• শুক্রবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২০, ০৩:১৮ পূর্বাহ্ন

নিরাপদে আছেন সেন্টমার্টিনে আটকেপড়া পর্যটকরা

সংবাদদাতা
আপডেট : শনিবার, ৯ নভেম্বর, ২০১৯

সায়ীদ আলমগীর,

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরে ৪ নম্বর সতর্কতা সংকেত জারি করা হয়েছে। সাগর উত্তাল রয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের পাশাপাশি পূর্ণিমা থিতির জোয়ারে স্বাভাবিকের চেয়ে সাগরের জোয়ারের পানি বেড়েছে ৭-৮ ফুট। ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে কক্সবাজারের সর্বত্র গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। ফলে হোটেলেই বন্দি সময় পার করছেন টানা তিনদিনের জন্য বেড়াতে আসা পর্যটকরা। ঘরবন্দি হয়ে আছেন নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ।

অপরদিকে বৈরী আবহাওয়ার কারণে জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায় সেন্টমার্টিনে গিয়ে আটকা পড়েছেন প্রায় ১২০০ পর্যটক। তবে তারা নিরাপদে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান নুর আহমদ।

তিনি জানান, ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে যে কোনো দুর্যোগকালীন মুহূর্তে স্থানীয়দের পাশাপাশি আটকেপড়া পর্যটকদের নিরাপদ রাখতে সাইক্লোন শেল্টার এবং বহুতল ভবনগুলো প্রস্তুত রাখা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় পর্যটকদের আহার ও আবাসন নির্বিঘ্ন করা হচ্ছে। বৈরী আবহাওয়া না কাটা পর্যন্ত তাদের দেখভাল করা হবে বলে জানান ইউপি চেয়ারম্যান।

তিনি বলেন, দ্বীপেও বৃষ্টির পাশাপাশি হালকা বাতাস রয়েছে। জোয়ারের পানি স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়েছে।

ঢাকা থেকে পরিবার-পরিজন মিলিয়ে ২৫ জনের দল নিয়ে তিনদিনের জন্য কক্সবাজারে ঘুরতে আসা সাজ্জাদুল হক বলেন, বেড়াতে এসে এখন হোটেল রুমে বন্দি হয়ে আছি। কক্সবাজারে সংকেত কম হলেও বৈরী আবহাওয়া এবং বৃষ্টির কারণে টিমের নারী ও শিশু-কিশোররা বের হতে ভয় পাচ্ছে। তাই কোথাও ঘুরা হচ্ছে না।

পর্যটকদের মাঝে তরুণরা বৃষ্টি উপেক্ষা করে বালিয়াড়িতে ঘুরলেও সিংহভাগ পর্যটক হোটেল কক্ষেই সময় কাটাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন হোয়াইট অর্কিডের মহা-ব্যবস্থাপক রিয়াদ ইফতেখার ও মোহাম্মদীয়া গেস্ট হাউসের ব্যবস্থাপক শফিকুল ইসলাম।

কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আবদুর রহমান জানান, দুপুর ১২টা নাগাদ ঘূর্ণিঝড় বুলবুল কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৪৮০ কিলোমিটার পশ্চিম-দক্ষিণ পশ্চিম দিকে অবস্থান করছে। এটি আরও ঘনীভূত হয়ে উত্তর-উত্তর পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে আজ সন্ধ্যা নাগাদ খুলনা উপকূল অতিক্রম করার সম্ভাবনা রয়েছে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৭৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের এক টানা গতিবেগ রয়েছে ১৩০ কিলোমিটার। যেটি দমকা বা ঝোড়ো হাওয়ায় ১৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। কক্সবাজার সমুদ্র বন্দরকে ৪ নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে বৃষ্টিপাত অব্যহত রয়েছে। ভারী বর্ষণের সম্ভাবনাও দেখা যাচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

four × three =

আরো বিভন্ন বিভাগের নিউজ