• বৃহস্পতিবার, ২৯ জুলাই ২০২১, ১১:৩১ পূর্বাহ্ন

সাম্রাজ্য ফেলে আত্মগোপনে ইয়াবা গডফাদার ফরিদ, সক্রিয় তার সিন্ডিকেট

সংবাদদাতা
আপডেট : রবিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৯

শাহীন মাহমুদ রাসেল

মাদকের আন্ডারওয়ার্ল্ডে ডন হিসেবে পরিচিত। কেউ কেউ বলেন গডফাদার। তার হাতেই রামু উপজেলার মাদক সাম্রাজ্যের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ। কিন্তু বর্তমানে সাম্রাজ্যে ছেড়ে আত্মগোপনে চলে গেছেন রামু উপজেলার শীর্ষ ইয়াবা গডফাদার সাবেক ইউপি সদস্য ফরিদ। তবে তার সেন্ডিকেট এখনো সক্রিয় বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ অক্টোবর বুধবার বিকালে র‍্যাবের হাতে ৩২০০ ইয়াবাসহ এবাদুল্লাহ আটক হয়। তাকে ব্যাপক জিঙ্গাসাবাদে বের হয়ে আসে গডফার ফরিদ মেম্বারের নাম। এর পর থেকে আত্মগোপনে চলে যান ফরিদ মেম্বার। আটকৃত ব্যাক্তি জারাইলতলী একালাকার আবুল হাসেমের ছেলে।

আটকৃত ব্যাক্তির স্বজনদের দাবি, ফরিদ মেম্বার এলাকার অনেক যুবকদের কৌশলে তার ইয়াবা বহনে ব্যবহার করেন। এরই ধারাবাহিকতায় এবাদুল্লাহকে ইয়াবা বহনের কাজে ব্যবহার করেন গডফাদার ফরিদ মেম্বার। তাই আটকৃত ব্যাক্তি স্বজনেরা এ গডফাদারের বিচার চান।

এদিকে গডফাদার মেম্বার ফরিদ, আত্মগোপনে থাকলেও তার সেন্ডিকেট এখনো বহালতবিয়ত রয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রামুর তেচ্ছিপুল গ্রামের ৫ মাদক ব্যবসায়ী বর্তমানে নিয়ন্ত্রণ করছে ফঁতেখারকুল ইউনিয়নসহ রামু উপজেলার মাদক ব্যবসা। এদের মধ্যে মৌলভী ছিদ্দিক আহাম্মদের ছেলে শীর্ষ মাদক সম্রাট আমিনুল ইসলাম, মৃত গোলাম কবিরের ছেলে মুফিজ, মোহাম্মদ হোসেনের ছেলে আব্দুল কাদের, মোজাফফর আহাম্মদের ছেলে নজিবুল আলম ও মৃত ইসলাম ড্রাইভারের ছেলে কাইছার, মুলত এই পাঁচ জনই সাবেক মেম্বার ফরিদের শীর্ষ। ফরিদ আত্মগোপনে গেলেও তার এই সিন্ডিকেট তেচ্ছিপুলসহ পুরো এলাকার মাদক সাম্রাজ্য নিয়ন্ত্রণ করে বলে স্থানীরা জানান। তবে ওই চিহ্নিত ৫ মাদক ব্যবসায়ী কৌশলে আড়ালে থাকা ফরিদের ইশারায় তার ইয়াবা সিন্ডিকেট টিকিয়ে রাখছে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।

ফরিদ মেম্বার নিজের অবস্থান ধরে রাখতে প্রশাসনের প্রতি এক প্রকার চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে এমন মন্তব্য সচেতন মহলের। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে অনেকটা চ্যালেঞ্জ করে এই অবৈধ কারবার অব্যাহত রেখেছেন সে। কিন্তু গ্রেফতার এড়াতে সে পালিয়ে বেড়াচ্ছে অনেকে এমন অভিযোগ করেছেন।

তথ্য সুত্রে জানা যায়, ফরিদ মেম্বার সামান্য ইউপি সদস্য হলেও বর্তমানে নামে-বেনামে বহু কোটি টাকার মালিক সে। পর্যায়ক্রমে অল্পসময়ে কোটিপতি হবার স্বপ্ন নিয়ে তার উল্লেখিত সদস্যদের নিয়ে জড়িয়ে পড়েন এ ঘৃণিত পেশায়। ফলে রাতারাতি হয়ে যায় অঢেল ধন, সম্পদের মালিক। বনে যায় আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ। অথচ তার সিন্ডিকেটের সদস্যরা গতকয়েক বছর আগেও ছিল দিনমজুরের হালতে।

ইয়াবা “ডন” ফরিদ পালিয়ে বেড়ালেও, সুযোগ বুঝে তার সিন্ডিকেটের নব্য কারবারীরা মাঠে সক্রিয় রয়েছে বলে জানা গেছে।

রামু থানার ওসি আবুল খায়ের বলেন, পালিয়ে বেশী দিন কেউ বাঁচতে পারবেনা।
যে যেখানে থাকুক গ্রেফতার হবেই। আর মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চলবেই। ওই মাদক ব্যবসায়ীর নাম ও ছবি বিভিন্ন জায়গায় পাঠানো হয়েছে। তবে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স অবস্থানে রয়েছে রামু থানা পুলিশ। তিনি আরও বলেন, মাদকের বিভিন্ন স্পটে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের তালিকা হালনাগাদ করা হচ্ছে। অচিরেই তাদের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালিত হবে।


আরো বিভন্ন বিভাগের নিউজ