• মঙ্গলবার, ২৪ নভেম্বর ২০২০, ১১:৪৭ পূর্বাহ্ন
Channel Cox add

জেলা ছাত্রলীগের নতুন কমিটিতে উচ্ছ্বসিত তৃণমূলের নেতাকর্মীরা | ChannelCox.com

সংবাদদাতা
আপডেট : বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২০

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

দীর্ঘ ছয় বছর পর কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগের নতুন কমিটির নেতৃত্ব পেয়ে জেলা জুড়ে তৃণমূল ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে।

কমিটি ঘোষণার পর থেকে কক্সবাজার জেলার অধীনস্থ সাংগঠনিকসহ ৯ উপজেলা, চার পৌরসভা, ইউনিয়ন এবং ওয়ার্ড পর্যায়ের তৃণমূলের ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা দফায় দফায় আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ করতে দেখা গেছে।

তৃণমূলের ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের আশা পূর্বের কমিটির বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ ছিল সেসব অভিযোগ থেকে বেরিয়ে এসে স্বচ্ছ সাংগঠনিক কার্যক্রমের মাধ্যমে ছাত্রলীগকে এগিয়ে নেবেন। সেই লক্ষে কেন্দ্র থেকে পরিচ্ছন্নদের বাছাই করে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে বলে বিশ্বাস তাদের।

ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের দাবি, দীর্ঘদিন পর দুইজন মাঠ পর্যায়ের পরিচ্ছন্নকর্মী ছাত্রলীগ কর্মীকে নেতা হিসেবে পেয়েছেন তারা। তাদের আশা, ত্যাগী তৃণমূলের ছাত্রলীগ কর্মীদের দুঃখ তাদের বুঝতে সক্ষম হবে। এবং আগামীর কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগ হবে মাদকমুক্ত।

এর আগে গত (২ নভেম্বর) এস এম সাদ্দাম হোসাইনকে সভাপতি এবং আবু মো. মারুফ আদনানকে সাধারণ সম্পাদক করে ১৪জন বিশিষ্ট কক্সবাজার জেলা কমিটির অনুমোদন দেয়া হয়।

ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় শাখার সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য্য স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ছয় বছর পর নতুন এই কমিটি অনুমোদন দেন।

এছাড়াও নতুন কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন সহ-সভাপতি পদে মো. মঈন উদ্দীন, কাইসার উল আলম মুন্না চৌধুরী, বোরহান উদ্দিন খোকন, নারিমা জাহান।

যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক পদে আনোয়ার হোসেন, সাখাওয়াত হোসেন, সাজ্জাদুল হক, মো. শওকত হোসেন পেকুয়া। অপরদিকে ওয়াসিফ কবির, কামরুজ্জামান হিরু, এরশাদুল হক মিলন, গাজী নাজমুল হককে সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ছাত্রলীগের দায়িত্বশীল কেন্দ্রীয় কমিটির একাধিক নেতা জানান, কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগের মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পর কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে কয়েকবার সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা করা হয়। তবে জেলা ছাত্রলীগের শীর্ষনেতাদের অসহযোগিতা আর অনিচ্ছায় সম্মেলন করা সম্ভব হয়নি। তাই শেষ পর্যন্ত সংগঠনের স্বার্থে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নতুন কমিটি দেয়া হয়েছে।

সদ্য সাবেক জেলা ছাত্রলীগের কমিটির সদস্য তারেকুল ইসলাম রাহিত বলেন, কেন্দ্র থেকে ঘোষিত কমিটির ১৪ জনই সাংগঠনিকভাবে যোগ্য। আশা করছি নতুন নেতৃত্ব জেলা এবং অধীনস্থ ইউনিটগুলোকে নতুন করে সাজিয়ে ছাত্রলীগের ভাবমূর্তি অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবেন। তৃণমূলের দাবি হচ্ছে- অছাত্র, বিবাহিত, ইয়াবা কারবারি, মাদকসেবী, মোটরসাইকেল চোর, টোকাই ও বখাটেসহ অনুপ্রবেশকারীদের যাতে ছাত্রলীগে স্থান না হয়।

এ প্রসঙ্গে নবনিযুক্ত কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি এস এম সাদ্দাম হোসাইন ও সাধারণ সম্পাদক আদনান মারুফ বলেন, ‘অনেক কিছু যাচাই-বাছাই করেই আমাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। যে উদ্দেশ্য নিয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ আমাদের ওপর দায়িত্ব অর্পণ করেছেন, তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করে ছাত্রলীগের ভাবমূর্তি অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া হবে।

তারা আরও বলেন, কোন দুর্বৃত্ত, মাদক কারবারি, মাদকসেবীসহ অপরাধের সাথে জড়িতদের ছাত্রলীগে স্থান হবে না। কমিটি দেওয়া নিয়ে কোন ধরণের অবৈধ বাণিজ্য করা হবে না। সাংগঠনিক দক্ষতার মাধ্যমে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু কন্যা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করা হবে।

এদিকে সদ্য বিদায় কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ইশতিয়াক আহমেদ জয় ও সাধারণ সম্পাদক মোর্শেদ হোসেন তামিম দুইজনই নতুন কমিটির সভাপতি সাধারণ সম্পাদককের বিরুদ্ধে নানান অভিযোগ তুলে ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে উল্টো বিপাকে পড়েছেন তারা। খোদ তাদের কমিটির নেতাকর্মীরা উল্টো প্রশ্ন ছুঁটে দিয়েছেন ইশতিয়াক ও তামিমকে।

কক্সবাজার ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের দাবি, ইশতিয়াক আহামেদ জয় ও মোর্শেদ হোসেন তামিম আজীবন সভাপতি সম্পাদক পদে থাকতে চান। এসময় ইশতিয়াক-তামিমের নানান অপকর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা বলেন, তারা দুইজনের জন্য কক্সবাজারে ছাত্রলীগ আজ ধ্বংসের পথে। দেশ ও সংগঠনের স্বার্থে প্রতিহিংসা বাদ দিয়ে নতুন কমিটিকে বরণ করে নেয়ার আহ্বানও জানান তারা।

অন্যদিকে পদবী বঞ্চিত সাবেক কয়েকজন নেতা ক্ষোভের বসে বুধবার হরতাল আহ্বান করলেও তা শেষ পর্যন্ত স্থগিত করেন।

হরতাল আহ্বানকারীদের পক্ষে মারুফ ইবনে হোছাইন গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলেন, কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের অনুরোধে এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সাথে ফলপ্রসূ আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের পূর্বঘোষিত বুধবারের (৪ নভেম্বর) ঘোষিত হরতালের কর্মসূচী আপাতত স্থগিত ঘোষনা করা হল এবং কক্সবাজারের জেলা ছাত্রলীগের নিবেদিত প্রাণ ওপা সর্বস্তরের নেতা কর্মীদের ধৈর্য্য সহকারে শান্তিপূর্ন পরিবেশ বজায় রাখার জন্য অনুরোধ করা হল।

একই সাথে তৃতীয় পক্ষ বা দুর্বৃত্ত কর্তৃক জেলার কোথাও রাস্তা-ঘাটে বা যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটাতে না পারে সেদিকে ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীসহ সর্বস্তরের নেতা কর্মীদের সজাগ থাকার অনুরোধ রইল।

Channel Cox News.


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

1 + nineteen =

আরো বিভন্ন বিভাগের নিউজ