অবশেষে কুতুবদিয়ায় করোনার হানা, উদ্বিগ্ন দ্বীপবাসী | সি কক্স নিউজ

Channel Cox.ComChannel Cox.Com
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ১০:১৮ PM, ১৫ মে ২০২০

কাইছার সিকদার:

বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরু হয়েছে অনেক আগে থেকেই, বিশ্বের নামি দামী, প্রভাবশালী সব রাষ্ট্র গুলো পরাজিত হয়েছে এই আনুভীক্ষণীক অনুজীবের কাছে৷ বাংলাদেশে কোভিড-১৯ এর প্রভাব শুরু হয় ৮ মার্চ থেকে, ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে তার প্রভাব৷

প্রতিদিন নতুন করে বেড়েই চলছে করোনা সনাক্ত হওয়া রোগীর সংখ্যা তার সাথে পাল্লা দিয়ে দীর্ঘ হচ্ছে লাশের সারি৷ শহর, বন্দর, গ্রাম হয়ে পাড়া মহল্লায় ছড়িয়ে পড়ছে ঘাতক ব্যাধি এই করোনার থাবা৷

কক্সবাজার জেলার যতগুলো উপজেলা রয়েছে তার মধ্যে ১টি উপজেলা কুতুবদিয়া ব্যতীত অন্য সব কটি উপজেলায় ইতি মধ্যে কম বেশী করোনা রোগী সনাক্ত হয়েছে৷ সেদিক থেকে কুতুবদিয়ার সাধারণ মানুষ এক প্রকার শঙ্কাহীন ছিল বললেই চলে, কিন্তু এবার আর শেষ রক্ষা হলনা, সব গুঞ্ছন ছাড়িয়ে মৃত্যুর ছায়া হানা দিয়েছে সাগর কন্যার বুকে৷

বাংলাদেশে করোনা প্রাদুর্ভাবের ৬৯ তম দিনে এসে আজ কুতুবদিয়া দ্বীপে নাছিমা আক্তার(৩৫) নামে এক মহিলার শরীরে করোনা ভাইরাসের উপস্থিতি সনাক্ত হয়েছে৷ মহিলার স্বামীঃ শাহাব উদ্দিন, উত্তর ধুরুং ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড, মগলাল পাড়া বলে কুতুবদিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পঃপঃ কর্মকর্তা ডাক্তার জাহাঙ্গীর আলম সেটা নিশ্চত করেছেন৷

উপজেলা পঃপঃ কর্মকর্তা ডাক্তার জাহাঙ্গীর আলম জানান, গতকাল নাছিমা আক্তার(৩৫) নামের ঐ মহিলা জ্বর, সর্দি নিয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসেন, মহিলার বিদ্যমান উপসর্গ দেখে কর্তব্যরত চিকিতৎসকের সন্দেহ হলে ততক্ষণাত ওনার(রোগী) নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়৷ আজ ১৫ই মে শুক্রবার নমুনা পরীক্ষার ফলাফল হাতে আসলে উক্ত মহিলার শরীরে করোনার উপস্থিতি রয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া যায়৷

তিনি আরো বলেন, আমরা রোগীনীর ব্যাপারে খুঁজ নিয়ে জানতে পেরেছি গত ২ মাস আগে ফেব্রুয়ারি মাসের মাঝামাঝি সময়ে নাছিমা আক্তার ডাক্তারী চিকিৎসা নেওয়ার জন্য চট্টগ্রামে ডাক্তার ছাদেকের কাছে যান, ওখান থেকে ফেরার পর ইতি মধ্যে গত ২ মাসে ওনি আর কোথাও যান নি কিংবা ওনার আশে আশেপাশে কোন লোক বাইরে থেকে কুতুবদিয়ায় আসেন নি৷ এটা থেকে ধারণা করা যায় শুধু মাত্র কুতুবদিয়ার বাইরের যাওয়া আসার কারণে নয় বরং কুতুবদিয়ায় থেকে ও অসতর্ক বা অসাবধানতার কারণে করোনা সংক্রমন ঘটতে পারে৷

সুতরাং কুতুবদিয়া বাসিকে আরো সাবধান হতে হবে, সমাজিক দুরত্ব বজায় রেখে চলাফেরা করতে হবে, অতীব জরুরী প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে যাওয়া থেকে সবাইকে বিরত থাকার অনুরোধ জানান তিনি৷

উক্ত রোগী সম্পূর্ণ আইসোলেশনে রেখে সাবধানতার সহিত চিকিৎসা চালিয়ে যাবেন বলে আশ্বাস দেন ডাক্তার জাহাঙ্গীর আলম৷

এ ব্যাপারে কুতুবদিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জনাব দিদারুল ফেরদৌস বলেন- দিন রাত এক করে কুতুবদিয়ার মানুষকে করোনার ছোবল থেকে বাঁচানোর জন্য কাজ করেছি, হয়ত এই জন্যই গত কাল পর্যন্ত সংক্রমণ মুক্ত ছিল কুতুবদিয়া৷ অবশেষে আর শেষ রক্ষা হলনা আমরা এজন্য মর্মাহত৷ আমাদের পক্ষ থেকে এই সংক্রমণ রোধ কল্পে প্রয়োজনীয় সব চেষ্টা চালিয়ে যাব, তবে কুতুবদিয়ার জনসাধারণকে আরো সচেতন হতে হবে, আরো সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে৷ আতঙ্কিত হওয়ার কোন কারণ নাই সাথে সাথে পুলিশ প্রশাসনকে সঠিক তথ্য ও প্রশাসনিক আইন মেনে সহযোগিতা করতে হবে৷

তিনি আরো বলেন, কারো রোগাক্রান্ত হওয়া সেটা তার অপরাধ নয়৷ রোগীর প্রতি কটাক্ষ না করে, হেয় না করে তার প্রতি সহ মর্মীতা ও সহযোগিতার হাত বাড়ান৷ আজকে যিনি সুস্থ তিনি হয়ত নিজের অজান্তেই আগামীকাল আক্রান্ত হতে পারেন, অতএব অসুস্থ ব্যক্তিকে দুরে কোন ঠাসা না করে সহযোগিতা করলেই দেশ ও জাতীর মঙ্গল হবে।

সচেতন মহল দাবি করেন শেষ পর্যন্ত করোনা রোগী যখন কুতুবদিয়ায় সনাক্ত হয়েই গেছে হয়ত ভবিষ্যতে তা আরো বাড়তে পারে বলে তারা উদ্বিগ্ন রয়েছেন৷

Channel Cox New.

আপনার মতামত লিখুন :