মহেশখালীসহ পুরো জেলায় পল্লী বিদ্যুৎতের বিলে গলা কাটা বাণিজ্য | সি কক্স নিউজ

Channel Cox.ComChannel Cox.Com
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ১০:৫৮ PM, ১৪ মে ২০২০

ইয়াছিন আরাফাত,মহেশখালী:

সারাবিশ্ব এখন মহামারি করোনাভাইরাসে জর্জরিত। চরম ক্রান্তিকাল পার করছি আমরা। বড় বড় পরাক্রমশালী দেশের রাজা, রাণী, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও আমলা থেকে শুরু করে প্রতিনিয়ত কেউ বাদ যাচ্ছে না এই মরণঘাতি ভাইরাসের আক্রমণ থেকে। যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী বিশ্বে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৩৫ লাখ ৭১ হাজার ৬০৭ জন। এ রোগে ইতিমধ্যে মৃত্যু হয়েছে দুই লাখ ৫০ হাজার জন। আর আক্রান্ত দেশের সংখ্যা ১৮৫টি। সবার মধ্যে এখন এক অদৃশ্য ভাইরাসের ভয়। তাই মৃত্যুভয়ে সবাই বাধ্য হয়ে ঘরবন্দী জীবনযাপন করছে। আমাদের দেশেও গত ২৬ মার্চ থেকে চলছে লকডাউন। সরকার জরুরি সেবা ব্যতিত অন্যসব প্রতিষ্ঠানসমূহে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছেন। এ লকডাউনে স্তব্ধ পুরো দেশ। চর্তুদিকে পিনপতন করুণ হাহাকারের প্রতিধ্বনি। এ করোনাকালে কেমন আছেন আমাদের দেশের মানুষ? কেমন কাটছে তাদের জীবন প্রবাহ? নিশ্চই ভালো থাকার কথাও নই! এর মধ্যেও জীবন চলছে জীবনে নিয়মে। এবার মূল কথায় আসা যাক। আমাদের সমাজে তিন শ্রেণীর মানুষ বসবাস করে। উচ্চবিত্ত, মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত। হঠাৎ আসা করোনার এ বিপর্যয়ে তিনশ্রেণীর মানুষেরই সকল হিসেব নিকেশে তালগোল পাকিয়ে গেছে। তবে এরমধ্য সবচেয়ে বেশি দিশেহারা হয়ে গেছেন মধ্যবিত্ত শ্রেণীর মানুষগুলো। কারণ এদের আয় সীমিত কিন্তু ব্যয় বেশি। ভুক্তভোগী এসব মধ্যবিত্ত মানুষের চেহারার করুণ দৃশ্য বলে দেয় তারা কেমন আছেন! আর নিম্নবিত্তরা মৃত্যুকে আলিঙ্গন করে বেঁচে থাকার তাগিদে জীবন ষুদ্ধে রাজপথে লড়াই করছেন। কারণ একটায় পরিবারের ক্ষুধা নিবারণের চেষ্টা। অন্যদিকে বিত্তশালীরা এই দুই শ্রেণীর মানুষ থেকে ভিন্ন। তাদের অটেল আছে জীবিকা নির্বাহের কোন চিন্তা নেই। ঠান্ডা রুমে সৌখিনতায় কাটছে তাদের জীবন।

এর মধ্যে শুরু হয়েছে বেসরকারী বিদ্যুৎ সংস্থা পল্লী বিদ্যুৎতের গলাকাটা বিল৷ প্রধানমন্ত্রী বিদ্যুৎ বিল লগডাউন শেষ না হওয়া বা নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত বিদ্যুৎ না নেওয়া৷ লগডাউন শেষ হলেও বিলম্ব ফি না নেওয়ার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সকল বিদ্যুৎ সরকারী বেসরকারী সংস্থাকে বললেও পল্লী বিদ্যুৎ কক্সবাজার জোন, মহেশখালী জোন, চকরিয়া জোন, পেকুয়া জোনসহ প্রত্যকটা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি তে নেওয়া হচ্ছে গলাকাটা বিল সাথে বিলম্ব মাসুল সহ৷

পেকুয়া-চকরিয়ার অনেক স্থানীয় লোকের সাথে কথা বলে জানা যায়, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি জনগনের সাথে তামাশা শুরু করে দিছে। এসব কি? আমরা নিম্নবিত্তরা ক্ষুদার যন্ত্রণায় ভুগছি এসময় আরেক যন্ত্রণা৷

মহেশখালীর অনেক স্থানীয় লোকের সাথে কথা বলে জানা যায়, আমরা নিম্নবিত্ত আগে ভিক্ষা করতাম এখন ঘরে বসে আছি; বের হতে পারছিনা৷ নিজের ক্ষুদার যন্ত্রণায় নিজে মরতেছি এসময় বিদ্যুৎ বিল? একই এলাকার মধ্যবিত্ত বেসরকারী এক চাকরিজীবী বলেন, আমার মত অনেক বেসরকারী চাকরিজীবী বাসায় বসে আছে দুমাস ধরে৷ আমার প্রতি মাসে বিল আসত ২০০-৩০০ টাকা এ মাসে বিল আসছে ৮৭৩ টাকা৷ আমাদের কি গলায় দড়ি দিতে হবে স্থানীয় নেতারা এ বিষয়ে কথা বলে না৷ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা নিশ্চুপ কেন? আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে নিবেদন করছি আপনি আমাদের শেষ ঠিকানা আমারা মধ্যবিত্তদের এ যন্ত্রণা থেকে মুক্ত করুন৷

Channel Cox News.

আপনার মতামত লিখুন :