• মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬, ০৩:৫২ পূর্বাহ্ন

ইসলাম শান্তির জন্য কথা বলে

বান্দার চোখের পানি আল্লাহর কাছে প্রিয়

মোহাম্মদ আবুল হোসাইন চৌধুরী / ২৩৭ ভিউ টাইম
আপডেট : মঙ্গলবার, ২৫ নভেম্বর, ২০২৫

সকল আমল পরিমাপ করতে পারি কান্না ব্যতীত। কারণ আল্লাহ তা’আলা এক ফোঁটা অশ্রুর কারণে জাহান্নামের আগুনের সাগর নিভিয়ে দেন। (তাফসিরে কুরতুবী)
২৫. ইবনু কায়্যিম রহিমাহুল্লাহ বলেন, যখন আপনি আল্লাহর ভয়ে অনায়াসে কান্না করতে পারবেন, তখন বুঝবেন আপনার অন্তর ঠিক আছে। মন এখনো নরম,শক্ত ও রুক্ষ হয়নি। আর যদি কান্না না করতে পারেন বুঝে নিবেন আপনার অন্তর শক্ত হয়ে গেছে, মন মরে গেছে। কেননা হাদিসের ভাষ্যমতে শক্ত ও রুক্ষ অন্তরের মানুষ আল্লাহর থেকে সবচে বেশি দূরবর্তী।
২৬. বিখ্যাত বুযুর্গ হযরত ফোযায়েল (রহঃ) বলেন আল্লাহর ভয় যাবতীয় নেক কর্মের দিক নির্দেশ করে। হযরত শিবলী (রহঃ) এর কথা কে না জানে তিনি বলেন, আমি যখনই আল্লাহকে ভয় করেছি তখনই আমার ইলমও হিকমাতের এমন দ্বার খূলে গিয়েছে যা ইতিপূর্বে কখনো খোলেনি। হাদীস শরীফে বর্নিত আছে, আল্লাহ তা’আলা বলেন, আমি বান্দার উপর দুটি ভয় একত্রে দিই না এবং একই সময়ে দুটি বিষয়ে নিশ্চিন্ত করিনা।বান্দা যদি দুনিয়াতে আমার বিষয়ে উদাসীন থাকে , তাহলে আখিরাতে আমি তাকে ভয়ের সম্মুখীন করব। আর যদি দুনিয়াতে আমাকে ভয় করতে থাকে, তাহলে আখিরাতে তাকে আমি নিশ্চিন্ত রাখব। রাসূল (সাঃ) ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে, প্রত্যেক বস্তু তাকে ভয় করে। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ব্যতীত অন্যকে ভয় করে, প্রত্যেক বস্তু তাকে ভয় প্রদর্শন করে। ইয়াহইয়া ইবনে মোয়ায (রাঃ) বলেন, হতভাগা মানুষ যদি জাহান্নামকে এতটুকু ভয় করত যতটুকু দারিদ্রকে ভয় করে, তাহলে সোজা জান্নাতে প্রবেশ করত। তাহলে কেন আমরা আল্লাহর ভয়ে আজকে কাঁদি না ? আমরা কাঁদতে পারি না শক্ত হৃদয় এবং দুনিয়ার প্রতি আমাদের অন্তরের আসক্তি থাকার কারনে। তাই আমাদের অন্তর শক্ত হয়ে গেছে এবং আমাদের চোখগুলো শুকিয়ে গেছে। আমরা আমাদের রব থেকে দূরে সরে গেছি। আল্লাহর স্মরণে অন্তর কখনো কঠিন হয় না। তাই যার এক সপ্তাহ চলে যায় এক ফোঁটা পানি চোখ থেকে ঝরে না তাকে এটা নিয়ে বসা উচিৎ, এটা নিয়া চিন্তা করা এবং আল্লাহর অনুগ্রহ কামনা করা এবং নিজেকে বিনম্র করা উচিত। হয়ত তার অন্তর বিগলিত হবে এবং তার চোখ বেয়ে অশ্রু গড়াবে। এবং যদি অন্তর সিক্ত না হয় তাহলে কুরআন খুলে এর আয়াতসমুহ বুঝে বুঝে অত্যন্ত বিনয়ের সাথে পড়া উচিত। ফলে সে কাঁদবে,তার অন্তরে আল্লাহর ভয় আসবে এবং তার আত্মা বিনম্র হবে, তবেই তো সফলতা এবং এভাবেও যদি তার অন্তর আগের কঠিন অবস্থায় থাকে,তাহলে তার একটা অন্ধকার রুমে গিয়ে চিৎকার করে কান্না করা উচিৎ তার মরে যাওয়া অন্তরের জন্য।
২৭. বর্ণিত আছে যে,একজন পয়গম্বর (আঃ) একটি ক্ষীণকায় পাথরের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। ছোট্ট এ পাথরটি থেকে বিপুল পানির ধারা প্রবাহিত হতে দেখে তিনি বিস্মিত হলেন। আল্লাহ পাক তখনি পাথরটিকে বাকশক্তিমান করে দিলেন। পাথরটি বললো, যেদিন থেকে আমি এ আয়াতখানা শুনেছিঃ জাহান্নামের জ্বালানি হবে মানুষ এবং পাথর। (বাকারা : ২৪) সেই দিন হতে ভয়ে আল্লাহর দরবারে রোনাজারী করতেছি। এ কথা শুনে উক্ত পয়গম্বর (আঃ) পাথরটিকে জাহান্নাম হতে মুক্তি দানের জন্য আল্লাহ পাকের কাছে দু’আ করলেন। আল্লাহ পাক স্বীয় পয়গম্বরের দু’আ কবুল করে পাথরটিকে মুক্তিদান করলেন।
উক্ত পয়গম্বর (আঃ) বেশ কিছুদিন পর আবার সেদিকে অতিক্রমের সময় দেখিলেন, এইবার পূর্বাপেক্ষা বেশী পরিমানে ঐ পাথর হতে অশ্রুধারা নির্গত হচ্ছে, পয়গম্বর আরজ করলেন, হে পাথর! এখন আবার কান্না কেন? পাথর বললো, হে আল্লাহর পয়গম্বর (আঃ)! ঐ দিন যে আপনি আমাকে কাঁদতে দেখেছিলেন,আমার সে কান্না ছিল আল্লাহ পাকের ভয়ে এবং আমার নিজের চিন্তায়। কিন্তু আজ আমার এ কান্না হলো কৃতজ্ঞতা ও আনন্দের কান্না। বস্ততঃ মানুষের দিলও পাথরের মত, বরং তদাপেক্ষা কঠিন। এ কাঠিন্য তখনি দূর হয় যখন বান্দা ভয়ের হালতে ভয়ের কান্নাও কাঁদে আবার কৃতজ্ঞতার হালতে শোকরের কান্নাও কাঁদে। আল্লাহ পাক আমাদেরকে শোকরগুযারী বান্দা হিসাবে কবুল করুন। ( মুকাশাফাতুল-ক্বুলূব/গুনিয়াতুত্-ত্বলিবীন)
মানুষের চোখের পানির মর্যাদা আল্লাহ তা’আলার নিকট অনেক বেশি। তাই আমাদের উচিত, সুযোগ পেলেই মহান আল্লাহর দরবারে কান্নাকাটি করা। আল্লাহ তা’আলা দুনিয়াতে আমাদেরকে তাঁর সব বিধিবিধান মেনে চলার পাশাপাশি তাঁর ভয়ে বেশি বেশি কান্নাকাটির করার তাওফিক দিন।


আরো বিভন্ন বিভাগের নিউজ