কক্সবাজারের অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্যিক কেন্দ্র ঈদগাঁও বাজারের ইজারা প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। এক সময় যেখানে বাজারটি প্রায় ৭ কোটি টাকারও বেশি মূল্যে ইজারা হয়েছিল, সেখানে বর্তমানে সরকারি মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনার পরও কোনো দরদাতা পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে বাজারটি খাস কালেকশনের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে এবং এ নিয়ে স্থানীয় মহলে নানা আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসনের প্রকাশিত সাম্প্রতিক বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ঈদগাঁও বাজারের ইজারা প্রদানের লক্ষ্যে একাধিকবার দরপত্র আহ্বান করা হলেও কাঙ্ক্ষিত সাড়া পাওয়া যায়নি। সর্বশেষ চতুর্থবারের মতো দরপত্র আহ্বানের পরও কোনো বৈধ দরপত্র জমা না পড়ায় পঞ্চমবারের মতো নতুন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে হয়েছে।
বাজার সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত মেয়াদে খরুলিয়ার আব্দুর রহিম ভ্যাটসহ প্রায় ৭ কোটি টাকার বেশি মূল্যে বাজারটি ইজারা নিয়েছিলেন। অথচ এবার বাজারের সরকারি মূল্য প্রায় ৩ কোটি ২৭ লাখ ৭০ হাজার ৫৬৭ টাকা নির্ধারণ করা হলেও কেউ ইজারা নিতে এগিয়ে আসছেন না। বিষয়টি স্থানীয়দের মধ্যে বিস্ময়ের জন্ম দিয়েছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সচেতন মহলের অভিযোগ, বাজার ইজারা প্রক্রিয়ার পেছনে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। তাদের দাবি, রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলেও বাজারকেন্দ্রিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট কিছু গোষ্ঠীর প্রভাব কমেনি। বরং বিভিন্ন মহলের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা একটি প্রভাবশালী চক্র বাজার নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
একাধিক সূত্রের ভাষ্য, অনেক আগ্রহী ব্যক্তি দরপত্র সংগ্রহ করলেও শেষ পর্যন্ত জমা দিতে পারেন না। অভিযোগ রয়েছে, ভয়ভীতি, চাপ প্রয়োগ কিংবা বিভিন্ন কৌশলে সম্ভাব্য দরদাতাদের নিরুৎসাহিত করা হয়। যদিও এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে ইজারা না হওয়ায় ঈদুল আজহা উপলক্ষে বসা গরুর হাটসহ বিভিন্ন পশুর হাট উপজেলা প্রশাসনের অধীনে খাস কালেকশনের মাধ্যমে পরিচালিত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, ঈদগাঁও গরুর হাটসহ উপজেলার বিভিন্ন পশুর হাটে কয়েক হাজার পশু কেনাবেচা হয়েছে। তবে এসব হাট থেকে সরকারের রাজস্ব আদায়ের সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, দীর্ঘদিন ধরে ইজারা প্রক্রিয়া ঝুলে থাকায় বাজার ব্যবস্থাপনায় অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে। পাশাপাশি সরকারের সম্ভাব্য রাজস্ব আদায় নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
সচেতন মহলের দাবি, ঈদগাঁও বাজারের ইজারা প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক করতে প্রশাসনের আরও কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন। একইসঙ্গে দরপত্র প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের প্রভাব বা অনিয়মের অভিযোগ থাকলে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
তবে ইজারা প্রক্রিয়া বারবার ব্যর্থ হওয়ার কারণ এবং সিন্ডিকেটের অভিযোগ সম্পর্কে উপজেলা প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।