মহেশখালীর একজন ইউএনও জামিরুল ইসলামের একটি ছবির অনেক কথা! সি কক্স নিউজ

Channel Cox.ComChannel Cox.Com
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৫:১৩ PM, ১৬ মে ২০২০

ইয়াছিন আরাফাত,মহেশখালী:

সফল মানুষের পেছনে আছে কিছু গল্প, তা অনেকটা রূপকথার মতো। আর সে সব গল্প থেকে মানুষ খুঁজে নেয় স্বপ্ন দেখার সম্বল, এগিয়ে যাওয়ার জন্য নতুন প্রেরণা। মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ জামিরুল ইসলাম বাংলাদেশ সরকারের ডিজিটাল স্বপ্ন বাস্তবায়নের পাশা-পাশি এ ক্লান্তিকালে মহেশখালীতে তার দক্ষতা যাচাইয়ে প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছেন। উপজেলার মাতারবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে মাতারবাড়ী কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পের বাস্তবায়নকারী ঠিকাদার/উপ-ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান সমূহের বিশেষ উদ্যোগে মাতারবাড়ী ইউনিয়নের হত-দরিদ্র ও কর্মহীন মানুষের মাঝে ১৫ মে শুক্রবার ত্রাণ বিতরণ চলছিল দুপুর আড়াইটার সময়।

এতে উপস্থিত ছিলেন, আলহাজ্ব আশেক উল্লাহ রফিক এমপি, ইউএনও মোহাম্মদ জামিরুল ইসলাম, ওসি প্রভাষ চন্দ্র ধর, স্থানীয় চেয়ারম্যান মাস্টার মোঃ উল্লাহ, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হায়দারসহ পুলিশের কয়েকটি ইউনিট। তবে ত্রাণ বিতরণে মাঝখানে কে যেন উকি দিয়ে বলে উঠল সিকদার পাড়া গ্রামে অনেক অসহায় পরিবার ত্রাণ না পেয়ে উপাস রয়েছে।

এ শব্দটা একজন ইউএনও মোহাম্মদ জামিরুল ইসলামের কানে ধ্বনিত হলে তিনি কাউকে না বলে ত্রাণ বিতরণ শেষ করে ওই ছেলেটিকে খোঁজে নিয়ে স্বাভাবিক মানুষের ভেসে কড়কড়া রোদ্রের মধ্যে হেঁটে চলেন সিকদার পাড়া গ্রামের মেঠো পথ দিয়ে। রাস্তার ধারে ধারে লোক দেখলে জানতে চেয়েছেন কারও খাদ্য সামগ্রীর জন্য উপাস থাকছে হচ্ছে কিনা অনেকে বলেন না। তবে গুটিঁ কয়েক জন বলছেন পায়নি তাঁদেরও খাদ্য সামগ্রী কিনার জন্য নগদ অর্থ ব্যবস্থা করে দেন।

তবে সাধারণ মানুষ জানত না তিনি হচ্ছেন মহেশখালী উপজেলা নিবার্হী অফিসার তাও একটি উপজেলার সবোচ্চ প্রশাসনিক কর্মকর্তা। প্রটোকল ও নিজের ব্যবহারিত সরকারি নামি-দামি গাড়ী ছাড়া ওই গ্রামে ডুকে পড়াতে আপাদমস্তক সাদামাটা, নিরহংকার, নির্লোভ ও নৈতিকতায় বলিয়ান একজন মানুষটিকে দেখে অনাকে অবাক হয়েছেন। যে ছেলেটি ইউএনও নিয়ে গিয়েছিলেন ছেলেটির সিকদার পাড়ার গ্রামের বাদশাহ মিয়ার পুত্র ওয়ালিদ। তার কিছু দেওয়া তথ্য ভূল ছিল প্রমাণ পেয়েছিল মাঠে গিয়ে তিনি। হাঁটের পরেক্ষনে উঠে পড়েন যাত্রী চালিত টমটমে স্বাভাবিক মানুষের ভেসে। টমটম থেকে তিনি যখন গন্তব্যের জন্য নেমে পড়লেন স্থানীয় টমটম ড্রাইবার ইয়াকুব তার এমন মহৎ কর্মকান্ড দেখে গাড়ী ভাড়া নিতে যেন নারাজ। তার পরেও তিনি তার মজুরি দিয়ে ছাড়লেন।

জানাগেছে, কর্মস্থলে অসংখ্য গরিব দুঃখী ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন তিনি। দক্ষতা ও সুনামের সাথে প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সুযোগ পেলেই অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। খবরের কাগজ বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কোনো অসহায় মানুষের খবর আসলে ছুটে গিয়েছেন তাদের বাড়ি বা ডেকে এনেছেন তার কার্যালয়ে। সহযোগিতা করেছেন ত্রাণ সামগ্রী। সরকারী ছুটি থাকলেও তিনি মহেশখালীর মেগা প্রকল্প অধ্যুষিত অঞ্চলে রোদ্র নেই বৃষ্টি নেই, পানি নেই ২৪টি ঘন্টা মানুষের কাজ নিয়ে গাধাঁর মতো খেটে এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে ক্লান্তহীন ছুটছেন।
পাশাপাশি করোনা মোকাবিলায় মাস্ক বিতরন, হাটবাজারে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো, সুরক্ষাসামগ্রী বিতরণ ও দিনমজুরদের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ, মোবাইল কোর্ট পরিচালনাসহ সবই সামলাতে হচ্ছে তাকে। পাশপাশি সরকারের সিদ্ধান্ত মানতে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করছে, সেটি বাস্তবায়নে তৎপরতা মাঠে অব্যাহত রয়েছে।

উল্লেখ্য, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি) হিসেবে পদায়নের আদেশ প্রাপ্ত হয়েছেন মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ জামিরুল ইসলাম। ফলে একজন দক্ষ তেজি ও নম্র-ভদ্র সাদামেঠা ইউএনওকে হারাবে মহেশখালীবাসী! মহেশখালী উপজেলা নিবার্হী অফিসার মোহাম্মদ জামিরুল ইসলাম এক প্রতিক্রিয়ায় পূর্বকোণকে বলেন, উপজেলা প্রশাসন নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি আরো জানান, একজন সরকারি কর্মচারী হিসেবে জনকল্যাণে সরকারী সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি মাত্র। করোনা মোকাবেলায় জনসচেতনতার কোনো বিকল্প নেই বলে। আশা করছি করোনা যুদ্ধে আমরা জয়ী হব।

Channel Cox News.

আপনার মতামত লিখুন :