• বৃহস্পতিবার, ২৯ জুলাই ২০২১, ১০:৪৯ পূর্বাহ্ন

নৌকাকে বিজয়ী করতে দলে কোন বিবেদ থাকতে পারে নাঃ এড: সিরাজুল মোস্তফা

Md. Nazim Uddin
আপডেট : শুক্রবার, ১৮ জুন, ২০২১

চকরিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি জাফর আলম এমপি ও পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি জাহেদুল ইসলাম লিটুর দলীয় পদ থেকে অব্যাহতির আদেশ কেন্দ্রের নির্দেশে প্রত্যাহারের পর চকরিয়ায় আওয়ামীলীগের রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। পৌর নির্বাচনে নৌকাকে বিজয়ী করতে জেলা আওয়ামীলীগের নেতৃত্বে এখন ঐক্যবদ্ধ চকরিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগ।

সবধরণের ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে পৌর নির্বাচনে ঐক্যবদ্ধভাবে নৌকাকে বিজয় করার ঘোষণা দেন সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা। বৃহস্পতিবার (১৭ জুন) বিকাল তিনটায় চকরিয়া পৌর শহরের এটিএন পার্ক কনভেনশন হলে চকরিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের উদ্যোগে বিশাল কর্মী সমাবেশে জেলা ও উপজেলা আ’লীগের নেতৃবৃন্দ এসব ঘোষনা দেন।

চকরিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাংসদ জাফর আলমের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত কর্মী সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা। প্রধান বক্তা ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এডভোকেট ফরিদুল ইসলাম চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র মুজিবুর রহমান।

এ সময় জেলা আ.লীগের যুগ্ম সম্পাদক মাহবুবুল হক মুকুল, এডভোকেট রনজিত দাশ, জেলা আওয়ামীলীগ নেতা এডভোকেট আয়াছুর রহমান, আবদুল খালেক, বন ও পরিবেশ সম্পাদক জেলা পরিষদ সদস্য কমরুউদ্দিন আহমদ, ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ সম্পাদক ইউনুছ বাঙ্গালী, শ্রম সম্পাদক গাজী মোস্তাক, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ফজলুল করিম সাঈদী, চকরিয়া পৌরসভার মেয়র আলমগীর চৌধুরী, কক্সবাজার সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কাইছারুল হক জুয়েল, উপ-দপ্তর সম্পাদক এমএ মনজুর, আমিনুর রশিদ দুলাল, পেকুয়া মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান উম্মে কুলসুম মিনু, পেকুয়ার আহবায়ক আবু হেনা মোস্তফা কামাল, সদস্য সচিব আবুল কাসেম, চকরিয়া পৌরসভার সভাপতি জাহেদুল ইসলাম লিটু ও সাধারণ সম্পাদক আতিক উদ্দিন চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে এডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা বলেন, চকরিয়া পৌরসভা নির্বাচনে নৌকার প্রার্থীকে বিজয়ী করতে হবে। আমরা ঐক্যবদ্ধ আওয়ামীলীগ। ঐক্যবদ্ধ আওয়ামীলীগকে কেউ ঠেকাতে পারবে না। আমাদের মধ্যে অনেক ভুল বুঝাবুঝি হবে। যখনই শেখ হাসিনার নৌকাকে বিজয় করার কথা আসবে সেখানে কোন বিবেদ থাকতে পারেনা। দলের মধ্যে বিবাদ সৃষ্টি করে কোন লাভ নেই। যে কোন সমস্যা আমাদেরকে সাংগঠনিকভাবে মোকাবেলা করতে হবে।

