স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে কক্সবাজারের ঈদগাঁওয়ে মহাসড়কের দুই পাশে কোরবানির পশুর হাট বসানোর অভিযোগ উঠেছে। শনিবার থেকে শুরু হওয়া এ হাটকে ঘিরে দুপুরের পর থেকে যানবাহন আটকে গিয়ে সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট। এতে দূরপাল্লার যাত্রী, পরিবহন শ্রমিক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েন।
শনিবার (২৩ মে) সকাল থেকে ঈদগাঁওয়ের ঐতিহ্যবাহী পশুর হাটে গরু কেনাবেচা শুরু হয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, ঈদগাহ কলেজ গেট থেকে ঈদগাঁও বাসস্টেশন পর্যন্ত মহাসড়কের উভয় পাশে পশুর হাট গড়ে ওঠে। এর ফলে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারমুখী বাসসহ বিভিন্ন যানবাহনের চলাচল ব্যাহত হয় এবং দীর্ঘ সময় যানজট স্থায়ী হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের উপস্থিতিতেই মহাসড়কের পাশে পশুর হাট পরিচালিত হয়েছে। উপজেলা ও থানা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বাজার এলাকায় অবস্থান নিতে দেখা যায়। সড়কের পশ্চিম পাশে প্যান্ডেল তৈরি করে বাজার পরিস্থিতি তদারকিও করা হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।
এদিকে বাজারকে কেন্দ্র করে খাস কালেকশন আদায়ে অনিয়মের অভিযোগও উঠেছে।
সচেতন মহলের দাবি, উপজেলা প্রশাসনের খাস কালেকশন রশিদের আদলে জাল রশিদ তৈরি করে একটি চক্র অর্থ আদায় করছে। একই সঙ্গে সীমান্তবর্তী পাহাড়ি পথ দিয়ে আসা কথিত অবৈধ বার্মিজ গরু খাস কালেকশনের রশিদের মাধ্যমে বৈধতা পাচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অর্থ লেনদেন হলেও বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। তবে অভিযোগগুলোর স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
মহাসড়কে পশুর হাট বসানো নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে সমালোচনা শুরু হলে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শারমিন সোলতানাকে কিছু সময়ের জন্য বাজার সরানোর উদ্যোগ নিতে দেখা যায়। পরে আবারও আগের মতো সড়কের পাশেই পশুর হাট চলতে থাকে বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মংচিংনু মারমা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) শারমিন সোলতার সরকারি মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা সাড়া দেননি। খাস কালেকশন কার্যক্রমের দায়িত্বে থাকা ঈদগাঁও ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তহশিলদার আব্দুল জব্বারের মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।