• শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ০৩:৫৩ অপরাহ্ন

বুক-মাথার ওপর বসে এএসপি আনিসুলের মৃত্যু নিশ্চিত করেন আসামিরা

ডেস্ক নিউজ / ১৫৩ ভিউ টাইম
আপডেট : রবিবার, ৩ এপ্রিল, ২০২২

সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) আনিসুল করিম শিপন মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন। যে কোনো আঘাতে তার মৃত্যু ঘটার আশঙ্কা ছিল। এ কথা জানার পরও চিকিৎসার নামে তাকে মাইন্ড এইড হাসপাতালের অ্যাগ্রেসিভ রুমে ঢুকিয়ে অপেশাদার লোক দিয়ে ম্যাট্রেসের ওপর ফেলে দুই হাত বেঁধে নয়জন আসামি মিলে বুক, ঘাড় ও মাথায় আঘাত করেন। তাদের নেতৃত্বে ছিলেন আরিফ মাহমুদ জয়। তারা সেদিন এএসপি আনিসুলের মাথার ওপর চেপে বসে তার মৃত্যু নিশ্চিত করেছিল।

সরকার অনুমোদিত কোনো হাসপাতালে ভর্তি না করিয়ে এএসপি আনিসুলকে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের রেজিস্ট্রার আবদুল্লাহ আল মামুন অর্থ উপার্জনের অসৎ উদ্দেশ্যে, ইচ্ছাকৃতভাবে মাইন্ড এইড হাসপাতালে পাঠান। দৈহিক জখম বা আঘাত বিপজ্জনক এবং মৃত্যু ঘটাতে পারে বা মৃত্যুর ঝুঁকি রয়েছে, তা জানতেন ডা. মামুন।

রাজধানীর আদাবরে মাইন্ড এইড হাসপাতালে এএসপি আনিসুলের হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ডা. মামুনসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে দেওয়া অভিযোগপত্রে (চার্জশিট) এসব কথা উল্লেখ করেছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদাবর থানা পরিদর্শক (অপারেশন) ফারুক মোল্লা। গত ৯ মার্চ তিনি এ অভিযোগপত্র দেন।

কোনোভাবে হত্যার দায় এড়াতে পারেন না ডা. মামুন
মামলার চার্জশিটে বলা হয়, আদাবরে মাইন্ড এইড হাসপাতালটি কেবল অবৈধভাবে অর্থ উপার্জনের জন্য প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। হাসপাতালটি প্রতিষ্ঠার জন্য মালিকপক্ষ স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বা সংশ্লিষ্ট কোনো সংস্থার অনুমতি নেয়নি। সেখানে অত্যাবশ্যকীয় কোনো জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জম এবং সার্বক্ষণিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকও নেই। মাইন্ড এইড হাসপাতালটির সার্বিক অবস্থা সম্পর্কে রেজিস্ট্রার ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুন আগে থেকেই জানতেন। এরপরও তিনি সেখানে নিয়মিত চেম্বার করতেন এবং সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের মাইন্ড এইড হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দিতেন।

চার্জশিটে বলা হয়, দৈহিক জখম বা আঘাত মৃত্যু ঘটাতে পারে বা মৃত্যুর ঝুঁকি রয়েছে মর্মে চিকিৎসক হিসেবে ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুন জানতেন। সুতরাং এ হত্যার দায় তিনি কোনোভাবে এড়াতে পারেন না।

মধ্যযুগীয় কায়দায় আঘাত করা হয় এএসপি আনিসুলকে
মামলার চার্জশিটে তদন্ত কর্মকর্তা ফারুক মোল্লা আরও উল্লেখ করেন, আসামি আরিফ মাহমুদ জয় ও তানিফ মোল্লা আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুনের সম্পৃক্ততার তথ্য প্রকাশ করেছেন। ডা. মামুনের ইচ্ছেতেই ভুক্তভোগীকে মাইন্ড এইড হাসপাতালে পাঠানো, রোগী পাঠানোর বিষয়ে মোবাইল ফোনে কথোপকথনের সিডিআর, ভিকটিমকে চিকিৎসা দেওয়ার নামে মধ্যযুগীয় কায়দায় আঘাত করা ও মরদেহ অ্যাম্বুলেন্সে নিয়ে হৃদরোগ হাসপাতালে বা অন্যত্র ভর্তি দেখিয়ে স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে মর্মে প্রচেষ্টা চালানো, এসব কার্যক্রম মামলার ঘটনায় সমর্থনযোগ্য সাক্ষ্য হিসেবে বিবেচ্য। তাই ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুন পেনাল কোড ৩০২/১০৯ ধারা মোতাবেক শাস্তিযোগ্য অপরাধ সংঘটন করেছেন মর্মে প্রাথমিকভাবে তদন্তে প্রমাণিত হয়।


আরো বিভন্ন বিভাগের নিউজ