• শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:৫৪ পূর্বাহ্ন

মা’হাদ আন-নিবরাস:একটি আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

বার্তা কক্ষ / ২৯৬ ভিউ টাইম
আপডেট : মঙ্গলবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২১

জানে হৃদয়,
কক্সবাজারে শিশুদের আন্তর্জাতিকমানের বিশেষায়িত ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘মা’হাদ আন-নিবরাস এর যাত্রা শুরু হয়েছে। ব্যতিক্রমধর্মী এ প্রতিষ্ঠানে অত্যন্ত যুগোপযোগী সিলেবাসও পাঠদানের মাধ্যমে শিশুদের

আল-কোরআন ও ইসলামের মৌলিক শিক্ষা প্রদান করা হচ্ছে।আমরা জানি,দেশপ্রেমিক আদর্শ নাগরিক তৈরির জন্য অন্যান্য শিক্ষার পাশাপাশি ধর্মীয় শিক্ষা বা নৈতিক শিক্ষাই আসল পাথেয়।চীনা একটি প্রবাদ আছে -“যদি আপনি শত বছরের পরিকল্পনা করেন তাহলে একটি গাছ লাগান। আর যদি হাজার বছরের পরিকল্পনা করেন তাহলে মানুষ তৈরি কর”। দার্শনিক পাংকেল মানুষকে চারিত্রিক শিক্ষার দিকে উৎসাহিত করেছেন। কারণ চারিত্রিক শক্তিই মানবসম্পদের মূল চালিকা শক্তি। আল-কোরআনের সূরা আহযাবে আল্লাহ বলেছেন ‘লাকাদ ক্বানা লাকুম ফি রাসূলিল্লাহি উসওয়াতুন হাসানা’ অর্থাৎ তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের জীবনই সর্বোত্তম আদর্শ। অর্থাৎ আল- কুরআন ও ইসলামের শিক্ষাই নৈতিক শিক্ষা। এর বিকল্প কোন কিছুই নাই। বর্তমান সামাজিক অবক্ষয়ের মূল কারণ হলো নৈতিক শিক্ষার অভাব। আজ তথ্য প্রযুক্তির উন্নয়ন হচ্ছে রকেটের গতিতে।আর মানবীয় চরিত্র আর ভালবাসার পতন ঘটছে উল্কার গতিতে। আজ আকাশছোঁয়া অট্টালিকা হচ্ছে কিন্তু কোন ঘরে মানসিক প্রশান্তি নেই।

সম্প্রতি এক জরীপে দেখা যায়, সারা বিশ্বের ৯০% অনারব মুসলিম কুরআন পড়তে জানে না। আমাদের দেশের শতকরা ৮-৯ জন মুসলমান কোরআন পড়তে জানে। আবার অধিকাংশের তেলাওয়াত সহীহ্ (শুদ্ধ) হয় না।সাধারণত আমাদের দেশের শিশু-কিশোরেরা সকালে মসজিদ-মক্তবে গিয়ে কোরআন পড়া শিখে। বর্তমানে বাংলাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়মের কারণে এ সুযোগ আর নেই। এখন শিশুরা সকালে থাকে স্কুলের পাঠে,বিকালে থাকে খেলার মাঠে।

তাই শিশুদেরকে আনন্দ ও বিনোদনের মাধ্যমে অর্থাৎ খেলাধুলা,সাংস্কৃতিক কার্যক্রম ও মাল্টিমিডিয়া
প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে প্রাণবন্ত উপায়ে কুরআন পড়া ও আরবী ভাষা শিখানো অতীব প্রয়োজন। কারণ একটি শিশুর শৈশব জীবনের শিক্ষা-দীক্ষা ও ধ্যান-ধারণা তার সারা জীবনের উপর প্রভাব ফেলে থাকে। তাই শিশু জীবনকে যুগোপযোগী তথ্য-প্রযুক্তির জ্ঞানে সমৃদ্ধ, বিজ্ঞানমনস্ক ও ইসলামের আলোকে বিকশিত করার লক্ষ্যে কক্সবাজারে মা’হাদ-আন-নিবরাসের কার্যক্রম শুরু হয়েছে । এ টি বিশ্ব বরেণ্য ইসলামী চিন্তক,কথা শিল্পের নিপুন সারথী ও,তীক্ষ্ণ মনীষা আল্লামা জিয়াউল হক (দা.বা.) এর উদ্যোগে পরিচালিত।

মনে রাখা প্রয়োজন,ইসলামের প্রথম শিক্ষাঙ্গন বা মাদ্রাসা হচ্ছে মক্কার নূর পর্বতের চূড়ায়।জাবালে নূর,জ্যোতির্ময় পর্বতের চূড়ায়,হেরা গুহায়।দ্বিতীয় শিক্ষাঙ্গন হচ্ছে হারাম শরীফের সীমানায় সাহাবী আরকাম ইবনুল আরাকামের বাড়ি। তৃতীয় শিক্ষাঙ্গন হচ্ছে মসজিদে নববী। এরপর ইসলাম প্রচারের সাথে সাথে বিভিন্ন জায়গায় মসজিদ,মাদ্রাসা,খানকা, বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে উঠে।

মুসলমানরা এভাবে সমাজে ইসলাম ও কুরআন শিক্ষার বিস্তার করে। সে এক ইতিহাস। উল্লেখ্য কক্সবাজারে কোরআন শিক্ষার বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান প্রচলিত আছে।তবে আমার জানামতে পূর্ণাঙ্গ একাডেমিক এ সুস্পষ্ট সিলেবাস ও সু-নির্ধারিত বিষয়ভিত্তিক শিশুদের কুরআন ও ইসলাম শিক্ষার আন্তর্জাতিক মানের একমাত্র প্রতিষ্ঠান হিসেবে ‘মা’হাদ আন-নিবরাস। আশা করা যায়,সমাজের, ইসলাম প্রেমিক ও মুসলমান জনগণের সন্তানদের মৌলিক ইসলামী শিক্ষার অভাব পূরণে ইহা ভূমিকা রাখবে।

এবার মা’হাদ আন-নিবরাসের একটি বিষ্ময়কর সফলতার কথা বলি -অল্প সময়ে প্রতিষ্ঠানটির একসাথে ৩৫জন ছাত্র হিফজ সমাপ্ত করেছে (হাফেজ কুরআন হয়েছে) এ উপলক্ষে ‘৪ডিসেম্বর’২১শনিবার, পরিচালনা পর্ষদ একটি সম্মাননা অনুষ্ঠানের প্রস্ততি নিচ্ছেন।এটি জেলার সর্ববৃহৎ হিফজুল কুরআন সম্মাননা অনুষ্ঠান বলে জানা গেছে ।

লেখক: জানে হৃদয়
কবি-সাংবাদিক, সৌদি প্রবাসী শিক্ষক


আরো বিভন্ন বিভাগের নিউজ