্তা। কিন্তু পরবর্তীতে দায় এড়াতে না পেরে বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখবেন বলে এক ধরণের দায়সারা মন্তব্য করেন এবং আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেন। এরপরে তিনি চকরিয়ার সুন্দরবন নিধনের গল্প শোনাতে থাকেন।

সূত্র: আলোকিত উখিয়া

আপনার মতামত লিখুন :