অনুষ্ঠানের প্রধান বক্তা ও জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এডভোকেট ফরিদুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে দায়িত্ব দিয়েছেন সেটা অক্ষরে অক্ষরে পালন করবো। এমন কোন কাজ করবো না যাতে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়। তিনি পৌর নির্বাচনে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে নৌকাকে বিজয়ী করতে নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র মুজিবুর রহমান বলেন, জেলার আটটি উপজেলা ও চারটি পৌরসভায় যেভাবে সম্মান পাওয়ার কথা আমরা সেভাবে পাইনি। এরপরও জননেত্রী হাসিনা যে ভালাবাসা দেখিয়েছেন সেটা ভ‚লার নয়। জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা হিসেবে আমরা কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের নির্দেশনা বাস্তবায়ন করে যাবো। গণভবনে বঙ্গবন্ধুর কন্যাকে বাচাঁনোর জন্য আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। আপনারা আসতে না বললেও জেলা আ.লীগের নেতা হিসেবে আমরা আসবো।

সভাপতির বক্তব্যে চকরিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি সাংসদ জাফর আলম বলেন, পৌরসভা নির্বাচনে এমপিকে বাদ দিয়ে নৌকা বিজয় করার চেষ্টা একধরণের ষড়যন্ত্র ছাড়া আর কিছু নয়। আমাকে অবহেলা করা হয়েছে। চকরিয়ার লোকজন যেখানে বড় নৌকা বিজয় করতে পারে সেখানে ছোট নৌকা বিজয় করা কোন ব্যাপার না। তিনি আরও বলেন, জেলা আওয়ামীলীগের যে কোন যৌক্তিক সিদ্বান্ত আমরা মেনে চলবো। কিন্তু চকরিয়া-পেকুয়ার ব্যাপারে কোন সিদ্বান্ত নিতে হলে অবশ্যই তা এমপিকে জানাতে হবে।

প্রসঙ্গত: পৌর নির্বাচনে নৌকার বিরোধীতার অভিযোগ এনে গত ৮ জুন চকরিয়া পৌরসভা আওয়ামীলীগের সভাপতি জাহেদুল ইসলাম লিটুকে অব্যহাতি দেন কক্সবাজার জেলা আওয়ামীলীগ। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে একইদিন রাতে পৌরসভার প্রধান গেট চিংড়ি চত্বরে নৌকার প্রার্থী বর্তমান মেয়র আলমগীর চৌধুরী, পৌর আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক আতিক উদ্দিন চৌধুরী ও দলীয় নেতাকর্মীদের উপর হামলা চালানো হয়। এ হামলায় ঘটনায় স্থানীয় সাংসদ জাফর আলম, পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি জাহেদুল ইসলাম লিটুকে দায়ী করেন হামলার শিকার নেতাকর্মীরা। এ ঘটনার পরদিন বিকালে জেলা আওয়ামীলীগ চকরিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি সাংসদ জাফর আলমকেও তার দলীয় পদ থেকে অব্যহতি দেন। বিষয়টিকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠে চকরিয়া উপজেলা ও পৌরসভা আওয়ামীলীগের রাজনীতির মাঠ। এক পর্যায়ে জাফর আলম এমপি ও জাহেদুল ইসলাম লিটু সমর্থকরা পৌর শহরের প্রধান সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ ও ভাঙচুর চালায়। বিষয়টি নিয়ে সাংসদ জাফর আলম ও জেলা আওয়ামীলীগের মধ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য উঠে আসে। চকরিয়ার এহেন রাজনৈতিক পরিস্থিতির বিষয়টি কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের নজরে আসলে গত ১৪ জুন ধানমন্ডি প্রধানমন্ত্রী রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক জরুরী বৈঠকে বসেন কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগ। এ বৈঠকে উভয় পক্ষকে সমঝোতা করে দেয় হয়। পরে ১৭ জুন কেন্দ্রীয় ও জেলা আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে চকরিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের উদ্যোগে এক কর্মী সভার সিদ্বান্ত নেওয়া হয়।

কেন্দ্রীয় নির্দেশনার আলোকে ১৭ জুন বিকাল তিনটায় এটিএন পার্কে চকরিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের উদ্যোগে ওই কর্মী সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় পৌরসভা আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।


আরো বিভন্ন বিভাগের নিউজ