• মঙ্গলবার, ২৪ নভেম্বর ২০২০, ০৬:৪৩ পূর্বাহ্ন
Channel Cox add

চকৱিয়ায় জেল হত্যা দিবসে চার জাতীয় নেতার স্মরণে সভা অনুষ্ঠিত | ChannelCox.com

সংবাদদাতা
আপডেট : বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২০

মো: নাজমুল সাঈদ সোহেল,চকরিয়া:

১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর চার জাতীয় নেতাকে কারাগারে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ’৭৫ এর ১৫ আগস্ট স্বপরিবারে হত্যার পর জাতির ইতিহাসে ৩ নভেম্বর দ্বিতীয় কলঙ্কজনক অধ্যায়। মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম বীর সেনানী ও চার জাতীয় নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দিন আহমেদ, এএইচএম কামারুজ্জামান এবং ক্যাপ্টেন মনসুর আলীকে এই দিনে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের অভ্যন্তরে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।

এদিনে চকৱিয়া উপজেলা ও পৌৱ আওয়ামীলীগ এবং সহযোগী সংগঠন মুক্তিযুদ্ধের চার জাতীয় নেতাকে যথাযথ শ্রদ্ধা প্রদর্শনের মাধ্যমে ইতিহাসের বর্বরোচিত এই কালো অধ্যায়টিকে স্মরণে আলোচনা সভার আয়োজন করেন। মঙ্গলবার বিকাল ৪টায় চকৱিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগেৱ উদ্যোগে সিস্টেম কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন, কক্সবাজার এক সংসদ সদস্য আলহাজ্ব জাফর আলম বি অনার্স এমএ।

সভাপতিৱ বক্তব্যে আলহাজ্ব জাফর আলম বি অনার্স এমএ বলেন, জেলহত্যা মামলার ১০ জন আসামি এখনও পলাতক। তারা হলেন- মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মোসলেম উদ্দিন, আপিল বিভাগের রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মারফত আলী শাহ ও আবুল হাসেম মৃধা, যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত খন্দকার আবদুর রশিদ, শরিফুল হক ডালিম, এমএইচএমবি নূর চৌধুরী, এএম রাশেদ চৌধুরী, আহমদ শরিফুল হোসেন, কিসমত হোসেন ও নাজমুল হোসেন আনসার। যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আবদুল মাজেদ দেশের বাইরে মারা গেছেন।

১৯৯৮ সালের ১৫ অক্টোবর ২৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। ২০০৪ সালের ২০ অক্টোবর ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. মতিউর রহমান মামলার রায় দেন। রায়ে তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ১২ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- রিসালদার মোসলেম উদ্দিন, দফাদার মারফত আলী শাহ ও দফাদার আবুল হাশেম মৃধা। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- খন্দকার আবদুর রশিদ, শরিফুল হক ডালিম, এমএইচএমবি নূর চৌধুরী, এএম রাশেদ চৌধুরী, আবদুল মাজেদ, আহমদ শরিফুল হোসেন, কিসমত হোসেন, নাজমুল হোসেন আনসার, সৈয়দ ফারুক রহমান, শাহরিয়ার রশিদ, বজলুল হুদা ও একেএম মহিউদ্দিন। মামলায় সাবেক মন্ত্রী কেএম ওবায়দুর রহমান, শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, নুরুল ইসলাম মঞ্জুর ও তাহের উদ্দিন ঠাকুরকে খালাস দেয়া হয়।

২০০৮ সালে হাইকোর্ট রিসালদার মোসলেম উদ্দিনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখলেও মৃত্যুদণ্ড পাওয়া অন্য দুই আসামি মারফত আলী ও হাশেম মৃধাকে খালাস দেন। এছাড়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পাওয়া ফারুক, শাহরিয়ার রশিদ, বজলুল হুদা ও একেএম মহিউদ্দিন আহমেদকেও খালাস দেয়া হয়। কিন্তু রাষ্ট্রপক্ষ হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করলে ২০১৩ সালের ১৫ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ রায়ে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের দেয়া তিনজনের মৃত্যুদণ্ড এবং ১২ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল রাখেন। তাদের মধ্যে জাতির জনকের হত্যা মামলায় ২০১০ সালের ২৭ জানুয়ারি মধ্যরাতে সৈয়দ ফারুক রহমান, শাহরিয়ার রশীদ খান, বজলুল হুদা ও একেএম মহিউদ্দিনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

প্রতিবারের ন্যায় এবারও আওয়ামী লীগ সশ্রদ্ধচিত্তে যথাযথ মর্যাদা ও বেদনার সঙ্গে শোকাবহ এ দিবসকে স্মরণ ও পালন করবে এবং এ লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। তবে, বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে জেলহত্যা দিবসে সীমিত পরিসরে কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।

চকরিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন চৌধুরীর সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন কক্সবাজার জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য আমিনুর রশিদ দুলাল, চকরিয়া পৌরসভার মেয়র ও উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক আলমগীর চৌধুরী, উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি বাবু এমআর চৌধুরী, সহ-সভাপতি ছৈযদ আলম কমিশনার, যুগ্ম-সম্পাদক শাহনেওয়াজ তালুকদার, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি শহীদুল ইসলাম শহীদ, সাধারণ সম্পাদক আলহাজ কাউছার উদ্দিন কছির।

আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন, খুটাখালী আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ জয়নাল আবেদিন, সাধারণ সম্পাদক বাহাদুর হক, ডুলাহাজারা আওয়ামীলীগের সভাপতি হাজী জামাল হোছাইন, ফাসিয়াখালী আওয়ামীলীগের সভাপতি মেম্বার সাহাব উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক নুরুল আবছার, লক্ষ্যারচর আওয়ামীলীগের সভাপতি রেজাউল করিম সেলিম, সাধারণ সম্পাদক খ.ম বুলেট, কৈয়ারবিল আওয়ামীলীগের সভাপতি ফিরোজ আহমদ চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক আতিকুর রহমান হানু, বরইতলী আওয়ামীলীগের সভাপতি মাস্টার বেলাল আহমদ, সাধারণ সম্পাদক নুরুল আলম, হারবাং ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মেরাজ উদ্দিন মিরাজ, কাকারা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ নাজিম উদ্দিন, চিরিঙ্গা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি জামাল হোসেন চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক আলহাজ জাফর আলম সিআইপি, বমুবিলছড়ি ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম, আওয়ামীলীগ নেতা রতন বড়ুয়া, চকরিয়া পৌরসভা ৮নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি আহমদ রেজা, সাধারণ সম্পাদক রিয়াদ উদ্দিন, পৌরসভা আওয়ামীলীগ নেতা লায়ন আলমগীর চৌধুরীসহ উক্ত স্মরণ সভায় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

Channel Cox News.


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

two + 15 =

আরো বিভন্ন বিভাগের নিউজ