• রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:২২ পূর্বাহ্ন

যাত্রীদের লাগেজ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা বাড়াতে ১৮টি 4K মনিটরে ৩২টি বিশেষ সিসিটিভি ক্যামেরার সরাসরি সম্প্রচার

হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে লাগেজ ব্যবস্থাপনার সরাসরি সম্প্রচার শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক / ১৮ ভিউ টাইম
আপডেট : শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রীদের লাগেজ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়াতে সরাসরি সম্প্রচার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বিমানবন্দরের লাগেজ বেল্ট এলাকায় স্থাপন করা ৬৫ ইঞ্চির ১৮টি 4K মনিটরে ৩২টি বিশেষ সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে লাগেজ ওঠানো-নামানো ও ব্যবস্থাপনার কার্যক্রম সরাসরি দেখতে পারছেন যাত্রীরা।

এ উদ্যোগের জন্য বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ, টিম এয়ারপোর্ট, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট উদ্যোগের প্রশংসাকারীরা।

সম্প্রতি ‘এয়ারপোর্ট ক্রনিকলস-৫৩’ শিরোনামে প্রকাশিত এক বার্তায় এ তথ্য তুলে ধরে বলা হয়, লাগেজ ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর ফলে যাত্রীদের মধ্যে স্বচ্ছতা ও আস্থা তৈরিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে এ উদ্যোগ।

দুই পদ্ধতিতে পরিচালিত হয় লাগেজ ব্যবস্থাপনা

বার্তায় বলা হয়, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাধারণত দুই ধরনের পদ্ধতিতে বিমানের লাগেজ নামানো হয়।

প্রথমত, ওয়াইড বডি বিমানে কনটেইনারের মাধ্যমে লাগেজ পরিবহন করা হয়। বিমান থেকে নামানোর পর বিশেষ বাহনে করে লাগেজ সিসিটিভি ক্যামেরার আওতাধীন এলাকায় নেওয়া হয়। এ প্রক্রিয়ায় লাগেজ ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন ধাপ পর্যবেক্ষণের সুযোগ রয়েছে।

দ্বিতীয়ত, ন্যারো বডি বা ছোট বিমানের কার্গো হোল্ড থেকে সরাসরি লাগেজ নামানো হয়। এ ক্ষেত্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীরা বডি-ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করে লাগেজ ওঠানো-নামানোর কাজ করেন বলে বার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে। এসব ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিও সার্ভারে সংরক্ষিত হয় এবং সংশ্লিষ্ট রেকর্ড ৯০ দিন পর্যন্ত রাখা হয় বলে জানানো হয়েছে।

এ ছাড়া লাগেজ ব্যবস্থাপনার সার্বিক তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একজন মেজর দায়িত্ব পালন করেন বলেও বার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত লাগেজের তথ্য সংরক্ষণের ব্যবস্থা

বার্তায় আরও বলা হয়, লাগেজ ওঠানো-নামানোর সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা হয়। কোনো লাগেজ কাটা বা ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় পাওয়া গেলে সেটির ছবি তুলে বিশেষ রেজিস্টারে তথ্য সংরক্ষণ করা হয়।

ফলে লাগেজ হারানো, কাটা বা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট রেকর্ড যাচাই করে ঘটনার কারণ অনুসন্ধানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

লাগেজ কাটা বা খোলা থাকার পেছনে অন্য কারণও থাকতে পারে

অনেক যাত্রী বাংলাদেশে পৌঁছে লাগেজ কাটা বা খোলা অবস্থায় পাওয়ার পর বিমানবন্দরে চুরির ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করেন। তবে বার্তায় বলা হয়েছে, সব ক্ষেত্রে এর জন্য বাংলাদেশের বিমানবন্দরকে দায়ী করা সঠিক নয়।

নিরাপত্তাঝুঁকি, দাহ্য পদার্থ, নিষিদ্ধ বস্তু কিংবা সন্দেহজনক সামগ্রীর উপস্থিতি যাচাই করতে যাত্রার আগের বিমানবন্দরেও লাগেজ পরীক্ষা করা হতে পারে। এ সময় তালাবদ্ধ লাগেজ খুলে তল্লাশি চালানোর ঘটনাও ঘটতে পারে। বিশেষ করে তালা খোলার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নোটিশ না থাকলে যাত্রীদের মধ্যে ভুল ধারণা তৈরি হতে পারে।

এ ছাড়া যাত্রাপথে অন্য কোনো বিমানবন্দরে লাগেজ হারানো বা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

অভিযোগ জানাতে যাত্রীদের প্রতি আহ্বান

যাত্রীদের লাগেজ কাটা, খোলা বা কোনো মালামাল হারিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটলে বিমানবন্দর ত্যাগ করার আগে লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড কাউন্টারে অভিযোগ জানানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া বিমানবন্দর-সংক্রান্ত কোনো সমস্যা, পরামর্শ বা অভিযোগ জানাতে ১৩৬০০ নম্বরে যোগাযোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। যাত্রী অধিকার লঙ্ঘিত হলে এয়ারপোর্ট এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটদের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর ০১৩০৪০৫০৬০৩-এ জানানোর আহ্বানও জানানো হয়েছে।

বার্তায় আরও বলা হয়, বিমানবন্দরের কোনো অনিয়ম বা সমস্যা নিয়ে অভিযোগ থাকলে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে তা তুলে ধরা উচিত। একই সঙ্গে যাচাই না করে পুরোনো কিংবা অন্য স্থানের ভিডিও ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার না করার আহ্বান জানানো হয়েছে।


আরো বিভন্ন বিভাগের নিউজ