বেসরকারি শিক্ষকদের বদলি, এখন গণদাবি — আনম রফিকুর রশীদ

Channel Cox.ComChannel Cox.Com
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৮:০৫ AM, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২০

দেশের সর্ববৃহৎ পেশাজীবী গোষ্ঠী বেসরকারি শিক্ষকসমাজ। ত্রিশ হাজার এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চাকুরি করেন, পাঁচ লক্ষ শিক্ষক। বিশ্বের অষ্টম আশ্চর্য … তাঁদের বদলির কোনো ব্যবস্থা নেই। ষাটবছর বয়স অবধি একই প্রতিষ্ঠানে চাকুরি করে অবসরে যান, পাহাড়সম একঘেয়েমি নিয়ে।

কেনো বদলির পক্ষে বলি–
জাতীয়করণের ঘোষণার সাথে সরকারি পূর্ব শর্ত থাকে পাঁচবছর বদলি হওয়া যাবে না, অর্থাৎ সময়সাপেক্ষ।
বদলি একটি বাজেটবিহিন দাবি, যা অধিকারও বটে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন নেই, দ্রুত বাস্তবায়নযোগ্য। তাই, জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসাবে অনতিবিলম্বে বদলি চাই!

বদলির দাবি এখন সর্বমহলের–
শিক্ষার গুণগত মান অর্জন ও সকল পর্যায়ে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে বদলির বিকল্প নেই।
বদলির দাবি তাই এখন আর শিক্ষকদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, সর্বমহলের দাবিতে পরিণত হয়েছে।

সুফলঃ
১. প্রত্যেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিজেদের প্রয়োজনীয় গুণগতমানের বিষয় শিক্ষক সমন্বয়করণের সুযোগ পাবে

২. শিক্ষার্থীরা নতুন শিক্ষকের নতুন পাঠের প্রতি অধিক মনোযোগী হয়, তাই, শিক্ষার্থী ও বিদ্যালয়ের মান বৃদ্ধি পাবে

৩. যোগ্য শিক্ষকেরা অধিকতর নামি প্রতিষ্ঠানের শূন্য পদে বদলির সুযোগ পাবেন

৪. শিক্ষকরা স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের প্রভাব ও বাড়াবাড়ি থেকে মুক্তি পাবেন

৫. কমিটি তোষণ, হয়রানিমূলক শোকজ, মানষিক চাপ, মামলা, চাকুরিচ্যুতির হুমকি, ইত্যাদি থেকে মুক্ত থাকবেন

৬. দূরবর্তী শিক্ষকদের আবাসন সংকট ও বাসাভাড়ার মাথাব্যথা দূর হবে

৭. গণপরিবহনের উপর চাপ কমবে, এক্সিডেন্টের ঝুঁকি হ্রাস পাবে

৮. বদলির সুযোগপ্রাপ্ত শিক্ষকরা
ক, মা-বাবার সেবা করতে পারবেন
খ, সন্তান বা পরিবারকে সময় দিতে পারবেন
গ, আর্থিক সাশ্রয় হবে।
ঘ, খাবার সমস্যা থাকবে না

৯. দীর্ঘদিন একই বিদ্যালয়ে ঝিমিয়ে পড়া শিক্ষকরা নতুন প্রতিষ্ঠানে, নতুন পরিবেশের ক্লাসে প্রাণচাঞ্চল্যতা ফিরে পাবেন

১০. জাতীয়করণের সুযোগ তরান্বিত হবে

১১. ঐচ্ছিক বদলি হওয়ায় পছন্দের প্রতিষ্ঠানে থাকা শিক্ষকদেরকে বাধ্যতামূলক বদলি করার ঝুঁকিমুক্ত, উনারা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে বহাল তবিয়তে থাকতে পারবেন।

যারা ভিন্নমত পোষণ করেন, তাদের প্রতি–
আমরা মানবিক কারণেই বেসরকারি শিক্ষকদের বদলির পক্ষে, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের দুঃখদুর্দশা দেখে।
বদলির বিপক্ষে যারা খোঁড়া যুক্তি উপস্থাপন করেন, উনাদের মাঝে মহান শিক্ষকদের মানবিক গুণাবলীর অভাব পরিলক্ষিত।
যাঁরা সুবিধা অবস্থায় আছেন, তাঁরাই সুযোগ হারানোর ভয়ে অযুক্তিক তর্ক করেন। উনারা বুঝতে চান না যে, আমাদের দাবি ঐচ্ছিক ও শূন্য পদে। দাবিটি বাজেটবিহিন ও ২০১০, ২০১৮ সালের নীতিমালায় বিদ্যমান থাকায় সরকারের পক্ষে বাস্তবায়ন সহজ। সুতরাং বদলিতে যাঁদের ভয়,তাঁরা বহাল তবিয়তে থাকতে পারবেন।

কিছু অপ্রিয় সত্য–
*
নীতিমালা সংশোধনী কমিটির সভা বসে কচ্ছপের পিঠে… শম্বুকগতি

শিক্ষকদের দাবি, দ্রুত ঐচ্ছিক বদলি,

*
দখিণা হাওয়া উত্তরা যায়, উত্তরা বায়ু দক্ষিণে,
স্যারদের হাওয়া বদলের সুযোগ নেই, চিরদিন লকডাউনে

*শিক্ষকরা অন্ধকার রাহুর গ্রাসে বন্দি।
বেসরকারি স্কুল ঝিমিয়ে পড়ার জন্যে রাহুগ্রাসই দায়ি। রাহুমুক্তির একমাত্র উপায় হচ্ছে, বদলি।

*
শিক্ষকরা বদলি হতে পারবেন না; এটা ব্রিটিশদের রেখে যাওয়া নিবর্তনমূলক আইন।
এই আইন রহিত হোক, স্বাধীনতার স্থপতি মুজিববর্ষে।

*
মূল্যায়নহীন শিক্ষকেরা বেসরকারি,
বদলিহীন শিক্ষকতা বেদরকারি।

বদলির ব্যবস্থা চালু হলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রাণচাঞ্চল্যতা আসবে।
দেশ, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের কল্যাণ হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সুপরিবর্তন আসবে, শিক্ষকরা একটি সুশিক্ষিত জাতি উপহার দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হবেন।

শিক্ষকদের দাবি অহিংস, সহিংসতা নেই, গণবিজ্ঞপ্তির আগে বদলি বিধির ঘোষণা চায়!

লেখক — আনম রফিকুর রশীদ

আপনার মতামত লিখুন :