• বুধবার, ০৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০১:১৮ অপরাহ্ন
  • Bengali Bengali English English

উখিয়ার নুর হোটেলের মালিকানা নিয়ে দ্বন্দ্ব, হামলা-মামলা, সম্পত্তির জন্য ছোট ভাইকে ‘জঙ্গি’ বলে অপপ্রচার বড় ভাইয়ের

Office Room
আপডেট : সোমবার, ৮ জুলাই, ২০১৯

নিজস্ব প্রতিবেদক:
উখিয়ার নূর হোটেল চেনে না এমন লোক খুব কমই আছে। সুস্বাদু মিষ্টির জন্য এই হোটেলের সুনাম জেলার বাইরেও। অনেকে সখ করে নুর হোটেলে মিষ্টি খেতে যায়। বাসাবাড়িতেও নিয়ে যায়। সেই ঐতিহ্যবাহী নুর হোটেলের মালিকানা নিয়ে দ্বন্দ্ব চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। থানা ও আদালত পর্যন্ত মামলা গড়াচ্ছে।
নুর হোটেলের প্রতিষ্ঠাতা মালিক নুরুল ইসলাম সওদাগরের মৃত্যুর পর স্বার্থের দ্বন্দ্বে সেই ঐতিহ্য হারাতে বসেছে নুর হোটেল। বিশেষ করে বর্তমান মালিক মুহাম্মদ শামসুদ্দিন শামীমের বিরুদ্ধে নানামুখি ষড়যন্ত্র চলছে। জঙ্গিবাদের মতো স্পর্শকাতর ইস্যুতে অপবাদ দিয়ে তাকে ঘায়েল করার জন্য উঠেপড়ে লেগেছে সহোদররা। খোদ বড় ভাই জসিম উদ্দিনের স্ত্রী জোসনা আক্তারকে দিয়ে মামলা করা হয়েছে। কক্সবাজার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে গত ৪ এপ্রিল দায়েরকৃত মামলায় শামসুদ্দিন শামীসহ আরো ৫ জনকে আসামী করা হয়েছে। ওই মামলার এজাহারে শামসুদ্দিন শামীমকে জঙ্গি সংগঠনের সদস্য ও জঙ্গি আস্তানায় বিভিন্ন মালামাল সরবরাহকারী হিসেবে উল্লেখ করেছেন বাদি জোসনা আক্তার। তিনি তার স্বামী জসিম উদ্দিনের মালিকানাধীন জমিলা ট্রেডার্সে গত ৩০ জুন সকালে হামলা ভাঙচুরের অভিযোগ তুলেন।
স্থানীয়রা জানিয়েছে, গত ৩০ জুন তার নুর হোটেলে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় শামীমের বড় ভাই জসিম উদ্দিনের স্ত্রী জোসনা আক্তার। ঘটনার প্রত্যক্ষ সাক্ষি তখনকার সময়ের দোকানে থাকা কাস্টমাররা। যা সিসি ক্যামেরার ফুটেজে স্পষ্ট প্রমাণ আছে। অথচ নিজেই ঘটনা করে উল্টো মিথ্যা অভিযোগে মামলা করেছে জোসনা আক্তার।
নুর হোটেলের মালিক মোহাম্মদ শামসুদ্দিন শামীম জানান, শত শত মানুষের সামনে ফিল্মি স্টাইলে দোকানের ভাঙচুর, লুটপাট ও কর্মচারীদের উপর হামলার ঘটনায় উখিয়া থানায় তিনি মামলা করেছেন। গত ৫ জুলাই দায়েরকৃত মামলাটি (থানা মামলা ৩২৭/১৯, জিআর মামলা ১০/১৯) সঠিক তদন্ত করলে প্রকৃত অপরাধী বের হয়ে আসবে। মূলতঃ নুর হোটেলের মালিকানা দখলে নিতে এসব ঘটনা ঘটানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে ভুক্তভোগিরা।
শামীম জানান, ০.২৫০ একর জমিতে তিনি নুর হোটেল করেছেন। সেখানে ০.৫০ একরের অংশিদার তিন ভাই জসিম উদ্দিন, মোস্তফা কামাল ও জয়নাল আবেদীন থেকে লিখিত চুক্তিনামামূলে ১৪ বছরের জন্য ভাড়া নিয়েছেন। যার মেয়াদ আরো ৪ বছর বাকি। মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নিজেদের সামান্য অংশের অজুহাতে পুরো প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করার পাঁয়তারা চালাচ্ছে।
একের পর এক হামলা, মামলার পর এবার তাকে জঙ্গি তৎপরতার সাথে অভিযুক্ত করে কয়েকটি অনলাইনে সংবাদ করানো হয়েছে। আপন বড় ভাই জসিম উদ্দিনের বক্তব্যের বরাত দিয়ে প্রকাশিত সংবাদের মাধ্যমে স্পর্শকাতর ইস্যুটিতে জড়িত করার নানামুখি তৎপরতা চালানো হচ্ছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন অবগত আছে।
নুর হোটেলের মালিক মোহাম্মদ শামসুদ্দিন শামীম আরো জানান, তিনি দীর্ঘকাল থেকে উখিয়া সদরে ব্যবসা বাণিজ্য করে আসছেন। তার চালচলন সবার কাছে স্পষ্ট। মিথ্যা অভিযোগে মামলায় ঘায়েল করা সম্ভব হবেনা। নিজে নিয়মিত ভ্যাট-টেক্স প্রদানকারী একজন নাগরিক হওয়া সত্ত্বেও এমন অভিযোগ দুঃখজনক মন্তব্য করে শামীম জানান, তিনি বৈধ কাগজপত্রের ভিত্তিতে ইন্টারন্যাশনাল রেডক্রস, জার্মান রেডক্রসের সঙ্গে কাজ করেছেন। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে খাবার সরবরাহ ছাড়াও শেড, টয়লেট, টিউবওয়েল নির্মাণসহ ওয়াশ প্রোগ্রাম করেছেন। দুঃখের সাথে তিনি বলেন, নিজের কেনা জমিতে গড়ে তোলা বাগান পাহারায় নির্মাণ করা ঘরকে ‘জঙ্গি আস্তানা’ উল্লেখ করে যে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে তা সম্পূর্ণ পরিকল্পিত।
মরহুম নুরুল ইসলাম সওদাগরের স্ত্রী (জসিম উদ্দিন, মোস্তফা কামাল, জয়নাল আবেদীন ও শামসুদ্দিন শামীমের মা) আলতাজ বেগম অভিযোগ করেছেন, বড় ছেলে জসিম উদ্দিন ও পুত্র বধূ জোসনা আক্তার অনেকবার তাকে লাঞ্চিত ও নিজের ঘর থেকে বের করে দেওয়ার পাঁয়তারা করেছে। অকথ্য ভাষায় গালমন্দ ও মারধর করেছে। নিজের সন্তানদের মধ্যে বিরোধ অবসানে কর্তৃত্ববানদের এগিয়ে আসার আহবান জানিয়েছেন মরহুম নুরুল ইসলাম সওদাগরের স্ত্রী।
উখিয়া থানার ওসি মো. আবুল খায়ের জানান, গত ৩০ জুন নুর হোটেলে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগে তাৎক্ষণিক পুলিশ পাঠানো হয়। প্রকৃত ঘটনা ও স্থানীয়দের সাক্ষ্য নেয়া হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা রেকর্ড হয়েছে। তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


আরো বিভন্ন বিভাগের নিউজ
February 2023
M T W T F S S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031