• শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ১২:২০ পূর্বাহ্ন

ঈদগাঁও বাজারে ইজারা হস্তান্তর আটকে

‘খাস কালেকশন’ ঘিরে কোটি টাকার রাজস্ব অনিয়মের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক / ২৮ ভিউ টাইম
আপডেট : শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬

কক্সবাজারের গুরুত্বপূর্ণ ঈদগাঁও বাজারের ইজারা কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার পরও দায়িত্ব হস্তান্তর না করায় জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় রাজনৈতিক সিন্ডিকেট ও প্রশাসনের অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশে ‘খাস কালেকশন’ পদ্ধতি চালু রেখে রাষ্ট্রীয় রাজস্ব লুটপাটের মহোৎসব চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

​উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ঈদগাঁও বাজারের সরকারি নির্ধারিত মূল্য ছিল ৩ কোটি ২৭ লাখ ৭৩ হাজার ৫৬৭ টাকা। দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও টানা চার দফা ব্যর্থ দরপত্রের জটিলতা কাটিয়ে পঞ্চম দফার দরপত্রে অংশ নেন পশ্চিম পোকখালীর আনোয়ার হোসেন। তিনি ৩ কোটি ২৭ লাখ ৭৪ হাজার টাকা দর দিয়ে বাজারটির ইজারা লাভ করেন। ভ্যাটসহ (২৫ শতাংশ) সরকারের মোট প্রাপ্য অর্থ দাঁড়ায় প্রায় ৪ কোটি ৯ লাখ ৬৭ হাজার ৫০০ টাকা।

​অথচ নিয়ম অনুযায়ী ইজারাদার নিয়োগ হওয়ার পরও রহস্যজনক কারণে দায়িত্ব হস্তান্তর না করে খাস কালেকশন পদ্ধতি টিকিয়ে রাখা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় রাজনৈতিক দলের একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের অশুভ চাপ এবং প্রশাসনের অসাধু কর্মকর্তাদের স্বার্থসিদ্ধির কারণেই এই দীর্ঘসূত্রতা তৈরি করা হয়েছে।

​ইজারাদার ইতোমধ্যে সরকারি হিসাবে ৯৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা জমা দিয়েছেন। সর্বশেষ গত ১৭ জুন তিনি বকেয়া পরিশোধের অংশ হিসেবে আরও ৫০ লাখ টাকার পে-অর্ডার নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মংচিংনু মারমার সঙ্গে দেখা করেন। ইজারাদারের দাবি, গত দুই মাস ৫ দিনে খাস কালেকশনে আদায়কৃত টাকা ও ভ্যাট বাবদ প্রায় ৩১ লাখ টাকা ইজারার মূল থেকে সমন্বয় করার কথা ছিল। কিন্তু ইউএনও সেই পে-অর্ডার গ্রহণ না করে বরং পুরো ইজারা মূল্য এককালীন জমা দেওয়ার অহেতুক শর্ত জুড়ে দিয়েছেন, যা অতীতে নজিরবিহীন।

​স্থানীয়দের অভিযোগ, এই টালবাহানার নেপথ্যে রয়েছে খাস কালেকশন থেকে প্রতিদিন আদায়কৃত বিপুল অর্থের ভাগ-বাঁটোয়ারা। অভিযোগ রয়েছে, এই টাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিস এবং ঈদগাঁও ইউনিয়ন ভূমি অফিসের অসাধু কর্মকর্তাদের পকেটে যাচ্ছে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, ইজারা সন থেকে পার হওয়া দুই মাস ৫ দিন সময়ে কোরবানিকে কেন্দ্র করে বাজারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক মৌসুম ছিল, তখন গরু-ছাগল বেচাকেনা থেকে কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের সম্ভাবনা ছিল। অথচ সিন্ডিকেট অত্যন্ত চতুরতার সাথে এই সময়ের আয় অত্যন্ত কম দেখিয়ে সরকারি রাজস্বের একটি বড় অংশ লুটপাট করেছে। সিন্ডিকেটের চাপে প্রশাসন জিম্মি হয়ে পড়েছে, আর খাস কালেকশনের নামে সরকার কোটি টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

​সচেতন মহলের প্রশ্ন, ইজারাদার টাকা জমা দিতে প্রস্তুত থাকা সত্ত্বেও কেন ইউএনও অফিস ইজারা হস্তান্তর করছে না? ইউএনও কি আসলেই সরকারি রাজস্ব বাড়াতে চাইছেন, নাকি খাস কালেকশনের সুবিধাভোগী সিন্ডিকেটের ঢাল হিসেবে কাজ করছেন? ইজারাদারকে দায়িত্ব বুঝিয়ে না দিয়ে খাস কালেকশনের নামে যে ‘রাজস্ব চুরি’ চলছে, তা এখন ওপেন সিক্রেট।

​অবিলম্বে এই অশুভ সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে ইউএনও অফিসের কর্মকর্তাদের গাফিলতির তদন্ত করে ইজারাদারের কাছে বাজারের দায়িত্ব ও কাগজপত্র বুঝিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বড় ধরনের আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তারা।


আরো বিভন্ন বিভাগের নিউজ